জনবান্ধব ট্রাফিক পুলিশ গড়ার প্রয়াস ‘টিডিএস’র
- আপডেট: ১১:২৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮০০৫
মো. দীন ইসলাম, ঢাকা
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। ট্রাফিক অব্যবস্থাপনাসহ নানান কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে এসব দুর্ঘটনা। তবে এসব তদারকিতে দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ সদস্যরা। দেশের সড়ক ও মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং জনবান্ধব ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের একমাত্র ট্রাফিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুল’ (টিডিএস)। সময়ের প্রয়োজনে শুধু প্রচলিত ট্রাফিক আইন প্রয়োগেই সীমাবদ্ধ না থেকে, আধুনিক প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক দুর্ঘটনা তদন্ত এবং বাহিনীর সদস্যদের মানসিক গুণাবলি ও পেশাদারত্ব উন্নয়নে কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠানটি। টিডিএস এর ট্রাফিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দক্ষ করে কমিয়ে আনা হচ্ছে দুর্ঘটনা। সেইসঙ্গে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি সদস্যরা যাতে জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেজন্য নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে বিশেষ মোটিভেশনাল সেশন। এ নিয়ে দৈনিক সোনালী খবরকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন টিডিএস -এর অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম।
প্রতিবেদক: বাংলাদেশে ট্রাফিক প্রশিক্ষণের শুরুটা কিভাবে হলো?
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম: ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুল (টিডিএস) স্থানটি পূর্বে ছিল মিল ব্যারাক পুলিশ লাইন। মিল ব্যারাক বলতে আসলে ব্রিটিশ আমলে এটি ছিল সুগারকেন মিল। পরবর্তীতে এখানে ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিপ্লবের পরে ব্রিটিশদের একটা কোম্পানির ব্যাটালিয়ন ছিল।
কালক্রমে তা আমাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তরিত হয়। আমাদের এই প্রতিষ্ঠান স্থানটি যদি ধরি, এটি ব্রিটিশ আমলেই তৈরি করা এবং ট্রাফিক ট্রেনিং সেন্টারকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয় ১৯৬৫ সালে। তখন এটিকে বলা হতো ট্রাফিক ট্রেনিং সেন্টার। পাকিস্তান আমলে এই দেশে ট্রাফিক ট্রেনিং সেন্টার বলতে এটিই একমাত্র ট্রেনিং সেন্টার ছিল টিটিসি (ট্রাফিক ট্রেনিং সেন্টার)।
তৎকালীন অতিরিক্ত আইজিপি সাহেবের উদ্যোগে জামালপুরে নতুন স্থান পরিদর্শনের পর ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। ঢাকায় প্রধান কার্যালয় রেখে গঠিত হয় ‘ট্রাফিক ড্রাইভিং স্কুল’ (টিডিএস) এবং জামালপুরে ‘মোটর ড্রাইভিং স্কুল’ (এমডিএস)। টিডিএস থেকেই জামালপুরের এমডিএস পরিচালিত হয়।
১৯৬৫ সালে এই সেন্টারের দায়িত্বে ছিলেন একজন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর। বর্তমানে ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার (কমান্ড্যান্ট) সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন। তার অধীনে অতিরিক্ত ডিআইজি এবং তিনজন এসপি প্রশাসনিক ও প্রশিক্ষণের কাজ পরিচালনা করেন।
প্রতিবেদক: প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের কি ধরণের ব্যবস্থা রয়েছে?
