নেপাল জিএসএ নিয়োগে বিতর্কে বিমান:অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান বাদ, উঠছে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
- আপডেট: ১১:১৪:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৮০০২
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস-এর নেপাল রুটে জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ৩০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একাধিক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও চূড়ান্ত বিবেচনায় স্থান পায়নি।
অন্যদিকে, তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ দুটি প্রতিষ্ঠান—ট্রান্সপোর্ট সল্যুশন এবং সোসাইটি ট্রাভেলস—কে প্রাথমিকভাবে নির্বাচনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নেপালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটে জিএসএ নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং পূর্ববর্তী পারফরম্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এসব মানদণ্ড উপেক্ষা করে কম অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে তা বিমান বাংলাদেশের বাণিজ্যিক স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সঙ্গে কাজ করে আসছে এবং তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরেও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অন্যদিকে, আলোচনায় থাকা ট্রান্সপোর্ট সল্যুশন ও সোসাইটি ট্রাভেলস-এর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের কার্যকর উপস্থিতি সীমিত, যা নেপালের মতো প্রতিযোগিতামূলক গন্তব্যে বিমান বাংলাদেশের যাত্রীসেবা সম্প্রসারণে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমনকি এই দুটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বিমান বাংলাদেশের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিপণন ও বিক্রয় বিভাগের প্রধান আশরাফুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। যদিও পুরো প্রক্রিয়ায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেন। পাশাপাশি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সংক্ষিপ্ত মন্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় শুধু প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ হবে না, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট মহল থেকে পুরো জিএসএ নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের দাবি উঠেছে। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
নেপাল রুটে বিমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা কতটা বজায় থাকে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।



















