নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণচেষ্টা,থানায় বাদীকে হেনস্থা,গ্রেফতার ২
- আপডেট: ০৭:০২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
- / ১৮০০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর
নোয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিম চর উরিয়া গ্রামে শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী এক যুবতীকে (২৫) ধর্ষণের চেষ্টা এবং পরবর্তীতে বিচার চাইতে গিয়ে হামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদীকে থানার মধ্যে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক ও তার বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে সুধারাম মডেল থানা এলাকা থেকে অভিযুক্ত মেহেরাজুল ইসলাম (২০) ও তার বাবা আবদুল মন্নানকে গ্রেফতার করা হয়। তারা নোয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম চর উরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর মা জানান, মেহেরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তার শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে উত্যক্ত করে আসছিল। গত ৭ জুন সকাল ৮টার দিকে মেয়েকে ঘরের সামনে হুইলচেয়ারে বসিয়ে রেখে গৃহস্থালি কাজে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর মেয়েকে না দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে পাশের একটি বাগান থেকে গোঙানি ও ধস্তাধস্তির শব্দ পান। সেখানে গিয়ে দেখেন, মেহেরাজুল তার মেয়ের কাপড় খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করছে। উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিচার চাইলে অভিযুক্তের পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে একই দিন সকাল ১১টার দিকে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় ভাঙচুরের পাশাপাশি তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর ৮ জুন সুধারাম মডেল থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ১৭ জুন নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করলে আদালত সেটিকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেন, শুক্রবার থানার পক্ষ থেকে স্বাক্ষরের জন্য ডাকা হলে তিনি সেখানে গেলে অভিযুক্তরা তাকে দেখে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এসময় তাকে ধাক্কাধাক্কি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। তার ছোট ভাই বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণচেষ্টা ও বাড়িতে হামলার মামলায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে থানায় বাদীকে হেনস্থার বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান তিনি।



