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম: ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আমি যখন এখানে যোগদান করি, তখন মূলত একটি মাত্র কোর্স পরিচালিত হতো- ট্রাফিক সার্জেন্টদের পদোন্নতিমূলক যা ম্যান্ডেটরি কোর্স নামে “ট্রাফিক সার্জেন্ট নবায়ন কোর্স”। এই কোর্স না করলে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হবে না ট্রাফিক ইন্সপেক্টর পদে। এছাড়া সবচেয়ে পুরোনো (১৯৬৫ সাল থেকে চলে আসা) ‘ভেহিকেল ম্যানেজমেন্ট সার্টিফিকেট কোর্স’ ছিল।
এটা মিক্সড কোর্স, এখানে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর, ট্রাফিক সার্জেন্ট, ট্রাফিক সাব-ইন্সপেক্টর, এটিএসআই- এসব মিলেই কোর্সটা করানো হতো। আর এখন ৩৬৬তম কোর্স চলছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কিছু পরিবর্তন ও নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করি।
পরবর্তীতে দেখা গেল যে আরও দুইটি কোর্স করানো যেতে পারে। এটি ছিল আগে, কিন্তু করানো হতো না। হয়তোবা দিক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব বা বাজেটের অভাব ইত্যাদির কারণে এড়িয়ে যাওয়া হতো। আমি যখন এখানে আসি তখন এই ট্রাফিক ট্রেনিং সেন্টারকে অনেকে ভাবতো যে ডাম্পিং পোস্ট, এটা সত্যি কথা। আমি এসে দেখলাম যে আসলেই এই মনোভাব অনেকে পোষণ করতো যে, “এই, তোমার পোস্টিং কোথায়?” যখন আমি পরিচিয় দিতাম টিডিএস, তখন চিনতো না।
বলতো “এটা আবার কোথায়?” ডিটিএস চিনতো। একটা আছে আমাদের ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুল। ওটার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতো! “এই ডিটিএস আছেন?” না, টিডিএস। “তো টিডিএস কি আবার?” সত্যি কথা, এখানে পোস্টিং হওয়ার আগে আমিও জানতাম না টিডিএস নামে একটা প্রতিষ্ঠান আছে! এতটা আমরা সত্যি কথা বলতে অবহেলিত এবং আসলে জানার অভাবে, ফোকাসের অভাবে অনেকে জানেই না। পোস্টিং হওয়ার পর আমার মনে হলো যেহেতু এখানে আছি, কিছু কাজ করতে পারি।
১৯৬৫ সালের পর অনেক বার কারিকুলাম পরিবর্তন হয়। কয়েকবছর আগের কারিকুলাম বর্তমান সময়ের উপযোগী ছিল না। আমরা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতি মাসে এটি রিভিউ ও আপডেট করা শুরু করি। গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে আসি এবং এটা খুব ভালো ফ্রুটফুল কাজ হয়। পুরাতন দুইটা ট্রেনিংকেও সুন্দরভাবে সচল করলাম। ট্রাফিক কনস্টেবলদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় স্থগিত কোর্সটি পুনঃচালু করা হয়। ট্রাফিক কনস্টেবলদের বেসিক ট্রাফিক সার্টিফিকেট কোর্স এবং ভেহিকেল ম্যানেজমেন্ট সার্টিফিকেট কোর্স।
এরপর আমি দেখলাম যে আমাদের আরও কিছু কোর্স করা যায় কিনা। ২০২৩ -এর দিকে আমাদের নতুন কমান্ড্যান্ট আসলেন। তাকে বললাম “স্যার, আমরা ট্রাফিক কাজ করি কিন্তু ইনভেস্টিগেশন আমাদের তো পাওয়ার নাই, বিশেষ করে ট্রাফিক সার্জেন্টদের। তাদেরকে ট্রাফিক ইনভেস্টিগেশনের উপরে কোনো কোর্স করা যায় কিনা?” আমাদের মূলত মাথায় ছিল যে আমরা ইনভেস্টিগেশনের উপরে তাদেরকে ধারণা দেওয়া, কিন্তু এটা যে কোর্স হিসেবে করাব—এমন ধারণাও আমাদের মাথায় ছিল না। স্যার রাজি হলেন। তখন ইন দ্য মিনটাইম আমরা একটা গবেষণাপত্রের কাজ করি। আমি এটা ফিনিশিং টাচ করি। ওই কাজ করার সময় আমাদের সঙ্গে বুয়েটের এআরআই (এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট) এর ড. সামসুল স্যারের সঙ্গে এবং ড. হাদী ভাই- এরকম অনেকে সহায়তা করে গবেষণার কাজে।
জাতিসংঘ মিশনে দুই বছর কমান্ডার হিসেবে দারফুরে। ওখানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (UNDSS) খুব শক্তিশালী একটা সংস্থা, তাদের সঙ্গে আমার আগে কাজ করার সুবাদে দু’একজন বাংলাদেশি UNDSS-এ ছিলেন, তাদের কাছ থেকে আমি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে (রাশিয়ায় থাকে একজন, ইংল্যান্ডে একজন) তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন মডিউল নিলাম। নিয়ে দেখলাম বাংলাদেশের সঙ্গে মিলে না। বাংলাদেশের আমাদের এক্সিডেন্ট কালচার এবং এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন মিলে না, কিন্তু কিছুটা ধারণা পাওয়া গেছে। তো এর থেকে আমাকে এআরআই ভালো সহায়তা করছে। সবকিছুর সহায়তা নিয়ে আমি প্রায় ছয় মাসের একটা ক্রাশ প্রোগ্রাম নিলাম।
