ট্রাফিক আইন ও গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের ওপর দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ
- আপডেট: ০৭:৫৬:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
- / ১৮০০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
ঢাকায় গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে সড়ক নিরাপত্তায় বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি’ (বিআইজিআরএস) এর আওতায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ (জিআরএসপি) এ প্রশিক্ষণ আয়োজন করে।
এদিন সকালে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান।
তিনি ট্রাফিক আইন ও গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সড়কের বাম পাশের লেন চলমান রাখা, উল্টােদিকে গাড়ি চালানো বন্ধ ও নির্দিষ্ট স্থানব্যতীত গাড়ি থামানো বন্ধ করতে ট্রাফিক পুলিশকে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।
ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে শিগগির প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ২০ বছরের অধিক পুরোনো, ফিটনেসবিহীন ও অকেজো যানবাহন বন্ধ ও যত্রতত্র গাড়ি থামানো বন্ধ করা হবে। এতে সড়কে যানজট কমার পাশাপাশি দুর্ঘটনাও কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মো. আনিছুর রহমান। এছাড়া, যানবাহনে জিপিএস সিস্টেম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ডিএমপির এই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক আইন ও গতিসীমা মেনে গাড়ি চালানো ও বাম লেনে ও যত্রতত্র গাড়ি না থামানোর জন্য গাড়িচালকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, গাড়িচালক, মালিকসহ সড়ক ব্যবহারকারী সব নাগরিক যদি সহায়তা করেন তাহলে শহরের সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
ডিএমপির যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-ঢাকা উত্তর) আ স ম শামসুর রহমান ভূঁঞা বলেন, বিআইজিআরএস এর আওতায় গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ এর সহায়তায় ডিএমপি সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনভুক্ত এলাকায় বিমানবন্দর সড়ক, ৩০০ ফিট সড়ক ও লেক রোড- এ তিনটি সড়কে পাইলট আকারে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। যেখানে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তায় অন্যান্য বিষয় নিয়মিত দেখা হবে।
মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, দেশে রোড ক্র্যাশে মৃত্যু ও হতাহত কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন ভেদে সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে এক্সপ্রেসওয়ে, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি হবে ৪০ কিমি/ঘণ্টা, ও অন্যান্য অধিকাংশ সড়কে ৩০ কি.মি./ঘন্টা। শহরে মোটরসাইকেলের সর্বোচ্চ গতি হবে ৩০ কি.মি./ঘন্টা।
বিআইজিআরএস কোঅর্ডিনেটর ও অতিরিক্ত সচিব (অব.) মো. আবদুল ওয়াদুদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএমপির যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-ঢাকা উত্তর) আ স ম শামসুর রহমান ভূঁঞা এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-অ্যাডমিন, প্ল্যানিং ও রিসার্চ) মিনা মাহমুদা। জিআরএসপির সিনিয়র রোড পুলিশিং উপদেষ্টা পিটার জোনস্ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব হোসেন, ভাইটাল স্ট্রাটেজিস এর টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর আমিনুল ইসলাম সুজন, ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট এর কনসালটেন্ট ফারজানা ইসলাম তমা, বিআইজিআরএস এর এনফোর্সমেন্ট কোঅর্ডিনেটর মো. গোলাম হোসেন, ট্রান্সপোর্ট কোর্ডিনেটর ইঞ্জি. রেজাউর রহমান ও সার্ভিলেন্স কোঅর্ডিনেটর ডা. তানভীর ইবনে আলী প্রমুখ।
এ প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন জিআরএসপির প্রশিক্ষক পিটার জোনস্। তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের রোড ক্র্যাশ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের ভূমিকা, রোড ক্র্যাশের ক্ষেত্রে যানবাহনের উচ্চগতি ও গতি নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ও রাস্তার পাশের চেকপয়েন্টগুলোর নিরাপদ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদির উপর আলোচনা করেন। এ সময় তারা গতির কারণে বিভিন্ন ঝুঁকি অডিওভিজ্যুয়াল চিত্র, গ্রাফ ও বিভিন্ন দেশের গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন।
প্রশিক্ষণে ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিটের ট্রাফিক সার্জেন্ট, উপ-পরিদর্শক, পুলিশ পরিদর্শক, সহকারী/উপ-পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার ৩০ জন ও ডিএনসিসির ৫জন প্রকৌশলী অংশ নেন।



















