০৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

পুরোনো ভিডিও বিকৃত করে বিজিবির বিরুদ্ধে অপপ্রচার, সতর্ক থাকার আহ্বান

  • আপডেট: ০৯:০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৮০১০

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বছরেরও বেশি পুরোনো একটি ভিডিও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাহিনীটি। এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবি জানায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হঠাৎ করেই বিজিবির মুখোমুখি ইউপিডিএফ! অবৈধ অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের নাগালে পেয়েও…..’ শিরোনামে একটি পুরোনো ভিডিও নতুন করে প্রচার করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত ঘটনা আংশিক ও বিকৃতভাবে তুলে ধরে বিজিবির ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

বাহিনীটির দাবি, ভিডিওতে প্রদর্শিত ঘটনাটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের থানচির বংকুপাড়া শূন্যরেখা এলাকায় ঘটেছিল। তবে ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইউপিডিএফের সদস্য ছিলেন না; তারা ছিলেন মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্য।

বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ০১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বিপি-৭১-এর নিকটবর্তী স্থানে আরাকান আর্মির একটি দল বাংলাদেশ- মায়ানমার সীমান্তে শূন্যরেখা অতিক্রম করে। বিষয়টি অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) এর অধিনায়কের নেতৃত্বে বংকুপাড়া বিওপি থেকে ৩৮ সদস্যের একটি বিজিবি আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গমন করে। সেখানে বিজিবি সদস্যরা প্রথমে মৌখিকভাবে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দলটিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যেতে বাধ্য করা হয়। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতিতে বিজিবি তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাংলাদেশের সীমান্তের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছে। এ ঘটনাটি ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর দৈনিক জনকণ্ঠের ফেইসবুক পেইজে (https://www.facebook.com/reel/1774351503968017) এবং দেশ টিভির ইউটিউবে (https://youtube.com/shorts/CrkXBb9AJK0) প্রচারিত হয়েছিল। অথচ পুরোনো ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক হিসেবে প্রচার করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর পরিচয় পরিবর্তন করে ইউপিডিএফের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

বাহিনীটির মতে, এ ধরনের খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে জনমনে ভুল ধারণা তৈরি, বিজিবির প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন এবং দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিজিবি আরও জানায়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি জটিল ও অস্থিতিশীল। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় আরাকান আর্মিসহ একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যদের অত্যন্ত সতর্কতা, পেশাদারত্ব ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

বাহিনীটি বলেছে, দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পুরোনো ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও দেখে বিভ্রান্ত না হওয়ার পাশাপাশি তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানিয়েছে বাহিনীটি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

পুরোনো ভিডিও বিকৃত করে বিজিবির বিরুদ্ধে অপপ্রচার, সতর্ক থাকার আহ্বান

আপডেট: ০৯:০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বছরেরও বেশি পুরোনো একটি ভিডিও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাহিনীটি। এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবি জানায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হঠাৎ করেই বিজিবির মুখোমুখি ইউপিডিএফ! অবৈধ অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের নাগালে পেয়েও…..’ শিরোনামে একটি পুরোনো ভিডিও নতুন করে প্রচার করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত ঘটনা আংশিক ও বিকৃতভাবে তুলে ধরে বিজিবির ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

বাহিনীটির দাবি, ভিডিওতে প্রদর্শিত ঘটনাটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের থানচির বংকুপাড়া শূন্যরেখা এলাকায় ঘটেছিল। তবে ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইউপিডিএফের সদস্য ছিলেন না; তারা ছিলেন মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্য।

বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ০১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বিপি-৭১-এর নিকটবর্তী স্থানে আরাকান আর্মির একটি দল বাংলাদেশ- মায়ানমার সীমান্তে শূন্যরেখা অতিক্রম করে। বিষয়টি অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) এর অধিনায়কের নেতৃত্বে বংকুপাড়া বিওপি থেকে ৩৮ সদস্যের একটি বিজিবি আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গমন করে। সেখানে বিজিবি সদস্যরা প্রথমে মৌখিকভাবে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দলটিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যেতে বাধ্য করা হয়। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতিতে বিজিবি তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাংলাদেশের সীমান্তের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছে। এ ঘটনাটি ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর দৈনিক জনকণ্ঠের ফেইসবুক পেইজে (https://www.facebook.com/reel/1774351503968017) এবং দেশ টিভির ইউটিউবে (https://youtube.com/shorts/CrkXBb9AJK0) প্রচারিত হয়েছিল। অথচ পুরোনো ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক হিসেবে প্রচার করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর পরিচয় পরিবর্তন করে ইউপিডিএফের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

বাহিনীটির মতে, এ ধরনের খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে জনমনে ভুল ধারণা তৈরি, বিজিবির প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন এবং দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিজিবি আরও জানায়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি জটিল ও অস্থিতিশীল। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় আরাকান আর্মিসহ একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যদের অত্যন্ত সতর্কতা, পেশাদারত্ব ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

বাহিনীটি বলেছে, দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পুরোনো ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও দেখে বিভ্রান্ত না হওয়ার পাশাপাশি তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানিয়েছে বাহিনীটি।