০৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

টার্কিশ ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে কিডনি চিকিৎসার নামে হাতিয়ে নিতো বিপুল অর্থ

  • আপডেট: ০১:০৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • / ১৮০২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

তুরস্কে কিডনি প্রতিস্থাপনের নামে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৪।

র‍্যাব জানায়, তুরস্কের একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নকল করে ‘টার্কিশ ডগ বিডি’ নামে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল। তারা কিডনি প্রতিস্থাপনসহ বিভিন্ন চিকিৎসার কথা বলে রোগীদের তুরস্কে পাঠিয়ে সেখানে জিম্মি করে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করতো।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- দিনাজপুরের নুরুজ্জামান রাজু (৩৬), বরগুনার মাসুম বিল্লাহ (৪৩), দিনাজপুরের মোহাম্মদ তরিকুল (৩০), দিনাজপুরের সালমান ফারসি (৩৫) এবং টাঙ্গাইলের ওয়ালিদ মিয়া (২৬)। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে মিরপুরে র‍্যাব-৪ এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এন রায় নিয়তি।

তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে নিরব নজরুল লিখন নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তার মায়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য এই চক্রের মাধ্যমে তুরস্কে গিয়ে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি রাজধানীর শ্যামপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র‍্যাব-৪ অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ভুক্তভোগীর মা কিডনি রোগে আক্রান্ত। কিডনি প্রতিস্থাপনের চিকিৎসার জন্য দেলোয়ার নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে এই চক্রের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তারা নিজেদের তুরস্কের একটি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশি এজেন্ট পরিচয় দিয়ে ওকান হাসপাতালে ২৩ হাজার ডলারের বিনিময়ে কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেয়।

তাদের কথায় বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী প্রথমে দেশে পাঁচ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন কাগজপত্র সত্যায়নের জন্য আরও দুই লাখ টাকা দেন। পরে গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি মাকে নিয়ে তুরস্কে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর এক তুর্কি নাগরিক নিজেকে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে তাদের রিসিভ করে হাসপাতালে ভর্তি করান।

ভর্তি হওয়ার পর নানা অজুহাতে নির্ধারিত ২৩ হাজার ডলার ছাড়াও আরও প্রায় ১৫ হাজার ডলার আদায় করা হয়। পরে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে তাদের দেশে ফিরে যেতে বলা হয়। অন্যথায় পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাৎক্ষণিক ডায়ালাইসিসের জন্য অতিরিক্ত পাঁচ হাজার ডলার এবং বিভিন্ন কাগজপত্র অনুবাদের জন্য আরও ছয় হাজার ডলার নেওয়া হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এন রায় নিয়তি আরও বলেন, চক্রটি তুরস্কের একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নকল করে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করত। এরপর রোগীদের বিদেশে পাঠিয়ে সেখানে জিম্মি করে অর্থ আদায় করত। এভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী তুরস্কে কারাবাসও করেছেন বলে তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি।

র‍্যাব জানায়, এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার আরও কয়েকটি অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

টার্কিশ ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে কিডনি চিকিৎসার নামে হাতিয়ে নিতো বিপুল অর্থ

আপডেট: ০১:০৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

তুরস্কে কিডনি প্রতিস্থাপনের নামে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৪।

র‍্যাব জানায়, তুরস্কের একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নকল করে ‘টার্কিশ ডগ বিডি’ নামে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল। তারা কিডনি প্রতিস্থাপনসহ বিভিন্ন চিকিৎসার কথা বলে রোগীদের তুরস্কে পাঠিয়ে সেখানে জিম্মি করে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করতো।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- দিনাজপুরের নুরুজ্জামান রাজু (৩৬), বরগুনার মাসুম বিল্লাহ (৪৩), দিনাজপুরের মোহাম্মদ তরিকুল (৩০), দিনাজপুরের সালমান ফারসি (৩৫) এবং টাঙ্গাইলের ওয়ালিদ মিয়া (২৬)। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে মিরপুরে র‍্যাব-৪ এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এন রায় নিয়তি।

তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে নিরব নজরুল লিখন নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তার মায়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য এই চক্রের মাধ্যমে তুরস্কে গিয়ে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি রাজধানীর শ্যামপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র‍্যাব-৪ অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ভুক্তভোগীর মা কিডনি রোগে আক্রান্ত। কিডনি প্রতিস্থাপনের চিকিৎসার জন্য দেলোয়ার নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে এই চক্রের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তারা নিজেদের তুরস্কের একটি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশি এজেন্ট পরিচয় দিয়ে ওকান হাসপাতালে ২৩ হাজার ডলারের বিনিময়ে কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেয়।

তাদের কথায় বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী প্রথমে দেশে পাঁচ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন কাগজপত্র সত্যায়নের জন্য আরও দুই লাখ টাকা দেন। পরে গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি মাকে নিয়ে তুরস্কে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর এক তুর্কি নাগরিক নিজেকে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে তাদের রিসিভ করে হাসপাতালে ভর্তি করান।

ভর্তি হওয়ার পর নানা অজুহাতে নির্ধারিত ২৩ হাজার ডলার ছাড়াও আরও প্রায় ১৫ হাজার ডলার আদায় করা হয়। পরে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে তাদের দেশে ফিরে যেতে বলা হয়। অন্যথায় পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাৎক্ষণিক ডায়ালাইসিসের জন্য অতিরিক্ত পাঁচ হাজার ডলার এবং বিভিন্ন কাগজপত্র অনুবাদের জন্য আরও ছয় হাজার ডলার নেওয়া হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এন রায় নিয়তি আরও বলেন, চক্রটি তুরস্কের একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নকল করে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করত। এরপর রোগীদের বিদেশে পাঠিয়ে সেখানে জিম্মি করে অর্থ আদায় করত। এভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী তুরস্কে কারাবাসও করেছেন বলে তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি।

র‍্যাব জানায়, এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার আরও কয়েকটি অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।