০৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

রূপপুরের ‘বালিশ কাণ্ড’কেও টেক্কা: জুতার চেয়ে মোজার দাম বেশি! পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে পুকুরচুরি

  • আপডেট: ০৭:০১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৮০০৭

রুনা লায়লা:

 

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অস্বাভাবিক মূল্যে বালিশ কেনার ঘটনা দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। এবার সেই দুর্নীতির ধারাকে বহুগুণ ছাড়িয়ে নতুন এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটেছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে। চালকের যে জুতার দাম ১,০০০ টাকা, সেই জুতার ভেতরে পরার মোজার দাম ধরা হয়েছে ১,৫০০ টাকা! অর্থাৎ, জুতার চেয়ে মোজার দাম ৫০০ টাকা বেশি! এই কাণ্ড দেখে প্রশ্ন উঠেছেÑকর্মচারীরা কি জুতার ভেতরে মোজা পরবেন, নাকি মোজার ওপর জুতা পরবেন?

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত বিল ও দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের লজিস্টিকস অ্যান্ড সাপ্লাই ইউনিট থেকে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী ও চালকদের পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়ের চুক্তি করা হয়।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান: মেসার্স রাফা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (স্বত্বাধিকারী: ফকরুল আলম পাটোয়ারী)।
দরপত্র নম্বর: ১১৯২৪৩২
প্যাকেজ নম্বর: প্রশাসন/জিআর-০৪
লট নম্বর: সিঙ্গেল
স্মারক নম্বর: ৫৯.১১.০০০০.৩০৩.০৭.০২৩.২০২৫-১৮৪ (তারিখ: ০৩-০৩-২০২৬)
চুক্তিভিত্তিক সর্বমোট মূল্য: ১৭,২০,০০০ টাকা (সতেরো লাখ বিশ হাজার টাকা)।
বিল সংক্রান্ত বিবরণী: বিলের তারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৩ এপ্রিল ২০২৬ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গ্রহণযোগ্যতার স্বাক্ষর রয়েছে ২০ মে ২০২৬।
সরবরাহ করা মালামালের বিলের ১ম ও ২য় পৃষ্ঠা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মোট ৩১টি আইটেমের মধ্যে বহু পণ্যের দাম অযৌক্তিক ও অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে:

মোজার অস্বাভাবিক দাম (আইটেম নম্বর ৫): চালকদের জন্য ১৪৪ জোড়া মোজা সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতি জোড়ার দাম ধরা হয়েছে ১,৫০০ টাকা! ১৪৪ জোড়া মোজার পেছনে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ২,১৬,০০০ টাকা। অথচ সাধারণ খুচরা বাজারে বা ফুটপাতে এক জোড়া মোজার দাম ১৫ থেকে ৫০ টাকা এবং কোনো ভালো ব্র্যান্ডের শোরুমেও তা ১২০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।
জুতা-স্যান্ডেল ১,০০০ টাকা, মোজা ১,৫০০ টাকা (আইটেম নম্বর ৩, ৪ ও ৫): চালকদের জন্য জুতা এবং স্যান্ডেলের প্রতি জোড়ার দাম বিলে ধরা হয়েছে ১,০০০ টাকা। কিন্তু সেই জুতার মোজার দাম ১,৫০০ টাকা ধরায় পুকুরচুরির সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
১,০০০ টাকার ‘কপি-পেস্ট’ কারসাজি: বিলে থাকা ৩১টি আইটেমের মধ্যে সিংহভাগ পণ্যের একক মূল্য কোনো বাজার দর যাচাই ছাড়াই ঢালাওভাবে ১,০০০ টাকা বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন:
চালকদের জন্য হাফ সাফারি (আইটেম নম্বর ১): ১০৮টি, প্রতিটির দাম ২,৫০০ টাকা।
চালকদের টুপি (আইটেম নম্বর ২): ৭২টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
চালকদের জন্য জুতা (আইটেম নম্বর ৩): ৭২ জোড়া, প্রতি জোড়া ১,০০০ টাকা।
চালকদের জন্য স্যান্ডেল (আইটেম নম্বর ৪): ৭২ জোড়া, প্রতি জোড়া ১,০০০ টাকা।
চালকদের জন্য মোজা (আইটেম নম্বর ৫): ১৪৪ জোড়া, প্রতি জোড়া ১,৫০০ টাকা।
চালকদের জন্য ছাতা (আইটেম নম্বর ৬): ৩৬টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
চালকদের জন্য নাম ফলক (আইটেম নম্বর ৭): ৩৬টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
চালকদের জন্য ফুল সাফারি (আইটেম নম্বর ৮): ২ টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
চালকদের জন্য সোয়েটার (আইটেম নম্বর ৯): ২ টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের ফুল সাফারি (আইটেম নম্বর ১০): ৬৬টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের হাফ সাফারি (আইটেম নম্বর ১১): ৬৬টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের জন্য জুতা (আইটেম নম্বর ১২): ১৩২ জোড়া, প্রতি জোড়া ১,০০০ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের জন্য মোজা (আইটেম নম্বর ১৩): ১৩২ জোড়া, প্রতি জোড়া ১,০০০ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের ছাতা (আইটেম নম্বর ১৪): ৬৬টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের নাম ফলক (আইটেম নম্বর ১৫): ৬৬টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের জর্জেট শাড়ি (আইটেম নম্বর ১৬): ১৮টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের সুতি শাড়ি (আইটেম নম্বর ১৭): ১৮টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের স্যান্ডেল (আইটেম নম্বর ১৮): ১৮ জোড়া, প্রতি জোড়া ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের মোজা (আইটেম নম্বর ১৯): ১৮ জোড়া, প্রতি জোড়া ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের ছাতা (আইটেম নম্বর ২০): ৯টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের নাম ফলক (আইটেম নম্বর ২১): ৯টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের ভি-নেক সোয়েটার (আইটেম নম্বর ২২): ৬৬টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের ফুল শার্ট (আইটেম নম্বর ২৩): ৬৬টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের শাল বা সোয়েটার (আইটেম নম্বর ২৪): ৯টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের ফুল হাতা ব্লাউজ (আইটেম নম্বর ২৫): ৯টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের জন্য অক্সফোর্ড জুতা (আইটেম নম্বর ২৬): ৪০ জোড়া, প্রতি জোড়া ২,০০০ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের জন্য জুতা (আইটেম নম্বর ২৭): ৪০ জোড়া, প্রতি জোড়া ১,৪৭৫ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের ছাতা (আইটেম নম্বর ২৮): ২০টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের জুতা বা স্যান্ডেল (আইটেম নম্বর ২৯): ৬ জোড়া, প্রতি জোড়া ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের মোজা (আইটেম নম্বর ৩০): ৬ জোড়া, প্রতি জোড়া ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের ছাতা (আইটেম নম্বর ৩১): ৩টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপকরণ ও সরবরাহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির তালুকদার এবং ডেস্ক অফিসার জহিরুল আলমের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট এই মালামাল ক্রয়ের নেপথ্যে ভূমিকা পালন করেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি আদেশ স্থগিত রাখা এবং ঊর্ধ্বতনদের ম্যানেজ করার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এই কেনাকাটায় অস্বচ্ছতা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ইতিপূর্বে একাধিক গণমাধ্যমে এই দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সচেতন মহলের দাবি, এই ভুয়া বিলের বিষয়ে অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

