০৬:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

আবহাওয়া অধিদপ্তরে পরিচালক মমিনুল সিন্ডিকেটের অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসবের সাত কাহন

  • আপডেট: ০৪:২৫:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / ১৮০১৩

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বর্তমানে এক শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ পরিচালক মমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম দুর্নীতির মহোৎসবের অভিযোগ উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের কবলে দিশেহারা বাংলাদেশ সরকার । এই সিন্ডিকেটের কাজ হল কাজ না করে বিল ভাউচার তৈরি করে অর্থ ভাগাভাগির রাম রাজত্ব গড়ে তুলেছে আবহাওয়া অফিস। সিন্ডিকেটের মূল লক্ষ্য কেনাকাটার নামে সরকারি অর্থ লোপাট করা। এই সিন্ডিকেটের মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত বর্তমান পরিচালক মোঃ মমিনুল ইসলাম। তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ছত্রছায়ায় অধিদপ্তরের আরও তিন প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোঃ রাশেদুজ্জামান, আবহাওয়াবিদ রুবাইয়াত কবির এবং যান্ত্রিক প্রকৌশলী আবু সাজ্জাদ চৌধুরী গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির এক অভেদ্য দুর্গ। ২৪০ কোটি টাকার প্রকল্প লুটপাট শেষ করে ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প লুটপাটের সমস্ত আয়োজনই ডেকে রেখেছেন এই চক্রটি।

উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোঃ রাশেদুজ্জামান

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে দীর্ঘ যুগ ধরে। দুর্নীতির প্রথম ধাপ শুরু হয় বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে। উপপরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান, যিনি ক্লাইমেট ও বাজেট শাখার দায়িত্বে আছেন, তার প্রধান কাজ হলো নির্দিষ্ট কিছু খাতে অস্বাভাবিকভাবে বেশি বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা। বাজেট বরাদ্দ হয়ে গেলে মাঠে নামেন যান্ত্রিক প্রকৌশলী আবু সাজ্জাদ চৌধুরী। তিনি বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা বা এপিপিতে এমনভাবে কেনাকাটার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেন যাতে সিন্ডিকেটের সুবিধা হয়। তিনি পরিচালক মমিনুল ইসলামের যোগসাজশে নিজেদের পছন্দের কর্মকর্তাদের দিয়ে স্পেসিফিকেশন কমিটি গঠন করেন। এই কমিটি মূলত সিন্ডিকেটের ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ‘মাজ্জাক ইন্টারটেড’ ও ‘বিডিটি’র সরবরাহকৃত স্পেসিফিকেশনকেই সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত করে টেন্ডার আহ্বান করেন। সিন্ডিকেটের শেষ ধাপটি সম্পন্ন করেন আবহাওয়াবিদ রুবাইয়াত কবির। তিনি অধিদপ্তরের সকল টেন্ডার ইভ্যুলেশন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার কাজ হলো টেন্ডারে এমন কিছু বিশেষ শর্ত জুড়ে দেওয়া, যাতে কেবল তাদের নির্ধারিত কোম্পানিগুলোই কাজ পায়। এভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করে কাজ পাইয়ে দেওয়া নিশ্চিত করা হয়। সুত্র জানায়, এই চক্রটি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল থেকেই কমিশন বাণিজ্যে লিপ্ত। ইতিপূর্বে তারা রেডিও সন্ডী, পাইলট সন্ডী এবং হাইড্রোজেন গ্যাস জেনারেটরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম অত্যন্ত উচ্চমূল্যে ক্রয় করে মতিউরের ছাগল কান্ড রূপপুরের বালিশ কান্ড হার মানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব যন্ত্রপাতি ছিল অত্যন্ত মানহীন এবং বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আবহাওয়ার বিভিন্ন অফিসে পড়ে আছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, পরিচালক মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এই কর্মকর্তারা যন্ত্রপাতিগুলো সঠিকভাবে বুঝে না নিয়েই কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশ করে দ্রুত বিল তুলে নিয়েছে। বর্তমানেও ১১৯৯৬১৬, ১১৬৪৬৫৬ এবং ১১৯৮৬৮১ আইডি-র চলমান টেন্ডারগুলোর মাধ্যমে একই কায়দায় অর্থ লোপাটের মহোৎসবের রাম রাজত্ব চলছে চলছে।

 আবহাওয়াবিদ রুবাইয়াত কবির

অকেজো ও নিম্নমানের যন্ত্রপাতির বিল কোনো প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই ছাড়াই পরিশোধ করার মূল কারণ ছিল অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী মহা দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সাথে তাদের গোপন আঁতাত। মূলত, ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে এবং কোম্পানিগুলোর সাথে যোগসাজশে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই এসবের বিল হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সিন্ডিকেটটির বর্তমান নজর ৩টি রাডার কেনার একটি বিশাল প্রকল্পের দিকে ধাপিত হচ্ছে । এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য মোঃ রাশেদুজ্জামান। এই প্রকল্পের বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু মমিনুল ইসলামের এই সিন্ডিকেট প্রকল্প থেকে ৭০ভাগ টাকা লুটপাটের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেন বলে সূত্রে প্রকাশ হয়েছে। এই লক্ষ্যে প্রকল্পের ধ্যঝকাজও তাদের বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান ‘মাজ্জাক ট্রেড’-কে পাইয়ে দেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো দুর্নীতিবাজ এই পরিচালক মমিনুল ইসলামের নামে বিভাগীয় মামলা হওয়া স্বত্বেও ৭ম গ্রেড থেকে একলাফে ৩য় গ্রেডে উন্নীত হয়ে চাকুরীরত অবস্থায় মহাদেদারসে দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, পরিচালক মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এই কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেটটি অধিদপ্তরকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করা এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ মহল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