মডিউল বানাই, আলোচনা করি। দেখা গেছে তিন দিন মিলে একটা মডিউল বানালাম, একটা চ্যাপ্টার বানালাম, এটা কোনো কাজে আসলো না! কিন্তু আমরা অনেক খাটছি।
এভাবে করতে করতে দেখা গেল যে একটা সিস্টেমের মতো একটা মডিউল বানানো হয়ে গেছে। এটা এআরআই-এ, সি আই ডির ফরেনসিকে ও বিআরটিএ পাঠালাম। হেডকোয়ার্টার জাস্টিফাই করলেন। এভাবে করতে করতে আমরা ইনশাআল্লাহ ছয় মাস পর একটা মডিউল বানালাম এবং হেডকোয়ার্টার থেকে আমরা একটা মানসিকভাবে অনুমতি পেলাম যে, শুরু করো। আমরা ২০২৩ সাল থেকে ‘Scientific Investigation for Road Traffic Accidents’ নামে ৩ সপ্তাহের একটি নতুন কোর্স চালু করি, যা ২০২৪ সালের শেষের দিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। ভালো সাড়া পাই।
প্রথম দিকে ছিল ৪০ জন- ২০ জন ট্রাফিক সার্জেন্ট, ২০ জন সাব-ইন্সপেক্টর। বর্তমানে এটা ১০ জন বাড়ানো হয়েছে ক্যাপাসিটি অনুযায়ী। এতে দুর্ঘটনাস্থলের টায়ারের দাগ, রাস্তার অনুপাত এবং বীজগণিতীয় গণনার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয় শেখানো হয়। ট্রাফিক বিভাগ মূলত একটি নন-অপারেশনাল ইউনিট হলেও, সার্বিক আইনশৃঙ্খলায় নিজেদের ক্ষমতার সীমা এবং সঠিক প্রয়োগ জানতে ‘ইউজ অব ফোর্স’ বিষয়ক সেশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদক: টিডিএস -এর নতুন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ বিষয়ে যদি বলতেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম: শীঘ্রই আমরা ভেহিকেল মেকানিক ট্রেনিং দাঁড় করাচ্ছি। উদ্দেশ্য একটা- সরকারি টাকার সাশ্রয় করা। বাংলাদেশ পুলিশ কিন্তু অনেক বড় একটা সংগঠন। এখানে প্রচুর গাড়ি থাকে এবং গাড়িগুলোর রিপেয়ার করতে হয়। এই রিপেয়ার খরচটা চলে যাচ্ছে কন্ট্রাক্টরের কাছে। স্থানীয় কন্ট্রাক্টরকে আমরা টেন্ডার দিয়ে দিচ্ছি। অন্যান্য বাহিনীর মতো আমরা নিজেরাই স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য ভেহিকেল মেকানিক তৈরি তাহলে অনেক টাকা সাশ্রয় হবে। পুলিশের কোটি কোটি টাকার সরকারি গাড়ির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ সাশ্রয় করতে জামালপুরের ৪০ একর জায়গায় আগামী মাস থেকে ভেহিকেল মেকানিক কোর্স চালু করা হচ্ছে। এতে প্রতি বছর ১০০ থেকে ১২০ জন মেকানিক তৈরি হবে, যা ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে পুলিশকে এই খাতে শতভাগ স্বাবলম্বী করে তুলবে।
প্রশ্ন: প্রতি বছর কত সংখ্যক ট্রেনিং নিচ্ছে?
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম: মূলত সাব-ইন্সপেক্টর এবং ট্রাফিক সার্জেন্টদের সমন্বয়ে ৫০ জনের ব্যাচে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতি বছর ৩০০ থেকে ৫০০ জন ট্রাফিক দুর্ঘটনা তদন্তে বিশেষজ্ঞ পুলিশ সদস্য তৈরি করা হয়।
প্রশ্ন: দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতিতে টিডিএস-কে সরকার কীভাবে দেখছে বা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে কিনা?
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম: হ্যাঁ, সরকার তো সবসময় চায় যে ট্রেনিং সেন্টারগুলো যেন ফ্লারিশ করে, আরও বড় আকারে কিছু করে। এটা সরকার সবসময় চায়, আমরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ।
সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই এসব আমরা করতে পারছি। সরকার আমাদেরকে দিচ্ছে, আমরাও চেষ্টা করতেছি সরকারকে সহায়তা করার, বাংলাদেশ পুলিশকে সহায়তা করার- বিশেষ করে এই বিভিন্ন ট্রেনিং দিয়ে। কারণ, ট্রেনিংয়ের বিকল্প নাই। যদি ট্রেনিং না দেওয়া হয়, আপনি এটা ফ্রুটফুলি ইমপ্লিমেন্টেশন করতে পারবেন না। ইমপ্লিমেন্টেশন করতে গেলে ট্রেনিং লাগবেই।
প্রশ্ন: বর্তমানে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় এআই সংযুক্ত করা হয়েছে, এই ধরণের আর কোনো পরিকল্পনা বা উদ্যোগ নেওয়া যায় কিনা?