রূপপুরের ‘বালিশ কাণ্ড’কেও টেক্কা: জুতার চেয়ে মোজার দাম বেশি! পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে পুকুরচুরি

আপডেট: ০৭:০১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

রুনা লায়লা:

 

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অস্বাভাবিক মূল্যে বালিশ কেনার ঘটনা দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। এবার সেই দুর্নীতির ধারাকে বহুগুণ ছাড়িয়ে নতুন এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটেছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে। চালকের যে জুতার দাম ১,০০০ টাকা, সেই জুতার ভেতরে পরার মোজার দাম ধরা হয়েছে ১,৫০০ টাকা! অর্থাৎ, জুতার চেয়ে মোজার দাম ৫০০ টাকা বেশি! এই কাণ্ড দেখে প্রশ্ন উঠেছেÑকর্মচারীরা কি জুতার ভেতরে মোজা পরবেন, নাকি মোজার ওপর জুতা পরবেন?

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত বিল ও দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের লজিস্টিকস অ্যান্ড সাপ্লাই ইউনিট থেকে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী ও চালকদের পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়ের চুক্তি করা হয়।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান: মেসার্স রাফা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (স্বত্বাধিকারী: ফকরুল আলম পাটোয়ারী)।
দরপত্র নম্বর: ১১৯২৪৩২
প্যাকেজ নম্বর: প্রশাসন/জিআর-০৪
লট নম্বর: সিঙ্গেল
স্মারক নম্বর: ৫৯.১১.০০০০.৩০৩.০৭.০২৩.২০২৫-১৮৪ (তারিখ: ০৩-০৩-২০২৬)
চুক্তিভিত্তিক সর্বমোট মূল্য: ১৭,২০,০০০ টাকা (সতেরো লাখ বিশ হাজার টাকা)।
বিল সংক্রান্ত বিবরণী: বিলের তারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৩ এপ্রিল ২০২৬ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গ্রহণযোগ্যতার স্বাক্ষর রয়েছে ২০ মে ২০২৬।
সরবরাহ করা মালামালের বিলের ১ম ও ২য় পৃষ্ঠা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মোট ৩১টি আইটেমের মধ্যে বহু পণ্যের দাম অযৌক্তিক ও অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে:

