আশুলিয়ায় পরকিয়ার সন্দেহ থেকে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার
- আপডেট: ০৩:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৮০২৮
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় পোশাককর্মী বিথী আক্তার (২২) চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। পরকীয়ার সন্দেহের জেরে স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যার ঘটনায় পলাতক স্বামী মো. মজনু রাজাকে (৩৯) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, গত ১৩ আগস্ট সকালে আশুলিয়ার জামগড়া রূপায়ন মাঠ সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে বিথী আক্তারের গলায় গামছা পেঁচানো মৃতদেহ উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। নিহতের পিতা মো. বাদশা মিয়ার দায়ের করা মামলার পর গত ১৬ আগস্ট স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই ঢাকা জেলা।
পুলিশ সুপার মোর্শেদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৬ অক্টোবর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট থানাধীন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী খাসপাড়া বাজার এলাকা থেকে আসামি মজনু রাজাকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি জানান, প্রায় চার বছর পূর্বে তাদের বিয়ে হয় এবং পরবর্তীতে তারা আশুলিয়ার জামগড়ায় বসবাস শুরু করেন। মজনু গ্যারেজে মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন এবং তার স্ত্রী বিথী একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। স্ত্রীর কর্মস্থলের সহকর্মীদের সঙ্গে চলাফেরা ও মুঠোফোনে কথা বলা নিয়ে মজনু তাকে সন্দেহ করতেন, যা নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ হতো। ঘটনার দিন গত ১২ আগস্ট রাতে গ্যারেজের কাজ শেষে বাসায় ফেরার পর এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে মজনু তার স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে খাটের ওপর ফেলে দেন এবং গামছা দিয়ে গলায় শক্ত করে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যান।
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার পর থেকেই আসামিকে গ্রেফতারে ছায়াতদন্ত অব্যাহত ছিল। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।




















