ক্রসফায়ার বিতর্কে আইজিপির বক্তব্যের পক্ষে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন
- আপডেট: ০৬:১১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৮০০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যকে ‘সময়োপযোগী আহ্বান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলেছে, প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের আলোকে আইজিপির বক্তব্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আইজিপির বক্তব্যের মূল তাৎপর্য হলো, প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ বাস্তবায়ন, জননিরাপত্তা রক্ষা এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিশ্চিত করা।
সম্প্রতি দেশের পরিবর্তিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মব কালচার এবং গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের আইন প্রয়োগে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ সর্বদা সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, আইনানুগ দায়িত্ব পালন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ।
দণ্ডবিধি, ১৮৬০; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮; পুলিশ আইন, ১৮৬১ এবং পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গলসহ প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানে পুলিশের ক্ষমতা ও দায়িত্বের সুস্পষ্ট কাঠামো রয়েছে। এসব বিধানের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি মানবাধিকার, সাংবিধানিক অধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ।
বিপিএসএর বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশের আইনানুগ কঠোরতাকে একদিকে নেতিবাচকভাবে দেখা এবং অপরাধ দমনে নিষ্ক্রিয়তাকে অন্যদিকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
আইনের সীমার মধ্যে থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিশ্চিত করাই আইজিপির বক্তব্যের মূল তাৎপর্য বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এই বাস্তবতা পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা ও তাদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পুলিশ সদস্যদের এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি, যেখানে তারা আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে নির্ভয়ে, নিরপেক্ষভাবে এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আত্মরক্ষার অধিকার বা ‘রাইট টু প্রাইভেট ডিফেন্স’-এর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বিশ্বাস করে, একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সুদৃঢ় আইনশৃঙ্খলা অপরিহার্য। জনগণ পুলিশের কাছে জানমালের নিরাপত্তা, অপরাধ দমন, ন্যায়বিচার, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি প্রত্যাশা করে।
তাই আইনানুগ ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগে দ্বিধা না করে দৃঢ়তা, পেশাদারত্ব ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা জরুরি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, অপরাধ দমনে পুলিশ আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগে অযথা দ্বিধাগ্রস্ত হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে। এতে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
অন্যদিকে, আইনের সীমা অতিক্রম না করে দৃঢ়তা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনই পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করার মূল ভিত্তি।
বিপিএসএর মতে, আইজিপির বক্তব্যকে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ, দৃঢ় ও আপসহীন বাস্তবায়নের আহ্বান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করার বিষয়টিও এ বক্তব্যের তাৎপর্যের মধ্যে রয়েছে।
কী বলেছিলেন আইজিপি
সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে, তাহলে আমরা সেটাই করব।’
আইজিপির এ বক্তব্যের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন প্রতিবাদ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
তবে বিবৃতিতে আইজিপির বক্তব্যকে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ, প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের আইনি সীমা এবং এ ধরনের ঘটনায় জবাবদিহির প্রশ্নও এ বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।



















