পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট: ০৯:৪৪:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
- / ১৮০০২
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আজ রবিবার (১০ মে) শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬। রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে এ আয়োজনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ১৩ মে পর্যন্ত চলবে পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্মসূচি।
বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল, দৃষ্টি নন্দন ও বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একটি খোলা জিপে চড়ে প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন তিনি।
এবারের পুলিশের বার্ষিক প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্বে দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে পর এটিই বিএনপির সরকারের সময়ে প্রথম পুলিশ সপ্তাহ।
প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, এবারের পুলিশ সপ্তাহে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেছেন, দেশে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। তিনি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে পুলিশকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, পুলিশের সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভরশীল। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যুগে অপরাধের ধরন দিন দিন জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। সাইবার অপরাধ, এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিকস, সিসিটিভি নজরদারি ও ডিজিটাল ফরেনসিকস ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার সমুন্নত রেখে কমিউনিটি পুলিশিং জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত না হলে একটি সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জাতীয় অগ্রগতির সঙ্গে পুলিশের উন্নয়ন নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। এ কারণে সরকারের কাছে পুলিশ বাহিনীর উন্নয়ন জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ। মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তার বাণীতে বলেন, প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে পেশাদারত্বের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে মানুষের কাছে সেবা ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে হবে। ভুক্তভোগীদের প্রাপ্য আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ পুলিশ নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও ত্যাগের পরিচয় দিয়ে আসছে। দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইজিপি আলী হোসেন ফকির তার বাণীতে বলেন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুলিশকে আরও জনবান্ধব, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক বাহিনীতে পরিণত করতে কাজ করছে বাংলাদেশ পুলিশ। জনগণের পুলিশ হিসেবে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা দেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
এবারের বার্ষিক পুলিশ প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের সদস্যরা অংশ নেবেন বর্ণিল প্যারেডে।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপ সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। পাশাপাশি জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
এবারের পুলিশ সপ্তাহের উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পুনাক স্টল পরিদর্শন, কল্যাণ প্যারেড, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ, আইজি’জ ব্যাজ ও শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার পুরস্কার বিতরণ এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সম্মেলন। বিভিন্ন কর্মঅধিবেশনে বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনাও নির্ধারণ করা হবে।



















