০৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬

এল এ শাখায় সার্ভেয়ার মোনারুলের ঘুষ বাণিজ্য

  • আপডেট: ০৬:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • / ১৮০০৮

মোঃ মনিরুজ্জামান মনির :

রাজধানীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা-২ নিয়ে নতুন করে নানা অভিযোগ ও প্রশ্ন সামনে আসছে। ক্ষতিপূরণ ফাইল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা, আবেদনকারীদের হয়রানি, প্রভাব খাটিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং বিতর্কিত ক্ষতিপূরণ বণ্টনের অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সার্ভেয়ার মোনারুলের নাম। অভিযোগকারীদের দাবি এলএ শাখা-২-এর গুরুত্বপূর্ণ অনেক ফাইল কার্যত সার্ভেয়ার মোনারুলের পর্যবেক্ষণ ও মতামতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পরও ফাইল দীর্ঘদিন ধরে অগ্রসর হয় না। ফলে ক্ষতিপূরণ প্রত্যাশীরা বারবার অফিসে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসছেন। অভিযোগকারীরা বলছেন সরকারি সেবার নির্ধারিত কাঠামোর বাইরে একটি অদৃশ্য প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে যার কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায্য সেবা পেতে নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন। ভুক্তভোগীদের একটি অংশের অভিযোগ বলিয়ারপুর মৌজার ২৩/২০-২১ এলএ ৮/২২-২৩ দাগের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত ফাইল দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। তাদের দাবি প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়া এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে ভুমি অধিগ্রহন ক্ষতিপুরনের টাকা পেতে যারা সার্ভেয়ার মোনারুলকে তার চাহিত ঘুষের টাকা প্রদান করেছে তারাই ক্ষতিপুরণ বিল পেয়েছে আর যারা ঘুষ দিতে পারেনি তারা কোনপ্রকার বিল পাননি। এদিকে পূর্বে উত্থাপিত অভিযোগে বিরুলিয়া মৌজার বিআরএস রেকর্ডভুক্ত ৩০১৪, ৩০১৫ ও ৯০২ কয়েকটি দাগের ক্ষতিপূরণ বিতরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি প্রকৃত মালিকদের পরিবর্তে অন্যদের অনুকূলে অর্থ ছাড় করা হয়েছে। তারা বলছেন সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, আদালতের আদেশ এবং ক্ষতিপূরণ বিতরণের পুরো প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে।
অনুসন্ধানে জানা যায় সার্ভেয়ার মোনারুলের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায় এবং সিরাজগঞ্জ সদরের সাবেক সংসদ সদস্য জান্নাত আরা হেন্ডির আশীর্বাদ তুষ্ট হয়ে ঢাকা ডিসি অফিসে যোগদান করেন। আ.লীগের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। কেউ কেউ অভিযোগ করেন এই সম্পর্কের কারণেই তিনি প্রশাসনিক অঙ্গনে সুবিধা পেয়েছেন। তাছাড়া রাজধানীর মিরপুর এলাকায় মোনারুলের নামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি তার দৃশ্যমান সম্পদ ও জীবনযাত্রার ধরন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং এসব সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। ভুক্তভোগীদের একটি অংশ অভিযোগ করেন এলএ শাখা-২-এ এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে সাধারণ আবেদনকারীরা নিজেদের অসহায় মনে করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী ফাইলের অগ্রগতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া কঠিন এবং অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। তারা মনে করেন পুরো প্রক্রিয়ায় অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন যাতে আবেদনকারীরা অনলাইনে বা নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের ফাইলের অবস্থান জানতে পারেন।
