‘জাতীয়তাবাদ’ মন্তব্যে ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকের পাশে এমপি মনিরুল হক
- আপডেট: ০৫:৫৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- / ১৮০০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকের ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শ’ সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক কোনো দলীয় বক্তব্য দেননি; বরং তিনি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী চেতনার কথাই তুলে ধরেছেন।
সোমবার পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে দেওয়া বক্তব্যে রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, বিগত সরকারের সময় নানা পদবঞ্চনা, বৈষম্য, অপমান ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শ’ থেকে একচুলও বিচ্যুত হননি। এরপর তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ শুরু হয়।
এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকের বক্তব্যকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য, “জাতীয়তাবাদী মানে তো বাংলাদেশকে ধারণ করা। আমি বাংলাদেশি, আপনি বাংলাদেশি—এটাই তো জাতীয়তাবাদ। দেশের প্রতিটি নাগরিকই জাতীয়তাবাদী।”
অনুষ্ঠানে উপস্থাপক প্রশ্ন করেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা মঞ্চে দাঁড়িয়ে ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শ’ শব্দটি ব্যবহার করলে সেটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা যায় কি-না। জবাবে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘তিনি কোনো দলের কথা বলেননি। তিনি বলতে চেয়েছেন, তাঁর বিশ্বাস ও আদর্শ থেকে তিনি সরে যাননি। একজন মানুষ হিসেবে, একজন বাংলাদেশি হিসেবে তিনি যে চেতনা ধারণ করেন, সেটাই প্রকাশ করেছেন।’
সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ তো আমাদের পরিচয়ের অংশ। পাসপোর্টে আমাদের জাতীয়তা বাংলাদেশি লেখা থাকে। সবার আগে বাংলাদেশ—এই বিশ্বাসই জাতীয়তাবাদ। এটাকে দলীয় দৃষ্টিতে দেখলে ভুল ব্যাখ্যা তৈরি হবে।’
টকশোতে তিনি দাবি করেন, রেজাউল করিম মল্লিক তাঁর বক্তব্যে মূলত দীর্ঘ কর্মজীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের বিশ্বাস ও পেশাগত অবস্থান থেকে বিচ্যুত না হওয়ার কথাই তুলে ধরেছেন। “তিনি বলতে চেয়েছেন, শত বাধার মধ্যেও তিনি তাঁর বিশ্বাস থেকে নড়েননি। এখানে খারাপ কিছু নেই,” বলেন মনিরুল হক চৌধুরী।
ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকের বক্তব্য ঘিরে আলোচনা শুরু হলে তাঁর সমর্থকেরা বলছেন, তিনি দলীয় পরিচয় নয়, বরং রাষ্ট্র ও দেশের প্রতি নিজের অবস্থান ও চেতনাকেই তুলে ধরেছেন।



















