জঙ্গল সলিমপুরে ‘রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র’ হতে দেওয়া হবে না: এসপি মাসুদ
- আপডেট: ০৪:৩১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
- / ১৮০০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেছেন, “জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা আমাদের মূল উদ্দেশ্য। এখানে রাষ্ট্রের ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্র হতে দেওয়া হবে না। এ জন্য যা যা করণীয়, আমরা তা করব।”
সোমবার (২৫ মে) সকালে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এসপি মাসুদ আলম বলেন, “শুধু ইয়াসিন নয়, ইয়াসিন কিংবা যারাই এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে, তাদের সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।”
এর আগে রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরে স্থাপিত যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। র্যাব জানায়, সন্ত্রাসী ইয়াসিন গ্রুপ ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করলে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে র্যাব-৭ এর কমান্ডিং কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে যৌথ বাহিনী নন-লেথাল অস্ত্র ব্যবহার করে অভিযান চালায়। পরে পুরো এলাকায় তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান জোরদার করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত বা কাউকে আটকের তথ্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিন ধরেই চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সরকারি খাসজমিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ বসতি, দোকানপাট ও মার্কেট। ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩ হাজার ১০০ একরজুড়ে বিস্তৃত এ এলাকায় চার দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আধিপত্য রয়েছে।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়ানো এসব দখল ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে সম্প্রতি সেখানে যৌথ বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সরকার এলাকাটিতে পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমি, কারাগারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী নিরাপত্তা ক্যাম্প।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি একই এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন নিহত হন। ওই ঘটনায় আরও তিন র্যাব সদস্য ও একজন সোর্স আহত হন। পরে মামলা হলেও এখনো মূল আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।



















