১১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

কোরবানির বর্জ্য নয়, প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার পথে পড়ে ছিল বাসাবাড়ির ময়লা: ডিএনসিসি প্রশাসক

  • আপডেট: ১১:৪০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • / ১৮০০১

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় ঢাকার রাস্তায় পড়ে থাকা বর্জ্য কোরবানির নয়, বরং বাসাবাড়ি থেকে ফেলা গৃহস্থালি ময়লা ছিল বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে শনিবার (৩০ মে) কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের সর্বশেষ অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাউকে না জানিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে হাতিরপুল, ফার্মগেটসহ কয়েকটি এলাকায় যান এবং কিছু স্থানে বর্জ্য জমে থাকতে দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি গণমাধ্যমকে জানান, রাজধানীর হাতিরপুল ও এলিফ্যান্ট রোডে এবং গ্রিনরোড, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় তাদের দু’জনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত ও সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বরখাস্ত আঞ্চলিক কর্মকর্তারা হলেন- ডিএনসিসির (জোন-৫) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান (উপ সচিব) এবং ডিএসসিসির (জোন-১) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির (উপসচিব)।

এই দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আমাদের ৭৫২টি যানবাহন সচল ছিল। ডিএনসিসি অনেক বড় একটি এলাকা। কিছু জায়গায় অল্পসংখ্যক পরিবহন সাময়িকভাবে বিকল হয়ে গিয়েছিল। পরে অন্য জায়গা থেকে ব্যবস্থা নিয়ে সেগুলো সচল করা হয়েছে।

গাফলতির কারণে দুজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে কিনা বা এ বিষয়ে আপনার অভিমত কি? সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্নে প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে রাস্তা দিয়ে গিয়েছিলেন সেখানে কিছু বর্জ্য ছিল। তবে সেই বর্জ্য কোরবানির নয়, বাসাবাড়ির গৃহস্থালি বর্জ্য ছিল। সেই কারণে তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত তাদের ক্লোজ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, কোরবানির বর্জ্য অপসারণে নেওয়া ৭২ ঘণ্টার কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। ঈদের প্রথম তিন দিনে (শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) মোট ১৮ হাজার ৩৪৪ টন বর্জ্য ল্যান্ডফিলে অপসারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঈদের প্রথম দিন আমাদের ট্রিপের সংখ্যা ছিল এক হাজার ৮৮২টি এবং বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৭৬৬ দশমিক ৪৮ টন। দ্বিতীয় দিনে ট্রিপের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৮৩টি এবং বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৭১৪ দশমিক শূন্য ৩ টন। তৃতীয় দিনে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ট্রিপের সংখ্যা ছিল ৮২৭টি এবং বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৫৫৩ টন।

এসময় মেট্রোরেল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কিছু তথ্যকেও ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, এআই দিয়ে তৈরি কিছু ছবি ব্যবহার করে মেট্রোরেলের গ্রিল ভেঙে যাওয়া বা লিফট অচল হয়ে যাওয়ার মতো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এসব তথ্য সম্পূর্ণ অসত্য।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম চলমান থাকবে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামীকাল থেকে মশকবিরোধী অভিযানও শুরু হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

কোরবানির বর্জ্য নয়, প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার পথে পড়ে ছিল বাসাবাড়ির ময়লা: ডিএনসিসি প্রশাসক

আপডেট: ১১:৪০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় ঢাকার রাস্তায় পড়ে থাকা বর্জ্য কোরবানির নয়, বরং বাসাবাড়ি থেকে ফেলা গৃহস্থালি ময়লা ছিল বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে শনিবার (৩০ মে) কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের সর্বশেষ অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাউকে না জানিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে হাতিরপুল, ফার্মগেটসহ কয়েকটি এলাকায় যান এবং কিছু স্থানে বর্জ্য জমে থাকতে দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি গণমাধ্যমকে জানান, রাজধানীর হাতিরপুল ও এলিফ্যান্ট রোডে এবং গ্রিনরোড, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় তাদের দু’জনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত ও সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বরখাস্ত আঞ্চলিক কর্মকর্তারা হলেন- ডিএনসিসির (জোন-৫) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান (উপ সচিব) এবং ডিএসসিসির (জোন-১) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির (উপসচিব)।

এই দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আমাদের ৭৫২টি যানবাহন সচল ছিল। ডিএনসিসি অনেক বড় একটি এলাকা। কিছু জায়গায় অল্পসংখ্যক পরিবহন সাময়িকভাবে বিকল হয়ে গিয়েছিল। পরে অন্য জায়গা থেকে ব্যবস্থা নিয়ে সেগুলো সচল করা হয়েছে।

গাফলতির কারণে দুজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে কিনা বা এ বিষয়ে আপনার অভিমত কি? সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্নে প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে রাস্তা দিয়ে গিয়েছিলেন সেখানে কিছু বর্জ্য ছিল। তবে সেই বর্জ্য কোরবানির নয়, বাসাবাড়ির গৃহস্থালি বর্জ্য ছিল। সেই কারণে তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত তাদের ক্লোজ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, কোরবানির বর্জ্য অপসারণে নেওয়া ৭২ ঘণ্টার কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। ঈদের প্রথম তিন দিনে (শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) মোট ১৮ হাজার ৩৪৪ টন বর্জ্য ল্যান্ডফিলে অপসারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঈদের প্রথম দিন আমাদের ট্রিপের সংখ্যা ছিল এক হাজার ৮৮২টি এবং বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৭৬৬ দশমিক ৪৮ টন। দ্বিতীয় দিনে ট্রিপের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৮৩টি এবং বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৭১৪ দশমিক শূন্য ৩ টন। তৃতীয় দিনে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ট্রিপের সংখ্যা ছিল ৮২৭টি এবং বর্জ্যের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৫৫৩ টন।

এসময় মেট্রোরেল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কিছু তথ্যকেও ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, এআই দিয়ে তৈরি কিছু ছবি ব্যবহার করে মেট্রোরেলের গ্রিল ভেঙে যাওয়া বা লিফট অচল হয়ে যাওয়ার মতো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এসব তথ্য সম্পূর্ণ অসত্য।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম চলমান থাকবে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামীকাল থেকে মশকবিরোধী অভিযানও শুরু হবে।