রাজধানীর জুড়ে ছয় স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে: ডিএমপি কমিশনার
- আপডেট: ০২:৩৩:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
- / ১৮০০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ রাজধানীজুড়ে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ঈদের জামাত ও ছুটিতে ফাঁকা হয়ে যাওয়া নগরীর আবাসিক-বাণিজ্যিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
বুধবার (২৭ মে) সকাল দুপুরের জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক এলাকা আংশিক ফাঁকা হয়ে পড়বে। এসব বিষয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ডিএমপি এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, জাতীয় ঈদগাহে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ঢাকাস্থ মুসলিম দেশের কূটনীতিকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ঈদের নামাজ আদায় করবেন। মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য মোট পাঁচটি গেট রাখা হয়েছে, যার মধ্যে চারটি পুরুষ এবং একটি নারী মুসল্লিদের জন্য নির্ধারিত।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, জাতীয় ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। এসবির সুইপিং টিম এবং সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড (K-9) দিয়ে পুরো এলাকা সুইপিং করা হবে। পুরো ঈদগাহ এলাকা ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে ডিএমপির অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ঈদগাহের প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ও ম্যানুয়াল তল্লাশি থাকবে। মৎস্য ভবন ক্রসিং, প্রেস ক্লাব এলাকা ও হাইকোর্ট ক্রসিংয়ে বিশেষ তল্লাশি ও ব্যারিকেড ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন এবং ড্রোন মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যরা সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকবেন। সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট স্ট্যান্ডবাই থাকবে।
নারী মুসল্লিদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, আলাদা প্রবেশ গেট ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার টেন্ডার, জরুরি মেডিকেল টিম এবং পুলিশ সাব-কন্ট্রোল রুমে “লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার” স্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামীকাল সকাল ৬টা থেকে ঈদের নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
মুসল্লিদের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে ঈদগাহে আসা, নিরাপত্তা তল্লাশিতে সহযোগিতা করা, নির্ধারিত স্থানে গাড়ি পার্ক করা এবং কোনো ধরনের ব্যাগ, ধারালো বস্তু, দাহ্য পদার্থ বা অপ্রয়োজনীয় ধাতব বস্তু সঙ্গে না আনার অনুরোধ জানান। সন্দেহজনক কিছু দেখলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানানোর আহ্বানও জানান তিনি।
এদিকে ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হয়ে যাওয়া নগরীর আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার নিরাপত্তায় মোবাইল, ফুট ও মোটরসাইকেল পেট্রোল জোরদার করা হয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন, ব্যাংক, এটিএম বুথ, শপিংমল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিশেষ নজরদারি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মীদের সক্রিয় ডিউটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
এসময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



