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম: উদ্যোগ নিচ্ছি। আমরা বিভিন্ন ইকুইপমেন্ট শেখাচ্ছি, যেমন ব্রেথ অ্যানালাইজার। ব্রেথ অ্যানালাইজার হলো কোনো গাড়ি যদি জোরে চালায়, গাড়ির ড্রাইভারকে থামিয়ে তাকে তার শ্বাস-প্রশ্বাসে কোনো অ্যালকোহলিক কিনা সেটা যাচাই করা। অথবা আরএফআইডি আছে। অনেক জায়গায় মনে করেন যে আরএফআইডি হলো আপনি এমন জায়গায় স্পিডে চালালো যেটা মনে করেন ধরা পড়বে ডিভাইসে। তারপরে আমাদের স্পিড গান কীভাবে ব্যবহার করা যায় এবং টেকনোলজি আমরা শেখাচ্ছি। তবে এআই চমৎকারভাবে কাজ করছে। কয়েকদিন আগে একটা সিগনেচারে দেখলাম যে আমার এক অফিসার সে ট্রাফিক রুলস ভঙ্গ করছে, চিঠি চলে আসছে জরিমানার। আর এটা কিন্তু সরকার দেবে না, অফিস দেবে না, তাকেই দিতে হবে। জিনিসটা বুঝতে পারছেন? আমি কিন্তু একজন পুলিশ সদস্য হয়েও আইন ভঙ্গ করলে আমাকে এআই ক্যামেরা ছাড়বে না।
প্রশ্ন: ৫ আগস্ট পরবর্তী ট্রাফিক পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে আনতে আপনারা কোনো উদ্যোগ নিয়েছিলেন কিনা এবং তারা এখন পুরোপুরি ফিট কিনা?
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম: ৫ আগস্টের পর পুলিশের যে অবস্থা দাঁড়িয়ে ছিল, আমরা এখানে মোটিভেশন সেশন চালু করেছিলাম। ২০২৪-এর সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত আমি নিজেই একটা ক্রাশ প্রোগ্রাম নিয়েছি। প্রতি ব্যাচে প্রতি সপ্তাহে একটি সেশন নেই। এই মোটিভেশনাল সেশনটি ছিল আমাদের অতীত ইতিহাস- আমরা কি করেছি এবং কেন আমাদের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব ছিল, কি মনোমালিন্য- এগুলো খুঁজে বের করা এবং এ থেকে উত্তরণের পদক্ষেপ নেওয়া। এভাবে একটি বছর তাদের মোটিভেশনাল দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে নির্বাচনের ট্রেনিং দেওয়া হইছে, সেখানেও আমি একটি কোর্স রেখেছিলাম নিজের পক্ষ থেকেই- যে আমাদের অতীত ইতিহাস থেকে আমরা যেন ভুলে না যাই। অতীত ইতিহাসকে যেন মাথায় রেখে কীভাবে জনবান্ধব পুলিশ করা যায়… জনবান্ধব পুলিশ না হতে পারলেও জনগণ যেন আমাদের শত্রু না ভাবে অন্তত এবং এই পরিবেশ যেন আমরা তৈরি করতে পারি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বা জুলাই গণআন্দোলন যাই বলেন না কেন, আমাদের কিন্তু ট্রাফিকের উপর কিন্তু চাপটা আসে নাই। কেন আসে নাই? কারণ, আমরা আসলে অপারেশনাল কোনো কাজে ন্যস্ত ছিলাম না। তারপরও আমরা মনে করি, বিশেষ করে আমি মনে করি যে আমাদের যেহেতু পুলিশের একটা শাখা এবং আমরা সবাই পুলিশ, আমাদেরকে ‘ইউজ অব ফোর্স’ জানতে হবে।
প্রতি সদস্যের জানা উচিত যে আমার কতটুক পাওয়ার দেওয়া আছে আইনে এবং এই পাওয়ারটা আমি কতটুক পর্যন্ত ইমপ্লিমেন্টেশন করতে পারবো। এটা যদি না জানা থাকে, তাহলে কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন ভবিষ্যতে না ঘটে, এজন্য আমি আমার পক্ষ থেকে আমরা চেষ্টা করতেছি প্রতি ব্যাচে দুই-তিনটা সেশন রাখা ‘ইউজ অব ফোর্স’-এর উপর।



















