দুই বোনের কাছ থেকে ছিনতাই: নারায়ণগঞ্জ থেকে মোহাম্মদপুরে এসে ছিনতাই করে আবার ফিরে যেতেন তাঁরা
- আপডেট: ০৩:৫২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
- / ১৮০০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
ঈদ-উল-আজহার ছুটি শেষ করে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাসার সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হন দুই বোন। এ ঘটনায় জড়িত ছিনতাইকারী চক্রের দুজ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, এই ঘটনায় জড়িতরা পেশাদার ছিনতাইকারী। তারা এক সময় মোহাম্মদপুরে থাকতো। তবে পরবর্তীতে গ্রেফতার এড়াতে নারায়নগঞ্জে নতুন আস্তানা গড়ে তোলে। নারায়নগঞ্জ থেকে মোহাম্মদপুরে এসে নিয়মিত ছিনতাই করতো তারা।
বুধবার (০৩ জুন) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘মোহাম্মদপুরের আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনার আসামি গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধার’ প্রসঙ্গে এক সংবাদ সন্মেলনে এসব বলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম।
ফজলুল করিম বলেন, গত (৩১ মে) ভোর আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও থেকে ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরেন দুই বোন। মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোড এলাকায় বাসার সামনে মালামাল নিয়ে নামার পর একটি পিকআপে করে আসা তিন ব্যক্তি তাঁদের চাপাতি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে একটি ট্রলি ব্যাগ, একটি হ্যান্ডব্যাগ ও আরও একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।
ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ। এরপর ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করা হয়। পরে ভুক্তভোগী এক নারী, যিনি পেশায় ব্যাংকার, মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন।
তিনি বলেন, মামলার তদন্তে নেমে প্রথমে জুয়েল নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে ছিনতাই হওয়া ব্যাগ পিকআপে তুলতে দেখা যায়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত পিকআপ ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মাদক মামলা, একটি ডাকাতি মামলা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পরবর্তীতে আনোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে ফজলুল করিম বলেন, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত পিকআপের চালক ও মালিক এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তাঁকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রেফতারর হওয়া দুজনের মধ্যে জুয়েল চাপাতি হাতে ছিলেন এবং আনোয়ার ব্যাগ পিকআপে তুলেছিলেন। এ ছাড়া ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে আরও একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ছিনতাই হওয়া ট্রলি ব্যাগটি এখনো উদ্ধার করা যায়নি। একজন আসামিকে গ্রেফতারের খবর পেয়ে অপর আসামি তার স্ত্রীকে ব্যাগটি সরিয়ে ফেলতে বলেন। ফলে সেটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
মোহাম্মদপুরের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ফজলুল করিম বলেন, মোহাম্মদপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ড ও ভোরে যাত্রী নামার স্থানগুলোতে মোবাইল ও টহল দল সক্রিয় রয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ছিনতাইয়ের এ ঘটনায় ব্যবহৃত পিকআপ, চাপাতি ও ছিনতাই হওয়া কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে একটি ট্রলি ব্যাগ ও একটি মোবাইল ফোন এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান এই কর্মকর্তা।



















