নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক ইঞ্জিনিয়ারিং করার ষড়যন্ত্র করছে: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ
- আপডেট: ০৬:২৮:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৮০০২
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জনমতকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক। দেশের স্বার্থে এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। অন্যথায় এর ফলাফল জাতির জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে।ইসলামী দলের নেতৃত্ব থেকে যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার পক্ষে নন—তাদের বিষয়ে আমরা আগেই জাতিকে বার বার সতর্ক করেছি। যারা এতদিন “ইসলামের এক বাক্সের কথা” বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, তাদের প্রকৃত চরিত্র আজ দিন দিন জাতির সামনে পরিষ্কার হয়ে উঠছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ চট্টগ্রাম উত্তর জেলার কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম হাটহাজারীর কনক কমিউনিটি সেন্টারে কাউন্সিল বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক মাওলানা জাফর আহমদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মাওলানা মুহাম্মদ এমরান সিকদারের পরিচালনায় কাউন্সিল অধিবেশনে অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তব্য রাখেন, দলের সহ সভাপতি মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ড. শুয়াইব আহমদ, কুয়েত জমিয়তের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা এমদাদুল্লাহ বেলালী, হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদরিস নদভী, মুফতি জাকারিয়া নোমান ফয়জী,প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মাওলানা মুতাহের হোসাইন,মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানী,মুফতি ইয়াকুব আলী ফারুকী, হাফেজ মাওলানা জাফর আহমদ বিন মুফতি আহমদুল হক,হাফেজ তাজুল ইসলাম,মাওলানা জয়নাল আবেদীন, মাওলানা ইকবাল আজিমপুরী, হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জনাব গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যান, আবু সাঈদ মেম্বার, মেখল ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি জি এম সাইফুল ইসলাম, মেখল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম ও বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন,জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ শুরু থেকেই ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণে আপসহীনভাবে কাজ করে আসছে। এই সংগঠন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে পরিচালিত নয়। জমিয়তের যেকোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে নয়; বরং সম্মানিত আলেম-ওলামা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পারস্পরিক পরামর্শ, গভীর আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়।
বক্তারা আরো বলেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বিষয়টি ভালোভাবে শুনে, বুঝে এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়। ইসলামের নামে রাজনীতি করে যারা ইসলামী আদর্শ ও শরিয়ার প্রশ্নে আপস করতে চায়, জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ তাদের ব্যাপারে সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নেতারা দেশবাসীকে বিভ্রান্তি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান এবং ইসলামী আদর্শ, শরিয়া ও ন্যায়নীতির প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস না করার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, মাওলানা জাফর আহমদকে সভাপতি, মাওলানা মুহাম্মদ এমরান সিকদারকে সাধারণ সম্পাদক ও মাওলানা মুহাম্মদ বাবুনগরীকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩৮ সদস্য বিশিষ্ট জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ চট্টগ্রাম উত্তর জেলার কমিটি ঘোষণা করা হয়।
মাওলানা ইয়াসিনকে সভাপতি ও হাফেজ তাজুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলা শাখার কমিটি গঠন করা হয়।


