আবহাওয়া অধিদপ্তরে পরিচালক মমিনুল সিন্ডিকেটের অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসবের সাত কাহন

আপডেট: ০৪:২৫:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বর্তমানে এক শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ পরিচালক মমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম দুর্নীতির মহোৎসবের অভিযোগ উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের কবলে দিশেহারা বাংলাদেশ সরকার । এই সিন্ডিকেটের কাজ হল কাজ না করে বিল ভাউচার তৈরি করে অর্থ ভাগাভাগির রাম রাজত্ব গড়ে তুলেছে আবহাওয়া অফিস। সিন্ডিকেটের মূল লক্ষ্য কেনাকাটার নামে সরকারি অর্থ লোপাট করা। এই সিন্ডিকেটের মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত বর্তমান পরিচালক মোঃ মমিনুল ইসলাম। তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ছত্রছায়ায় অধিদপ্তরের আরও তিন প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোঃ রাশেদুজ্জামান, আবহাওয়াবিদ রুবাইয়াত কবির এবং যান্ত্রিক প্রকৌশলী আবু সাজ্জাদ চৌধুরী গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির এক অভেদ্য দুর্গ। ২৪০ কোটি টাকার প্রকল্প লুটপাট শেষ করে ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প লুটপাটের সমস্ত আয়োজনই ডেকে রেখেছেন এই চক্রটি।

উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোঃ রাশেদুজ্জামান

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে দীর্ঘ যুগ ধরে। দুর্নীতির প্রথম ধাপ শুরু হয় বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে। উপপরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান, যিনি ক্লাইমেট ও বাজেট শাখার দায়িত্বে আছেন, তার প্রধান কাজ হলো নির্দিষ্ট কিছু খাতে অস্বাভাবিকভাবে বেশি বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা। বাজেট বরাদ্দ হয়ে গেলে মাঠে নামেন যান্ত্রিক প্রকৌশলী আবু সাজ্জাদ চৌধুরী। তিনি বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা বা এপিপিতে এমনভাবে কেনাকাটার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেন যাতে সিন্ডিকেটের সুবিধা হয়। তিনি পরিচালক মমিনুল ইসলামের যোগসাজশে নিজেদের পছন্দের কর্মকর্তাদের দিয়ে স্পেসিফিকেশন কমিটি গঠন করেন। এই কমিটি মূলত সিন্ডিকেটের ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ‘মাজ্জাক ইন্টারটেড’ ও ‘বিডিটি’র সরবরাহকৃত স্পেসিফিকেশনকেই সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত করে টেন্ডার আহ্বান করেন। সিন্ডিকেটের শেষ ধাপটি সম্পন্ন করেন আবহাওয়াবিদ রুবাইয়াত কবির। তিনি অধিদপ্তরের সকল টেন্ডার ইভ্যুলেশন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার কাজ হলো টেন্ডারে এমন কিছু বিশেষ শর্ত জুড়ে দেওয়া, যাতে কেবল তাদের নির্ধারিত কোম্পানিগুলোই কাজ পায়। এভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করে কাজ পাইয়ে দেওয়া নিশ্চিত করা হয়। সুত্র জানায়, এই চক্রটি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল থেকেই কমিশন বাণিজ্যে লিপ্ত। ইতিপূর্বে তারা রেডিও সন্ডী, পাইলট সন্ডী এবং হাইড্রোজেন গ্যাস জেনারেটরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম অত্যন্ত উচ্চমূল্যে ক্রয় করে মতিউরের ছাগল কান্ড রূপপুরের বালিশ কান্ড হার মানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব যন্ত্রপাতি ছিল অত্যন্ত মানহীন এবং বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আবহাওয়ার বিভিন্ন অফিসে পড়ে আছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, পরিচালক মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এই কর্মকর্তারা যন্ত্রপাতিগুলো সঠিকভাবে বুঝে না নিয়েই কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশ করে দ্রুত বিল তুলে নিয়েছে। বর্তমানেও ১১৯৯৬১৬, ১১৬৪৬৫৬ এবং ১১৯৮৬৮১ আইডি-র চলমান টেন্ডারগুলোর মাধ্যমে একই কায়দায় অর্থ লোপাটের মহোৎসবের রাম রাজত্ব চলছে চলছে।

 আবহাওয়াবিদ রুবাইয়াত কবির

অকেজো ও নিম্নমানের যন্ত্রপাতির বিল কোনো প্রকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই ছাড়াই পরিশোধ করার মূল কারণ ছিল অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী মহা দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সাথে তাদের গোপন আঁতাত। মূলত, ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে এবং কোম্পানিগুলোর সাথে যোগসাজশে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই এসবের বিল হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সিন্ডিকেটটির বর্তমান নজর ৩টি রাডার কেনার একটি বিশাল প্রকল্পের দিকে ধাপিত হচ্ছে । এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য মোঃ রাশেদুজ্জামান। এই প্রকল্পের বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু মমিনুল ইসলামের এই সিন্ডিকেট প্রকল্প থেকে ৭০ভাগ টাকা লুটপাটের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেন বলে সূত্রে প্রকাশ হয়েছে। এই লক্ষ্যে প্রকল্পের ধ্যঝকাজও তাদের বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান ‘মাজ্জাক ট্রেড’-কে পাইয়ে দেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো দুর্নীতিবাজ এই পরিচালক মমিনুল ইসলামের নামে বিভাগীয় মামলা হওয়া স্বত্বেও ৭ম গ্রেড থেকে একলাফে ৩য় গ্রেডে উন্নীত হয়ে চাকুরীরত অবস্থায় মহাদেদারসে দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, পরিচালক মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এই কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেটটি অধিদপ্তরকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করা এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ মহল।