তাহসিফের মৃত্যু: হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে বাবার মামলা, গ্রেফতার দীপ
- আপডেট: ১২:৫৪:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৮০০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেছেন তাঁর বাবা এনায়েতুল করিম। তুরাগ নদি থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের দুই দিন পর শুক্রবার রাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি করা হয়।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. রেজাউল করিম। তিনি জানান, হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে গুম করার অভিযোগে মামলাটি হয়েছে।
এদিকে, এ মামলায় তাহসিফের ব্যবসায়িক অংশীদার ও বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পরে তাঁকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
ছেলের সাঁতার জানা নিয়ে বাবার দাবি
তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে সাঁতার জানতেন। পাইলট প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বিশেষ সাঁতার কোর্স সম্পন্ন করে সনদও পেয়েছিলেন তিনি। তাই দীপের দেওয়া ‘ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার’ বক্তব্য বিশ্বাস করছেন না বাবা।
এনায়েতুল করিম বলেন, তাহসিফকে ধাওয়া করার কোনো কারণ ছিল না। ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
তাহসিফের ছোট ব্যবসাটি দীপ দেখাশোনা করতেন বলে জানান তাঁর বাবা। অন্য চাকরি করায় ছেলের ব্যবসার দায়িত্ব দীপের ওপর ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানিতে নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহের কাজ দেখতেন তিনি। এ কারণে দীপের সঙ্গে তাহসিফের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল।
দীপের বক্তব্যে যা জানা গেছে
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপ জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার মধ্যরাতে তাহসিফকে নিয়ে তিনি টঙ্গী পশ্চিম থানার তুরাগ নদ-সংলগ্ন হাজী মাজার বস্তি এলাকায় যান। সেখানে তাঁরা কথা বলার সময় দুজন ইউনিফর্মধারী ব্যক্তি তাঁদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। দীপ পিলারের আড়ালে লুকিয়ে পরে সেখান থেকে পালিয়ে মোহাম্মদপুরের বাসায় চলে যান।
দীপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পিবিআই ঘটনাস্থল শনাক্ত করেছে। ওই এলাকার কাছাকাছি টঙ্গী সেনাকল্যাণ সংস্থার পাশে হোন্ডা রোড এবং হাজী মাজার বস্তি-সংলগ্ন ইজতেমার মাঠ পরিদর্শন করেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
পুলিশ জানায়, হাজী মাজার বস্তি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। মোটরসাইকেলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। পুলিশের ধারণা, এটি তাহসিফের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল। তবে নম্বরপ্লেট না থাকায় এর মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে।
মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা
বুধবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরখানের তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাট থেকে তাহসিফের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। উদ্ধারের আগে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অন্তত ১৪ ঘণ্টা মরদেহটি ভাসছিল বলে জানা গেছে।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় মূল তদন্ত করছে নৌ পুলিশ। পাশাপাশি ছায়া তদন্ত করছে পিবিআই। ছায়া তদন্তে পাওয়া তথ্য নৌ পুলিশকে দেওয়া হচ্ছে।
নৌ পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি রেজাউল করিম বলেন, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তাঁরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, হাজী মাজার বস্তি ও এর আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা চলে। এ কারণে সেখানে পুলিশের নিয়মিত টহল থাকে। মঙ্গলবার রাতেও টহল ছিল। তবে টহলরত পুলিশ সদস্যরা কাউকে ধাওয়া করেছেন—এমন কোনো তথ্য তাঁকে জানানো হয়নি।
তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, ঘটনার সময় সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং দীপের দেওয়া বক্তব্যের সত্যতা—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।



















