০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হোটেল কর্মচারীর অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মালিকের মেয়েকে গলাকেটে হত্যা

  • আপডেট: ০৪:৫১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৮০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর বনশ্রীতে বাবার হোটেলের কর্মচারীর হাতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার নিলি(১৮)কে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় ঘাতককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

র‍্যাব জানিয়েছে, অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়া এবং এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কর্মচারী হত্যাকাণ্ডটি ঘটান।

গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মো. মিলন মল্লিক। তিনি বাগেরহাটের মান্ডা বাশখালী এলাকার মৃত সেকেন্দারের মল্লিকের ছেলে।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে বাগেরহাটে র‍্যাবের একাধিক ব্যাটালিয়নের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার(১২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতকে গ্রেফতারে র‍্যাব তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘটনার দিন দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন মল্লিক ভিকটিমের বাসায় প্রবেশ করেন এবং ১টা ৪১ মিনিটে ভিকটিমের বড় বোন শোভা আক্তারের সঙ্গে বাসা থেকে বের হয়ে যান। পরে ভিকটিমের বোন জিমে চলে গেলে বিকেল ২টা ২৫ মিনিটে মিলন পুনরায় একা বাসায় প্রবেশ করেন এবং প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান শেষে ২টা ৪৫ মিনিটে বের হয়ে যান।

প্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব জানতে পারে, ঘটনার পর মিলন বাগেরহাটে পালিয়ে গেছেন। এরপর র‍্যাব-৩ ও র‍্যাব-৬ এর যৌথ দল বাগেরহাট সদর থানার সিংগা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভিকটিমকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতেও খাবার দিতে গিয়ে একই প্রস্তাব দিলে ভিকটিম তাকে বকাঝকা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

র‍্যাব জানায়, ঘটনার দিন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নাইলনের দড়ি নিয়ে মিলন ভিকটিমের বাসায় যান। একপর্যায়ে অনৈতিক প্রস্তাবে আবারও রাজি না হওয়ায় তিনি দড়ি দিয়ে গলা চেপে ধরেন। ভিকটিম চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় রান্নাঘরে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করেন। হত্যার পর বাসার আসবাবপত্র তল্লাশি করে কিছু নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান।

গ্রেফতার অভিযানে মিলনের কাছ থেকে ঘটনার সময় পরিহিত কালো প্যান্ট ও নীল গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত অস্ত্র ও নাইলনের দড়ি উদ্ধার করে পুলিশ।

র‍্যাব ৩ এর অধিনায়ক জানান, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সহযোগী রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

হোটেল কর্মচারীর অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মালিকের মেয়েকে গলাকেটে হত্যা

আপডেট: ০৪:৫১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর বনশ্রীতে বাবার হোটেলের কর্মচারীর হাতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার নিলি(১৮)কে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় ঘাতককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

র‍্যাব জানিয়েছে, অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়া এবং এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কর্মচারী হত্যাকাণ্ডটি ঘটান।

গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মো. মিলন মল্লিক। তিনি বাগেরহাটের মান্ডা বাশখালী এলাকার মৃত সেকেন্দারের মল্লিকের ছেলে।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে বাগেরহাটে র‍্যাবের একাধিক ব্যাটালিয়নের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার(১২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতকে গ্রেফতারে র‍্যাব তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘটনার দিন দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন মল্লিক ভিকটিমের বাসায় প্রবেশ করেন এবং ১টা ৪১ মিনিটে ভিকটিমের বড় বোন শোভা আক্তারের সঙ্গে বাসা থেকে বের হয়ে যান। পরে ভিকটিমের বোন জিমে চলে গেলে বিকেল ২টা ২৫ মিনিটে মিলন পুনরায় একা বাসায় প্রবেশ করেন এবং প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান শেষে ২টা ৪৫ মিনিটে বের হয়ে যান।

প্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব জানতে পারে, ঘটনার পর মিলন বাগেরহাটে পালিয়ে গেছেন। এরপর র‍্যাব-৩ ও র‍্যাব-৬ এর যৌথ দল বাগেরহাট সদর থানার সিংগা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভিকটিমকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতেও খাবার দিতে গিয়ে একই প্রস্তাব দিলে ভিকটিম তাকে বকাঝকা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

র‍্যাব জানায়, ঘটনার দিন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নাইলনের দড়ি নিয়ে মিলন ভিকটিমের বাসায় যান। একপর্যায়ে অনৈতিক প্রস্তাবে আবারও রাজি না হওয়ায় তিনি দড়ি দিয়ে গলা চেপে ধরেন। ভিকটিম চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় রান্নাঘরে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করেন। হত্যার পর বাসার আসবাবপত্র তল্লাশি করে কিছু নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান।

গ্রেফতার অভিযানে মিলনের কাছ থেকে ঘটনার সময় পরিহিত কালো প্যান্ট ও নীল গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত অস্ত্র ও নাইলনের দড়ি উদ্ধার করে পুলিশ।

র‍্যাব ৩ এর অধিনায়ক জানান, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সহযোগী রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।