০১:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গৃহবধূ ও সন্তানদের নির্যাতন, ঘরবাড়ি দখলের চেষ্টা

  • আপডেট: ১০:২৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • / ১৮০০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় স্বামীর মৃত্যুর পর দেবরের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক গৃহবধূ ও তার সন্তানদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং বসতঘর দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতন ও হুমকির মুখে বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে বাড়িছাড়া রয়েছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে নোয়াখালী জেলা শহরে একটি দৈনিক পত্রিকার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী হালিমা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর বড় মেয়ে প্রমি আক্তার মিমু, ছোট মেয়ে তাসফিয়া আক্তার, ভাই হেদায়েত উল্যাহ, মেয়ের জামাই আলা উদ্দিন’সহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০০২ সালে সুবর্ণচর উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের পূর্ব চরজব্বর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কাদেরের ছেলে মো. আবদুল্লাহর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে চিকিৎসার দায়িত্ব না নেওয়ায় তিনি নিজে গার্মেন্টসে চাকরি করে ও বাবার বাড়ির সহযোগিতায় সংসার চালানোর পাশাপাশি স্বামীর চিকিৎসা করান।

তিনি আরও বলেন, প্রায় দুই বছর আগে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। এরপর থেকে দেবর আবদুল মতিন বিভিন্নভাবে তাকে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন এবং রাত-বিরাতে উত্ত্যক্ত করেন। বিষয়টি পরিবারকে জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেমের কাছে অভিযোগ জানালে তিনিও অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে তাকে কুপ্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এ ঘটনার জেরে দেবর আবদুল মতিন, আবদুল মজিদ, আবদুল হাকিমসহ শ্বশুর আবদুল কাদের ও পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে ও তার সন্তানদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এতে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র বাসা ভাড়া করে বসবাস শুরু করেন।

গৃহবধূর বড় মেয়ে প্রমি আক্তার মিমু বলেন, গত ৮ জুন সকালে তারা জানতে পারেন, তাদের বসতঘরের বৈদ্যুতিক মিটার খুলে ফেলা হয়েছে এবং ঘরের আসবাবপত্র লুট করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি চরজব্বর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ পরদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা জানালে তিনি ছোট বোনকে নিয়ে সেখানে গেলে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে এবং ঘর ভাঙচুর করে।

তিনি আরও বলেন, এ সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে ১১ জুন থানায় উপস্থিত হয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসার নির্দেশ দেয়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তারা নির্ধারিত সময়ে থানায় উপস্থিত হলেও প্রতিপক্ষ সেখানে যায়নি। বরং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে জমি জবরদখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পুলিশ এখনো কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে তাদের মালিকানাধীন সম্পত্তি উদ্ধার, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করেছে।

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গৃহবধূ ও সন্তানদের নির্যাতন, ঘরবাড়ি দখলের চেষ্টা

আপডেট: ১০:২৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় স্বামীর মৃত্যুর পর দেবরের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক গৃহবধূ ও তার সন্তানদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং বসতঘর দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতন ও হুমকির মুখে বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে বাড়িছাড়া রয়েছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে নোয়াখালী জেলা শহরে একটি দৈনিক পত্রিকার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী হালিমা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর বড় মেয়ে প্রমি আক্তার মিমু, ছোট মেয়ে তাসফিয়া আক্তার, ভাই হেদায়েত উল্যাহ, মেয়ের জামাই আলা উদ্দিন’সহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০০২ সালে সুবর্ণচর উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের পূর্ব চরজব্বর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কাদেরের ছেলে মো. আবদুল্লাহর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে চিকিৎসার দায়িত্ব না নেওয়ায় তিনি নিজে গার্মেন্টসে চাকরি করে ও বাবার বাড়ির সহযোগিতায় সংসার চালানোর পাশাপাশি স্বামীর চিকিৎসা করান।

তিনি আরও বলেন, প্রায় দুই বছর আগে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। এরপর থেকে দেবর আবদুল মতিন বিভিন্নভাবে তাকে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন এবং রাত-বিরাতে উত্ত্যক্ত করেন। বিষয়টি পরিবারকে জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেমের কাছে অভিযোগ জানালে তিনিও অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে তাকে কুপ্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এ ঘটনার জেরে দেবর আবদুল মতিন, আবদুল মজিদ, আবদুল হাকিমসহ শ্বশুর আবদুল কাদের ও পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে ও তার সন্তানদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এতে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র বাসা ভাড়া করে বসবাস শুরু করেন।

গৃহবধূর বড় মেয়ে প্রমি আক্তার মিমু বলেন, গত ৮ জুন সকালে তারা জানতে পারেন, তাদের বসতঘরের বৈদ্যুতিক মিটার খুলে ফেলা হয়েছে এবং ঘরের আসবাবপত্র লুট করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি চরজব্বর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ পরদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা জানালে তিনি ছোট বোনকে নিয়ে সেখানে গেলে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে এবং ঘর ভাঙচুর করে।

তিনি আরও বলেন, এ সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে ১১ জুন থানায় উপস্থিত হয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসার নির্দেশ দেয়।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তারা নির্ধারিত সময়ে থানায় উপস্থিত হলেও প্রতিপক্ষ সেখানে যায়নি। বরং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে জমি জবরদখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পুলিশ এখনো কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে তাদের মালিকানাধীন সম্পত্তি উদ্ধার, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করেছে।

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।