সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা,সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্যসহ গ্রেফতার ২
- আপডেট: ০৩:৫৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
- / ১৮০০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার অভিযোগে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০। এ ঘটনায় তার এক সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন–চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য তারেক সরকার (৪০) ও পলাশ কবির (৪২)।
সোমবার (২৫ মে) সকালে র্যাব-১০ সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নটির অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। এসময় র্যাব-১০ সদরদপ্তরের কোম্পানি কমান্ডার সোনালী সেন ও মিডিয়া কর্মকর্তা তাপস কর্মকার উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃত মো. তারেক সরকার (৪০) নরসিংদী সদর এলাকার বাসিন্দা। প্রায় তিন বছর ধরে তিনি সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন।
র্যাব জানায়, তারেক সরকার মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন চাকরিচ্যুত সদস্য। ২০০৬ সালে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সেনাবাহিনী থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পরে তিনি তথ্য গোপন করে কারা অধিদপ্তরে চাকরি নেন এবং প্রায় ১৪ বছর সেখানে কর্মরত ছিলেন। ২০২০ সালে বিভাগীয় মামলার কারণে সেখান থেকেও চাকরি হারান।
দীর্ঘদিন সরকারি পরিবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি সরকারি কর্মকর্তা ও বাহিনীগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা অর্জন করেন। পরবর্তীতে সেই অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে র্যাব।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রতারণার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন উৎস থেকে ভুয়া ও তথাকথিত ‘ভিআইপি’ মোবাইল সিম সংগ্রহ করতেন তারেক। এসব সিম ব্যবহার করে সরকারি ও সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলতেন। এরপর ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন সিনিয়র কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে চাকরি দেওয়ার নামে প্রভাব বিস্তার ও সুপারিশ করতেন।
একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতেন।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, গত ছয় বছর ধরে তিনি এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন।
র্যাব জানায়, বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে একটি আভিযানিক দল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তারেক সরকারের অবস্থান শনাক্ত করে গত ২৪ মে নরসিংদী সদরের সঙ্গীতা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও আলামত জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া আলামতের মধ্যে একটি বাঁধানো ছবি রয়েছে, যেখানে ফটোশপের মাধ্যমে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তারেক সরকারের ছবি সংযুক্ত করা হয়েছিল।
র্যাবের দাবি, এসব ছবি ব্যবহার করে তিনি প্রতারণার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, এ ঘটনায় তারেক সরকারের সহযোগী হিসেবে মো. পলাশ কবির (৪২) নামে আরেক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। পরে র্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে তাকেও গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।



