কয়েকজন অভিযোগকারী দাবি করেছেন, সার্ভেয়ার মোনারুল নিজেকে অফিসের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন এবং জেলা প্রশাসকের সাথে ও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে তার বিশেষ যোগাযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে প্রচার করেন।
সার্ভেয়ার মোনারুল কোন আইনেরই তোয়াক্কা করেন না। তিনি জেলা প্রশাসকের ডান হাত ও তার কুকর্ম ঢাকতে জেলা প্রশাসক তথা ভুমি মন্ত্রনালয়ের উর্ধ্বতন কর্তব্যক্তিদের টাকা দিয়ে মেনেজ করে রেখেছেন বলে স্বয়ং মোনারুল নিজেই বলে বেড়ান।
আরও অভিযোগ রয়েছে এলএ শাখার সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত কানুনগো আতিকুল, অফিস সহকারী নাজমুল, সার্ভেয়ার শহিদুল সমন্বয়ে সার্ভেয়ার মোনারুল ঘুষ বানিজ্যের এক শক্তিশালি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। যারা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী এই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে হলে অতীতের ক্ষতিপূরণ বিতরণ, ফাইল নিষ্পত্তির সময়কাল এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত প্রকাশ হয়নি।
অভিযোগকারীদের কেউ কেউ আরও দাবি করেছেন অতীতে মোনারুল আ.লীগের রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতেন এবং সেই পরিচয়ের কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছেন। সুশাসন বিশ্লেষকদের মতে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ বিতরণ অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। কারণ উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে জমি হারানো মানুষের কাছে ক্ষতিপূরণের অর্থই অনেক সময় নতুনভাবে জীবন গঠনের প্রধান অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায়। ফলে এই খাতে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত তদন্ত করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা জোরদার করা, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ফাইল নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা তৈরি করা এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তের লিখিত কারণ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন অনিয়মের সুযোগ কমবে, অন্যদিকে আবেদনকারীদের ভোগান্তিও হ্রাস পাবে।
ভুক্তভোগী দাবি করা ব্যক্তিরা বলছেন তারা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা চান না বরং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত চান। তাদের দাবি ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত সব বিতর্কিত ফাইল পুনরায় যাচাই করা হোক, প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হোক এবং যেকোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এদিকে প্রশাসনিক অঙ্গনের একাধিক পর্যবেক্ষক মনে করেন অভিযোগের সংখ্যা ও ব্যাপকতা বিবেচনায় বিষয়গুলো উপেক্ষা না করে যথাযথ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। ফলে এলএ শাখা-২ ঘিরে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ। বর্তমানে ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারীদের প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এল এ শাখায় সার্ভেয়ার মোনারুলের ঘুষ বাণিজ্য

