০১:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

বিদেশী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিনিয়োগ প্রতারণা, চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

  • আপডেট: ০৯:২৫:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৮০১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

নেদারল্যান্ডসের Withlocals নামীয় প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ক্লোন করে একই নাম ও ডিজাইনে একটি ভুয়া ওয়েবপেজ তৈরি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিনিয়োগ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতারণা চক্রের মূলহোতাসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- তৌহিদ ভূঁইয়া (২১),হৃদয় হাসান (২১)।

বৃহস্পতিবার (০৮জানুয়ারি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, প্রতারক চক্র নিজেদের তৈরি করা ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংক চক্রের অন্যন্য সদস্যদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠিয়েছিল। নিজেদেরকে সেই বিদেশি কোম্পানির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দ্রুত লভ্যাংশ প্রদানের প্রতিশ্রুতিতে ভিকটিমদের নানা প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে। এরপর বিভিন্ন অংকের অর্থ বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করে। ভুক্তভোগী ভুয়া প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ করে। এভাবে অন্তত একজন ভিকটিমের কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে পল্টন থানার মামলা দায়ের করে।

তদন্তের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযুক্ত হৃদয় হাসান (২১) দীর্ঘদিন ধরে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ ব্যবহার করে বিদেশি কোম্পানিতে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করে আসছিল। গতকাল (০৭জানুয়ারি) সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের একটি আভিযানিক দল তৌহিদ ভূঁইয়া (২১) কে জামালপুর স্টেশন রোড এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিনে প্রতারণা চক্রের মূল হোতা হৃদয় হাসান (২১)কে একই এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে তার কাছ থেকে জব্দকৃত স্মার্টফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে জানা যায়, সে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা প্রায় ৩০টি ব্যাংক হিসাব নিয়ন্ত্রণ করত। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত দুটি বাইনান্স অ্যাকাউন্ট ভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা হলেও অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে অভিযুক্ত হৃদয় হাসান এর বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত ছিল।

ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, হৃদয়ের স্মার্টফোনে ১৫টি কিউআর কোড রয়েছে, যার মাধ্যমে সে একাধিক টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে লগইন করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। সে নিজেকে একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার দাবি করে ওয়েবপেজ ডেভেলপমেন্টের কাজ করার কথা বললেও বাস্তবে বিদেশি কোম্পানির ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিনিয়োগ প্রতারণায় লিপ্ত ছিল।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে বাইনান্স অ্যাকাউন্টের লেনদেন, সংশ্লিষ্ট ৩০টি ব্যাংক হিসাবের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক তথ্য, ভিকটিমের সংখ্যা এবং চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্তে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

বিদেশী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিনিয়োগ প্রতারণা, চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

আপডেট: ০৯:২৫:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

নেদারল্যান্ডসের Withlocals নামীয় প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ক্লোন করে একই নাম ও ডিজাইনে একটি ভুয়া ওয়েবপেজ তৈরি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিনিয়োগ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতারণা চক্রের মূলহোতাসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- তৌহিদ ভূঁইয়া (২১),হৃদয় হাসান (২১)।

বৃহস্পতিবার (০৮জানুয়ারি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, প্রতারক চক্র নিজেদের তৈরি করা ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংক চক্রের অন্যন্য সদস্যদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠিয়েছিল। নিজেদেরকে সেই বিদেশি কোম্পানির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দ্রুত লভ্যাংশ প্রদানের প্রতিশ্রুতিতে ভিকটিমদের নানা প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে। এরপর বিভিন্ন অংকের অর্থ বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করে। ভুক্তভোগী ভুয়া প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ করে। এভাবে অন্তত একজন ভিকটিমের কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে পল্টন থানার মামলা দায়ের করে।

তদন্তের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযুক্ত হৃদয় হাসান (২১) দীর্ঘদিন ধরে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ ব্যবহার করে বিদেশি কোম্পানিতে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করে আসছিল। গতকাল (০৭জানুয়ারি) সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের একটি আভিযানিক দল তৌহিদ ভূঁইয়া (২১) কে জামালপুর স্টেশন রোড এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিনে প্রতারণা চক্রের মূল হোতা হৃদয় হাসান (২১)কে একই এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে তার কাছ থেকে জব্দকৃত স্মার্টফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে জানা যায়, সে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা প্রায় ৩০টি ব্যাংক হিসাব নিয়ন্ত্রণ করত। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত দুটি বাইনান্স অ্যাকাউন্ট ভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা হলেও অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে অভিযুক্ত হৃদয় হাসান এর বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত ছিল।

ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, হৃদয়ের স্মার্টফোনে ১৫টি কিউআর কোড রয়েছে, যার মাধ্যমে সে একাধিক টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে লগইন করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। সে নিজেকে একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার দাবি করে ওয়েবপেজ ডেভেলপমেন্টের কাজ করার কথা বললেও বাস্তবে বিদেশি কোম্পানির ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিনিয়োগ প্রতারণায় লিপ্ত ছিল।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে বাইনান্স অ্যাকাউন্টের লেনদেন, সংশ্লিষ্ট ৩০টি ব্যাংক হিসাবের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক তথ্য, ভিকটিমের সংখ্যা এবং চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্তে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।