০২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ডের জিরো টলারেন্স

  • আপডেট: ০৫:১১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৮০০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

সুন্দরবন ও দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে।

রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বনজ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমন এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্ট গার্ডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত দেড় বছরে করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীসহ বিভিন্ন দস্যু দলের মোট ৬১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এসময় ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অভিযানে ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি ফাঁদসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে এবং ২৯ জন শিকারিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা সমমূল্যের অবৈধ জাল ও বিপুল পরিমাণ রেণুপোনা জব্দ করা হয়েছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোস্ট গার্ড সদস্যদের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার সুযোগে কিছু অসাধু চক্র সুন্দরবনে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এসব বনদস্যুর বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে যৌথভাবে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” পরিচালনা করা হচ্ছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, বন বিভাগসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বনদস্যু বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে হারবারিয়া, কৈখালী, কয়রা, নলিয়ান, মান্দারবাড়ি এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে মৎস্যজীবী, বাওয়ালি ও স্থানীয় জনগণের ওপর দস্যুদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য অপরাধও হ্রাস পেয়েছে।

নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সাঁড়াশি অভিযানের ফলে সুন্দরবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হচ্ছে এবং জনগণের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার জনগণের নিরাপত্তা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং জানমাল রক্ষায় কোস্ট গার্ড সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। দস্যু চক্র সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ডের জিরো টলারেন্স

আপডেট: ০৫:১১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

সুন্দরবন ও দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে।

রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বনজ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমন এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্ট গার্ডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত দেড় বছরে করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীসহ বিভিন্ন দস্যু দলের মোট ৬১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এসময় ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অভিযানে ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি ফাঁদসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে এবং ২৯ জন শিকারিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা সমমূল্যের অবৈধ জাল ও বিপুল পরিমাণ রেণুপোনা জব্দ করা হয়েছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোস্ট গার্ড সদস্যদের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার সুযোগে কিছু অসাধু চক্র সুন্দরবনে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এসব বনদস্যুর বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে যৌথভাবে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” পরিচালনা করা হচ্ছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, বন বিভাগসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বনদস্যু বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে হারবারিয়া, কৈখালী, কয়রা, নলিয়ান, মান্দারবাড়ি এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে মৎস্যজীবী, বাওয়ালি ও স্থানীয় জনগণের ওপর দস্যুদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য অপরাধও হ্রাস পেয়েছে।

নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সাঁড়াশি অভিযানের ফলে সুন্দরবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হচ্ছে এবং জনগণের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার জনগণের নিরাপত্তা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং জানমাল রক্ষায় কোস্ট গার্ড সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। দস্যু চক্র সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।