সবুজবাগ থানার ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ
- আপডেট: ০৯:৩৭:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
- / ১৮০০২
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর সবুজবাগ থানায় কর্মরত এসআই সৈকত হোসেন সানি,এসআই আব্দুল কাইয়ুম, এএসআই ফেরদৌস রহমান,এএসআই আব্দুর রহমান, এএসআই মো. লিটনসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাদক মামলায় নাম জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ডিএমপি কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দীন ইসলাম নামে এক মোটর পার্টস ব্যবসায়ী।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী দীন ইসলাম উল্লেখ করেছেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসআই সৈকত হোসেন সানি সবুজবাগ থানায় যোগদান করেন। পরে তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে ব্যাবসায়িক ও আর্থিক নানা সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন যোগাযোগ বন্ধ ছিল। বর্তমানে তিনি একটি মোটর পার্টসের দোকানে চাকরি করেন। গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখে সবুজবাগ থানায় দায়ের হওয়া একটি মাদক মামলায় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা হয়।
দীন ইসলামের দাবি, মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি মো. হানিফ ভূইয়াকে ১৩ মে রাতেই গ্রেফতার করে তার কাছ থেকে জব্দকৃত আলামত উদ্ধার করা হয়। কিন্তু ওই ঘটনায় তার কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও এসআই সৈকত হোসেন সানি ও তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে মামলায় জড়িয়ে দেন। অথচ এই মামলার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন দীন ইসলাম। এসআই সৈকত তার সঙ্গীয় ফোর্সসহ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে ওই মামলায় তার নাম জড়িয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট।
লিখিত অভিযোগে আরো দাবি করা হয়েছে- মামলার সাক্ষী জাহিদ হাসানও নাকি দীন ইসলামকে চেনেন না। তিনি দীন ইসলামকে কখনও দেখেননি। শুধু নাম ও বাবার নাম জানতে চাওয়ায় তিনি তা দিয়েছেন। দীন ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, এসআই সৈকত হোসেন সানি ও এসআই আব্দুল কাইয়ুম তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছেন। টাকা না দিলে ভবিষ্যতে সবুজবাগ থানার বড় বড় মামলাতেও তার নাম জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়, এসআই সৈকত হোসেন সানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে। এমনকি তাকে সবুজবাগ থানা থেকে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে তিনি এখনও সেখানে কর্মরত আছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই সৈকত হোসেন সানি বলেন, পুলিশে চাকরি করলে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে এ ধরনের অভিযোগ আসতেই পারে।
সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার আগে জানা ছিল না। গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারলাম। এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতা বা মাদক কারবারিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত তদন্ত করা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।



