মোজার অস্বাভাবিক দাম (আইটেম নম্বর ৫): চালকদের জন্য ১৪৪ জোড়া মোজা সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতি জোড়ার দাম ধরা হয়েছে ১,৫০০ টাকা! ১৪৪ জোড়া মোজার পেছনে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ২,১৬,০০০ টাকা। অথচ সাধারণ খুচরা বাজারে বা ফুটপাতে এক জোড়া মোজার দাম ১৫ থেকে ৫০ টাকা এবং কোনো ভালো ব্র্যান্ডের শোরুমেও তা ১২০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।
জুতা-স্যান্ডেল ১,০০০ টাকা, মোজা ১,৫০০ টাকা (আইটেম নম্বর ৩, ৪ ও ৫): চালকদের জন্য জুতা এবং স্যান্ডেলের প্রতি জোড়ার দাম বিলে ধরা হয়েছে ১,০০০ টাকা। কিন্তু সেই জুতার মোজার দাম ১,৫০০ টাকা ধরায় পুকুরচুরির সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
১,০০০ টাকার ‘কপি-পেস্ট’ কারসাজি: বিলে থাকা ৩১টি আইটেমের মধ্যে সিংহভাগ পণ্যের একক মূল্য কোনো বাজার দর যাচাই ছাড়াই ঢালাওভাবে ১,০০০ টাকা বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন:
চালকদের জন্য হাফ সাফারি (আইটেম নম্বর ১): ১০৮টি, প্রতিটির দাম ২,৫০০ টাকা।
চালকদের টুপি (আইটেম নম্বর ২): ৭২টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
চালকদের জন্য জুতা (আইটেম নম্বর ৩): ৭২ জোড়া, প্রতি জোড়া ১,০০০ টাকা।
চালকদের জন্য স্যান্ডেল (আইটেম নম্বর ৪): ৭২ জোড়া, প্রতি জোড়া ১,০০০ টাকা।
চালকদের জন্য মোজা (আইটেম নম্বর ৫): ১৪৪ জোড়া, প্রতি জোড়া ১,৫০০ টাকা।
চালকদের জন্য ছাতা (আইটেম নম্বর ৬): ৩৬টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
চালকদের জন্য নাম ফলক (আইটেম নম্বর ৭): ৩৬টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
চালকদের জন্য ফুল সাফারি (আইটেম নম্বর ৮): ২ টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
চালকদের জন্য সোয়েটার (আইটেম নম্বর ৯): ২ টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের ফুল সাফারি (আইটেম নম্বর ১০): ৬৬টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের হাফ সাফারি (আইটেম নম্বর ১১): ৬৬টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের জন্য জুতা (আইটেম নম্বর ১২): ১৩২ জোড়া, প্রতি জোড়া ১,০০০ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের জন্য মোজা (আইটেম নম্বর ১৩): ১৩২ জোড়া, প্রতি জোড়া ১,০০০ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের ছাতা (আইটেম নম্বর ১৪): ৬৬টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের নাম ফলক (আইটেম নম্বর ১৫): ৬৬টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের জর্জেট শাড়ি (আইটেম নম্বর ১৬): ১৮টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের সুতি শাড়ি (আইটেম নম্বর ১৭): ১৮টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের স্যান্ডেল (আইটেম নম্বর ১৮): ১৮ জোড়া, প্রতি জোড়া ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের মোজা (আইটেম নম্বর ১৯): ১৮ জোড়া, প্রতি জোড়া ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের ছাতা (আইটেম নম্বর ২০): ৯টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের নাম ফলক (আইটেম নম্বর ২১): ৯টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের ভি-নেক সোয়েটার (আইটেম নম্বর ২২): ৬৬টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের ফুল শার্ট (আইটেম নম্বর ২৩): ৬৬টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের শাল বা সোয়েটার (আইটেম নম্বর ২৪): ৯টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের ফুল হাতা ব্লাউজ (আইটেম নম্বর ২৫): ৯টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের জন্য অক্সফোর্ড জুতা (আইটেম নম্বর ২৬): ৪০ জোড়া, প্রতি জোড়া ২,০০০ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের জন্য জুতা (আইটেম নম্বর ২৭): ৪০ জোড়া, প্রতি জোড়া ১,৪৭৫ টাকা।
পুরুষ কর্মচারীদের ছাতা (আইটেম নম্বর ২৮): ২০টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের জুতা বা স্যান্ডেল (আইটেম নম্বর ২৯): ৬ জোড়া, প্রতি জোড়া ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের মোজা (আইটেম নম্বর ৩০): ৬ জোড়া, প্রতি জোড়া ১,০০০ টাকা।
মহিলা কর্মচারীদের ছাতা (আইটেম নম্বর ৩১): ৩টি, প্রতিটির দাম ১,০০০ টাকা।
নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপকরণ ও সরবরাহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির তালুকদার এবং ডেস্ক অফিসার জহিরুল আলমের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট এই মালামাল ক্রয়ের নেপথ্যে ভূমিকা পালন করেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি আদেশ স্থগিত রাখা এবং ঊর্ধ্বতনদের ম্যানেজ করার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এই কেনাকাটায় অস্বচ্ছতা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ইতিপূর্বে একাধিক গণমাধ্যমে এই দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সচেতন মহলের দাবি, এই ভুয়া বিলের বিষয়ে অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।