তিন মাসে র্যাবের হাতে ৩৪৭৩ আসামি, বিপুল অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার
- আপডেট: ০৬:১১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
- / ১৮০০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
মাদক,অস্ত্র,হত্যা ও জঙ্গিবাদসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে জোরালো অভিযান চালিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৪৭৩ জনকে গ্রেফতার এবং বিপুল অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করেছে বাহিনীটি।
সম্প্রতি র্যাবের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটির এসব তৎপরতার চিত্র উঠে এসেছে।
প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত তিন মাসে সবচেয়ে বেশি গ্রেফতার হয়েছে মাদক সংক্রান্ত অপরাধে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১ হাজার ১১৫ জন মাদক কারবারিকে আইনের আওতায় এনেছে বাহিনীটি। এসব অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৯৬২ পিস ইয়াবা, ৫ হাজার ২৬৬ কেজি গাঁজা এবং ২৪ কেজির বেশি হেরোইন। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মদ ও ফেন্সিডিলও জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও নাশকতা রোধেও অভিযান জোরদার করেছে র্যাব। এই সময়ে ৩৩১টি অস্ত্রসহ ১০৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে গত ৯ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর এক বড় অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা গোলা-বারুদসহ ২২ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়, যা এই ত্রৈমাসিকের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর হত্যা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধ দমনেও র্যাব তাদের দৃশ্যমান তৎপরতা দেখিয়েছে। গত তিন মাসে হত্যা মামলায় ৪৮৪ জন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণ মামলায় ১৭৪ জনকে গ্রেফতার করেছে তারা।
বিশেষ করে, গত ২৬ জানুয়ারি সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত র্যাব সদস্য ডিএডি মোতালেব হোসেন হত্যা মামলার ৮ আসামিকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া, ৮ মার্চ ঝিনাইদহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ফারদিন আহম্মেদ নিরব হত্যা এবং নরসিংদীর মাধবদীতে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত মূল আসামিদের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে র্যাব।
জঙ্গিবাদ ও নাশকতা দমনেও র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভার এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করে র্যাব-৪। এছাড়াও সিলেট থেকে ডেটোনেটর ও পাওয়ার জেল এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ গান পাউডার।
এর বাইরেও ছিনতাই, ডাকাতি, মানবপাচার, প্রতারণা ও জালনোট কারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার হয়েছেন দেড় সহস্রাধিক অপরাধী। শুধু অপরাধী ধরাই নয়, মানবিক দিক থেকেও র্যাব তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। গত ২২ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অপহৃত দুই বছরের শিশু ফুজাইলকে যাত্রাবাড়ী থেকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করার পাশাপাশি অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০।
সামগ্রিকভাবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের কোণঠাসা করতে র্যাবের এই ত্রৈমাসিক পরিসংখ্যান দেশজুড়ে তাদের কঠোর ও আপসহীন অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।



