আপডেট: ০৬:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

মোঃ মনিরুজ্জামান মনির :

রাজধানীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা-২ নিয়ে নতুন করে নানা অভিযোগ ও প্রশ্ন সামনে আসছে। ক্ষতিপূরণ ফাইল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা, আবেদনকারীদের হয়রানি, প্রভাব খাটিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং বিতর্কিত ক্ষতিপূরণ বণ্টনের অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সার্ভেয়ার মোনারুলের নাম। অভিযোগকারীদের দাবি এলএ শাখা-২-এর গুরুত্বপূর্ণ অনেক ফাইল কার্যত সার্ভেয়ার মোনারুলের পর্যবেক্ষণ ও মতামতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পরও ফাইল দীর্ঘদিন ধরে অগ্রসর হয় না। ফলে ক্ষতিপূরণ প্রত্যাশীরা বারবার অফিসে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসছেন। অভিযোগকারীরা বলছেন সরকারি সেবার নির্ধারিত কাঠামোর বাইরে একটি অদৃশ্য প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে যার কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায্য সেবা পেতে নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন। ভুক্তভোগীদের একটি অংশের অভিযোগ বলিয়ারপুর মৌজার ২৩/২০-২১ এলএ ৮/২২-২৩ দাগের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত ফাইল দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। তাদের দাবি প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়া এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে ভুমি অধিগ্রহন ক্ষতিপুরনের টাকা পেতে যারা সার্ভেয়ার মোনারুলকে তার চাহিত ঘুষের টাকা প্রদান করেছে তারাই ক্ষতিপুরণ বিল পেয়েছে আর যারা ঘুষ দিতে পারেনি তারা কোনপ্রকার বিল পাননি। এদিকে পূর্বে উত্থাপিত অভিযোগে বিরুলিয়া মৌজার বিআরএস রেকর্ডভুক্ত ৩০১৪, ৩০১৫ ও ৯০২ কয়েকটি দাগের ক্ষতিপূরণ বিতরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি প্রকৃত মালিকদের পরিবর্তে অন্যদের অনুকূলে অর্থ ছাড় করা হয়েছে। তারা বলছেন সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, আদালতের আদেশ এবং ক্ষতিপূরণ বিতরণের পুরো প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে।
অনুসন্ধানে জানা যায় সার্ভেয়ার মোনারুলের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায় এবং সিরাজগঞ্জ সদরের সাবেক সংসদ সদস্য জান্নাত আরা হেন্ডির আশীর্বাদ তুষ্ট হয়ে ঢাকা ডিসি অফিসে যোগদান করেন। আ.লীগের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। কেউ কেউ অভিযোগ করেন এই সম্পর্কের কারণেই তিনি প্রশাসনিক অঙ্গনে সুবিধা পেয়েছেন। তাছাড়া রাজধানীর মিরপুর এলাকায় মোনারুলের নামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি তার দৃশ্যমান সম্পদ ও জীবনযাত্রার ধরন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং এসব সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। ভুক্তভোগীদের একটি অংশ অভিযোগ করেন এলএ শাখা-২-এ এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে সাধারণ আবেদনকারীরা নিজেদের অসহায় মনে করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী ফাইলের অগ্রগতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া কঠিন এবং অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। তারা মনে করেন পুরো প্রক্রিয়ায় অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন যাতে আবেদনকারীরা অনলাইনে বা নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের ফাইলের অবস্থান জানতে পারেন।
কয়েকজন অভিযোগকারী দাবি করেছেন, সার্ভেয়ার মোনারুল নিজেকে অফিসের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন এবং জেলা প্রশাসকের সাথে ও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে তার বিশেষ যোগাযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে প্রচার করেন।
সার্ভেয়ার মোনারুল কোন আইনেরই তোয়াক্কা করেন না। তিনি জেলা প্রশাসকের ডান হাত ও তার কুকর্ম ঢাকতে জেলা প্রশাসক তথা ভুমি মন্ত্রনালয়ের উর্ধ্বতন কর্তব্যক্তিদের টাকা দিয়ে মেনেজ করে রেখেছেন বলে স্বয়ং মোনারুল নিজেই বলে বেড়ান।
আরও অভিযোগ রয়েছে এলএ শাখার সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত কানুনগো আতিকুল, অফিস সহকারী নাজমুল, সার্ভেয়ার শহিদুল সমন্বয়ে সার্ভেয়ার মোনারুল ঘুষ বানিজ্যের এক শক্তিশালি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। যারা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী এই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে হলে অতীতের ক্ষতিপূরণ বিতরণ, ফাইল নিষ্পত্তির সময়কাল এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত প্রকাশ হয়নি।
অভিযোগকারীদের কেউ কেউ আরও দাবি করেছেন অতীতে মোনারুল আ.লীগের রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতেন এবং সেই পরিচয়ের কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছেন। সুশাসন বিশ্লেষকদের মতে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ বিতরণ অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। কারণ উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে জমি হারানো মানুষের কাছে ক্ষতিপূরণের অর্থই অনেক সময় নতুনভাবে জীবন গঠনের প্রধান অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায়। ফলে এই খাতে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত তদন্ত করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা জোরদার করা, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ফাইল নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা তৈরি করা এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তের লিখিত কারণ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন অনিয়মের সুযোগ কমবে, অন্যদিকে আবেদনকারীদের ভোগান্তিও হ্রাস পাবে।
ভুক্তভোগী দাবি করা ব্যক্তিরা বলছেন তারা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা চান না বরং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত চান। তাদের দাবি ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত সব বিতর্কিত ফাইল পুনরায় যাচাই করা হোক, প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হোক এবং যেকোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এদিকে প্রশাসনিক অঙ্গনের একাধিক পর্যবেক্ষক মনে করেন অভিযোগের সংখ্যা ও ব্যাপকতা বিবেচনায় বিষয়গুলো উপেক্ষা না করে যথাযথ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। ফলে এলএ শাখা-২ ঘিরে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ। বর্তমানে ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারীদের প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।