০৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

অবশেষে আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের এসিল্যান্ড শাহাদাত হোসেন খানকে অনিয়মের দায়ে শোকজ

  • আপডেট: ০৮:০৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / ১৮০০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকার সাভারের আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খানের দায়িত্বকালেই এই রাজস্ব সার্কেলে নানা অনিয়ম, গ্রাহক হয়রানি এবং ঘুষবাণিজ্যের বিস্তার ঘটেছে। বিশেষ করে নামজারি, মিসকেস নিষ্পত্তি, খতিয়ান সংশোধন ও ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলে কোনো কাজ ঘুষ ছাড়া সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নামজারির আবেদন থেকে শুরু করে মিসকেস নিষ্পত্তির প্রতিটি ধাপেই মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালচক্রের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অনেকে দাবি করেন, নিয়মিত সরকারি ফি পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে বারবার উঠে এসেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খানের নাম। ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া, বারবার অফিসে ঘোরানো এবং দালালদের মাধ্যমে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়ার মতো ঘটনা প্রায় নিয়মিত। তাদের মতে, সরকারি সেবাকে সহজ ও জনবান্ধব করার পরিবর্তে জটিল করে তোলা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে শাহাদাত হোসেন খানের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এসব অভিযোগের কারণে এলাকাবাসী ও সেবাপ্রত্যাশীরা তাকে অন্যত্র বদলির দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের ভাষ্য, প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সম্প্রতি দৈনিক সোনালী খবরে আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখ সকালে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আকস্মিকভাবে সাভারের আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেল এবং আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি অফিসের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেন বলে জানা গেছে। সরকারি সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক ওই পরিদর্শনের সময় আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। পরবর্তীতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নুসরাত জাহান নিসু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খানসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসে বিলম্বে উপস্থিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২ মার্চ ২০২৬ তারিখের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু পরিদর্শনের সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খানসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে অফিসকক্ষে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সরকারি বিধিবিধানের পরিপন্থী হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের শোকজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে যেসব অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানির অভিযোগ উঠছিল, আকস্মিক পরিদর্শনে তার কিছু প্রতিফলন দেখা গেছে। তারা মনে করেন, শুধু শোকজ করেই দায় শেষ না করে অভিযোগগুলোর গভীর তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী সেবাপ্রার্থীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ভূমি অফিস মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেবাকেন্দ্র। সেখানে যদি ঘুষ, দুর্নীতি ও হয়রানির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়সঙ্গত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। তারা আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সার্বিক কার্যক্রম তদন্ত, অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এবং জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে শাহাদাত হোসেন খান বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

অবশেষে আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের এসিল্যান্ড শাহাদাত হোসেন খানকে অনিয়মের দায়ে শোকজ

আপডেট: ০৮:০৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকার সাভারের আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খানের দায়িত্বকালেই এই রাজস্ব সার্কেলে নানা অনিয়ম, গ্রাহক হয়রানি এবং ঘুষবাণিজ্যের বিস্তার ঘটেছে। বিশেষ করে নামজারি, মিসকেস নিষ্পত্তি, খতিয়ান সংশোধন ও ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলে কোনো কাজ ঘুষ ছাড়া সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নামজারির আবেদন থেকে শুরু করে মিসকেস নিষ্পত্তির প্রতিটি ধাপেই মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালচক্রের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অনেকে দাবি করেন, নিয়মিত সরকারি ফি পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে বারবার উঠে এসেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খানের নাম। ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া, বারবার অফিসে ঘোরানো এবং দালালদের মাধ্যমে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়ার মতো ঘটনা প্রায় নিয়মিত। তাদের মতে, সরকারি সেবাকে সহজ ও জনবান্ধব করার পরিবর্তে জটিল করে তোলা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে শাহাদাত হোসেন খানের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এসব অভিযোগের কারণে এলাকাবাসী ও সেবাপ্রত্যাশীরা তাকে অন্যত্র বদলির দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের ভাষ্য, প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সম্প্রতি দৈনিক সোনালী খবরে আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখ সকালে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আকস্মিকভাবে সাভারের আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেল এবং আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি অফিসের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেন বলে জানা গেছে। সরকারি সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক ওই পরিদর্শনের সময় আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। পরবর্তীতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নুসরাত জাহান নিসু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খানসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসে বিলম্বে উপস্থিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২ মার্চ ২০২৬ তারিখের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু পরিদর্শনের সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খানসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে অফিসকক্ষে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সরকারি বিধিবিধানের পরিপন্থী হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের শোকজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে যেসব অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানির অভিযোগ উঠছিল, আকস্মিক পরিদর্শনে তার কিছু প্রতিফলন দেখা গেছে। তারা মনে করেন, শুধু শোকজ করেই দায় শেষ না করে অভিযোগগুলোর গভীর তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী সেবাপ্রার্থীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ভূমি অফিস মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেবাকেন্দ্র। সেখানে যদি ঘুষ, দুর্নীতি ও হয়রানির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়সঙ্গত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। তারা আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের সার্বিক কার্যক্রম তদন্ত, অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এবং জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে শাহাদাত হোসেন খান বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।