১২:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

মানিকগঞ্জে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ: গণপিটুনিতে নিহত ২

  • আপডেট: ১০:০০:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৮০০৫

জেলা প্রতিনিধি :খন্দকার জহিরুল ইসলাম

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৭ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় গণপিটুনিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন।

আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল)  সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে সদর থানা পুলিশ।

নিহত আতিকা জেলার সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বনপারিল গ্রামের দুদুল মিয়ার কন্যা। অপরদিকে গণপিটুনিতে নিহত অটোরিকশাচালক পান্নু মিয়া (৪৫) ও তার ভাই ফজলু (২৮)।

জানা যায়, সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বনপারিল গ্রামের দুদুল মিয়ার প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী আতিকা (৭) গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে প্রতিবেশী বাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে যায় এবং সেখানে খেলাধুলা করছিল। ওই অনুষ্ঠানস্থলে আতিকাকে না দেখে বাবা-মাসহ নিকটাত্মীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরে আতিকার চাচাতো ভাই আলী (৬) জানায় তাকে প্রতিবেশী নাঈমের সঙ্গে দেখা গেছে। পরে নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পার্শ্ববর্তী ভুট্টাক্ষেতের ভেতরে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে আতিকার লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর লোকচক্ষুর আড়ালে নাঈম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে উত্তেজিত জনতা নাঈমের বাড়িতে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয়রা বাবা-ছেলেসহ তিনজনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে অটোচালক পান্নু মিয়া (৪৫) ও তার ভাই ফজলু (২৮) নিহত হন এবং পান্নু মিয়ার ছেলে নাজমুল (২০) গুরুতর আহত হন। আহত নাজমুলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

গণপিটুনিতে দুইজন নিহত হওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। লাশগুলো উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং গণপিটুনির ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন বলেন, শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে গণপিটুনির ঘটনায়ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

মানিকগঞ্জে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ: গণপিটুনিতে নিহত ২

আপডেট: ১০:০০:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

জেলা প্রতিনিধি :খন্দকার জহিরুল ইসলাম

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৭ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় গণপিটুনিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন।

আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল)  সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে সদর থানা পুলিশ।

নিহত আতিকা জেলার সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বনপারিল গ্রামের দুদুল মিয়ার কন্যা। অপরদিকে গণপিটুনিতে নিহত অটোরিকশাচালক পান্নু মিয়া (৪৫) ও তার ভাই ফজলু (২৮)।

জানা যায়, সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বনপারিল গ্রামের দুদুল মিয়ার প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী আতিকা (৭) গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে প্রতিবেশী বাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে যায় এবং সেখানে খেলাধুলা করছিল। ওই অনুষ্ঠানস্থলে আতিকাকে না দেখে বাবা-মাসহ নিকটাত্মীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরে আতিকার চাচাতো ভাই আলী (৬) জানায় তাকে প্রতিবেশী নাঈমের সঙ্গে দেখা গেছে। পরে নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পার্শ্ববর্তী ভুট্টাক্ষেতের ভেতরে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে আতিকার লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর লোকচক্ষুর আড়ালে নাঈম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে উত্তেজিত জনতা নাঈমের বাড়িতে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয়রা বাবা-ছেলেসহ তিনজনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে অটোচালক পান্নু মিয়া (৪৫) ও তার ভাই ফজলু (২৮) নিহত হন এবং পান্নু মিয়ার ছেলে নাজমুল (২০) গুরুতর আহত হন। আহত নাজমুলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

গণপিটুনিতে দুইজন নিহত হওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। লাশগুলো উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং গণপিটুনির ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন বলেন, শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে গণপিটুনির ঘটনায়ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।