০৭:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১৯ মাস পর আত্রাইয়ে সুমন হত্যার রহস্য উদঘাটন, প্রধান আসামি গ্রেফতার

  • আপডেট: ০৯:৫৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৮০৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

দীর্ঘ ১৯ মাস পর আত্রাই থানার চাঞ্চল্যকর সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। পাশাপাশি এ ঘটনায় প্রধান আসামি শাফিউলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার(২৩ জানুয়ারি)  এক সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২০ জুন রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে নওগাঁ জেলার আত্রাই থানাধীন কয়শা গ্রামের বাসিন্দা সুমন বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরত আসেননি। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ২২ জুন আত্রাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-৯১১) করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ভিকটিমের বাড়ির পাশে ইটের টুকরায় রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেলে পুলিশকে জানানো হয়। ইটের ওপর পাওয়া রক্ত ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সুমনের রক্ত হিসেবে শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় সুমনের স্ত্রী বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর আত্রাই থানায় একটি মামলা (মামলা নম্বর-৪) দায়ের করেন। তবে দীর্ঘদিন তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

সম্প্রতি ভিকটিমের পরিবার ও স্বজনেরা নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি তাদের বক্তব্য শোনেন এবং মামলার ডকেট পর্যালোচনা করেন। এরপর মামলাটি নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তাকে।

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সন্দেহভাজন শাফিউলকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

গ্রেফতারকৃত শাফিউল পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে জানান, ভিকটিম সুমন তার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়া এবং হাত ধরার কারণে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ২০২৪ সালের ২২ জুন তিনি ও তার ছোট ভাই সায়েম সুমনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান এবং গভীর রাতে বাড়ির পাশের নির্জন রাস্তায় মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন। পরে লাশ গুম করতে দুই ভাই মিলে পাশের নিচু জায়গায় মাটি চাপা দেন। উল্লেখ্য, সায়েম কয়েক মাস আগে আত্মহত্যা করেন।

পরবর্তীতে আজ বিকালে গ্রেফতারকৃত আসামির দেখানো মতে কয়শা গ্রামের একটি ডোবা সেচে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নিহত সুমনের হাড়গোড় ও বিচ্ছিন্ন কঙ্কাল উদ্ধার করে আত্রাই থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য জেলার যেকোনো অপরাধ উদঘাটন ও দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। অপরাধী যতই সময় পার করুক, আইনের আওতায় আসতেই হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

১৯ মাস পর আত্রাইয়ে সুমন হত্যার রহস্য উদঘাটন, প্রধান আসামি গ্রেফতার

আপডেট: ০৯:৫৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

দীর্ঘ ১৯ মাস পর আত্রাই থানার চাঞ্চল্যকর সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। পাশাপাশি এ ঘটনায় প্রধান আসামি শাফিউলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার(২৩ জানুয়ারি)  এক সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২০ জুন রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে নওগাঁ জেলার আত্রাই থানাধীন কয়শা গ্রামের বাসিন্দা সুমন বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরত আসেননি। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ২২ জুন আত্রাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-৯১১) করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ভিকটিমের বাড়ির পাশে ইটের টুকরায় রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেলে পুলিশকে জানানো হয়। ইটের ওপর পাওয়া রক্ত ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সুমনের রক্ত হিসেবে শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় সুমনের স্ত্রী বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর আত্রাই থানায় একটি মামলা (মামলা নম্বর-৪) দায়ের করেন। তবে দীর্ঘদিন তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

সম্প্রতি ভিকটিমের পরিবার ও স্বজনেরা নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি তাদের বক্তব্য শোনেন এবং মামলার ডকেট পর্যালোচনা করেন। এরপর মামলাটি নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তাকে।

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সন্দেহভাজন শাফিউলকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

গ্রেফতারকৃত শাফিউল পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে জানান, ভিকটিম সুমন তার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়া এবং হাত ধরার কারণে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ২০২৪ সালের ২২ জুন তিনি ও তার ছোট ভাই সায়েম সুমনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান এবং গভীর রাতে বাড়ির পাশের নির্জন রাস্তায় মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন। পরে লাশ গুম করতে দুই ভাই মিলে পাশের নিচু জায়গায় মাটি চাপা দেন। উল্লেখ্য, সায়েম কয়েক মাস আগে আত্মহত্যা করেন।

পরবর্তীতে আজ বিকালে গ্রেফতারকৃত আসামির দেখানো মতে কয়শা গ্রামের একটি ডোবা সেচে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নিহত সুমনের হাড়গোড় ও বিচ্ছিন্ন কঙ্কাল উদ্ধার করে আত্রাই থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য জেলার যেকোনো অপরাধ উদঘাটন ও দমনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। অপরাধী যতই সময় পার করুক, আইনের আওতায় আসতেই হবে।