এলজিইডি ভয়ঙ্কর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার নাম প্রকল্প পরিচালক রায়হান সিদ্দিক
- আপডেট: ০৮:২৩:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮০০০
বিশেষ প্রতিনিধি :
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রভাতী প্রকল্পের পরিচালক মো. রায়হান সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। তিনি এলজিইডির আগারগাঁওস্থ কার্যালয়ে দায়িত্বে বহাল থেকে প্রকল্প পরিচালনা করছেন। নামে বেনামে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। সরকার পরিবর্তন হলেও কমেনি তার অনিয়ম দুর্নীতি। ২৪‘র আগস্টের পর মো. রায়হান সিদ্দিক নতুন করে রং বদলালেও চরিত্র বদলাননি।” কখনও ক্ষমতাসীন দলে, কখনও বিরোধী দলের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি প্রভাব বিস্তার করেছেন ইউএনও ও সহকর্মীদের ওপর। গ্রামগঞ্জে এমন প্রবাদ শোনা যায় ‘ঢাকায় টাকা উড়ে’। বাস্তবে টাকা উড়তে না দেখা গেলেও রাজধানীতে ব্যাংক টু ব্যাংক, বস্তায় করে লেনদেনের ঘটনা নতুন নয়। আগারগাঁও থেকে সচিবালয় পর্যন্ত টাকা বিছিয়ে লুটপাটে অংশ নেন রায়হান সিদ্দিকরা। অনিয়ম দুর্নীতি করেও বাগিয়ে নেন পদোন্নতি। সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে জানাযায়, মোঃ রায়হান সিদ্দিক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রভাতী প্রকল্পের পরিচালক হিসাবে এলজিইডি, ঢাকা আগারগাও কর্মরত আছেন। তার বাবা আব্দুল লতিফ সরকার, মা আমেনা খাতুন, স্ত্রী মাসুমা ফেরদৌস। রায়হান সিদ্দিক ১৯৬৮ সালের ১ডিসেম্বর নওগাঁ জেলার সাফাগার উপজেলাধীন গৌরীপুর গ্রামে হতদরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এই কর্মকর্তার জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর ১৪৫৪০৮২১৯৭, টিন নং-৫৫২৬২১৬৭৪৭৫৩, কর সার্কেল-১০, কুড়িগ্রাম সদর, কর অঞ্চল রংপুর। বর্তমানে রায়হান সিদ্দিকের বাসা-২৯৪, ফ্ল্যাট নং-৭/সি, জাফরাবাদ, পশ্চিম ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৭। অবিশ্বাস্য অপকর্মের সহযোগী রায়হানের স্ত্রীর মাসুমা ফেরদৌস। মাসুমা ফেরদৌসের হঠাৎ করে কোটি কোটি টাকার মালিক রনে যাওয়ার গল্পটাও বিস্তর লম্বা। মাসুমার বাবা মহিউল ইসলাম, মাতা রহিমা খাতুন। তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র নং-১৯০৪০৮৫১৪৭, জন্ম ১৯৭৯ সালের ৩০ আগস্ট, টিন নং-১২২২৩৮২৬০৬৯৪, কর সার্কেল-১০, কুড়িগ্রাম সদর, কর অঞ্চল রংপুর। রায়হান সিদ্দিক এলজিইডিতে চাকুরি করার সুবাদে বিভিন্ন সময়ে সরকারি অর্থ আত্মসাত করে অবৈধ ভাবে কোটি কোটি টাকা মালিক বনে গেছে স্ত্রী মাসুমা। তাছাড়া নিয়োগ বাণিজ্য টেন্ডার বাণিজ্য বদলী বাণিজ্য করে বিগত আওয়ামী লীগ আমলে অঢেল সহায় সম্পদের মালিক হয়েছেন এইকর্মকর্তা ও স্ত্রীর আত্মীয় স্বজন। অভিযোগ আছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সঙ্গে আতায়াত করে অবৈধ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এলজিইডির সমস্ত অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়েছে রায়হান সিদ্দিক। আরো অভিযোগ আছে রায়হান সিদ্দিক এখনও আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী এমপিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। উপরে উপরে নিজেকে বিএনপির অনুগত প্রকৌশলী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রকার প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ ভাবে কোটি কোটি টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাত করছে। রায়হান সিদ্দিক বর্তমানে যে ফ্ল্যাটে বসবাস করেন সেটি মালিক তিনি নিজেই। তার স্ত্রীকে ব্যবসায়ী বানিয়ে অবৈধ ভাবে তার অর্জিত কালো টাকা সাদা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রায়হান সিদ্দিক তার স্ত্রীর নামে একটি বিলাশবহুল গাড়ী ক্রয় করেছেন। যার গাড়ী নং ঢাকা মেট্রো- গ- ২৭- ১৩৯৭। এছাড়াও ঢাকা শহরে তার আরও একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, গাড়ী এবং বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা জমা রয়েছে। রায়হান সিদ্দিকের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয় জানতে চাইলে তিনি সন্ত্রাসী মাস্তান দ্বারা ভয়ভীতি দেখান। অনুসন্ধানী কার্যক্রম বন্ধ করার চেষ্টা করেন। রায়হান সিদ্দিকের বিষয়ে অনুসন্ধান করলে আরও অজানা অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে। দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রায়হান সিদ্দিকের মতো কর্মকর্তাদের অপকর্মই প্রধানতম বাধা। এসব নীতিহীন ভয়ঙ্কর কর্মকর্তাদের অনিয়ম দুর্নীতি এখনি থামিয়ে দেয়ার সুসময়।



















