১২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিমানের সেফটি প্রধানের দায়িত্বে ইমরান

  • আপডেট: ১২:০৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • / ১৮০৩৪

বিমান বাংলাদেশের চিফ অব সেফটি পদে নিয়োগ পেলেন আহমেদ ইমরান

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সেফটির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেলেন ক্যাপ্টেন আহমেদ ইমরান। তবে এই নিয়োগের সঙ্গে আবার সামনে এসেছে তার বিরুদ্ধে আগে ওঠা একাধিক অভিযোগের বিষয়টি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অসদাচরণ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি না করেই তাকে সংস্থার চিফ অব ফ্লাইট সেফটি পদে বসানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংস্থার ভেতরে আলোচনা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা ও ক্রু সদস্যের ভাষ্য, ফ্লাইট সেফটির দায়িত্ব এমন একজন কর্মকর্তার হাতে দেওয়া হয়েছে যার বিরুদ্ধে আগে থেকেই আচরণগত নানা অভিযোগ রয়েছে। তাদের মতে, এই নিয়োগ সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্কৃতি ও পেশাগত মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সংস্থার অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, ক্যাপ্টেন ইমরানের বিরুদ্ধে নারী কেবিন ক্রু ও ফার্স্ট অফিসারদের প্রতি আপত্তিকর আচরণ, ককপিটে অশোভন ভাষা ব্যবহার এবং অনৈতিক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে বলা হয়, তার আচরণে ককপিটের পরিবেশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, কয়েকজন নারী ক্রু তার সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনায় অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
এ ছাড়া নিষিদ্ধ এপ্রন এলাকায় ধূমপান, স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) লঙ্ঘন এবং ফ্লাইটের আগে ব্রেথালাইজার অ্যালকোহল পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকৃতির মতো ঘটনার কারণেও তাকে সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি। ২০২৩ সালের ৪ মে জমা দেওয়া একটি গোপনীয় সেফটি রিপোর্টেও তার আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় বলে জানা গেছে।

চিফ অব ফ্লাইট সেফটি পদটি একটি এয়ারলাইনের সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন ও তদারকির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিশেষভাবে বিবেচ্য। তাদের মতে, অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এই নিয়োগ আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নিরাপত্তা নির্দেশনার আলোকে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

বেসামরিক বিমান চলাচল বিধি এএনও ওপি এস বি–২ অনুযায়ী, এ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত সেফটি প্রশিক্ষণ, এয়ার অপারেটরের সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান এবং নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের গ্রহণযোগ্যতা প্রয়োজন। অভিযোগকারীদের দাবি, ক্যাপ্টেন ইমরান কোনো পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত সেফটি কোর্স সম্পন্ন করেননি; কেবল কয়েকটি সেমিনারে অংশ নিয়েছেন।

তাদের আশঙ্কা, এই নিয়োগের ফলে ক্রুদের স্বেচ্ছামূলক সেফটি রিপোর্টিং কমে যেতে পারে এবং ক্রু রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট নীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অডিট, যেমন আইকাও ইউএসওএপি বা আইওএসএ মূল্যায়নেও বিষয়টি প্রশ্ন তুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ক্যাপ্টেন আহমেদ ইমরানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিমানের সেফটি প্রধানের দায়িত্বে ইমরান

আপডেট: ১২:০৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সেফটির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেলেন ক্যাপ্টেন আহমেদ ইমরান। তবে এই নিয়োগের সঙ্গে আবার সামনে এসেছে তার বিরুদ্ধে আগে ওঠা একাধিক অভিযোগের বিষয়টি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অসদাচরণ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি না করেই তাকে সংস্থার চিফ অব ফ্লাইট সেফটি পদে বসানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংস্থার ভেতরে আলোচনা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা ও ক্রু সদস্যের ভাষ্য, ফ্লাইট সেফটির দায়িত্ব এমন একজন কর্মকর্তার হাতে দেওয়া হয়েছে যার বিরুদ্ধে আগে থেকেই আচরণগত নানা অভিযোগ রয়েছে। তাদের মতে, এই নিয়োগ সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্কৃতি ও পেশাগত মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সংস্থার অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, ক্যাপ্টেন ইমরানের বিরুদ্ধে নারী কেবিন ক্রু ও ফার্স্ট অফিসারদের প্রতি আপত্তিকর আচরণ, ককপিটে অশোভন ভাষা ব্যবহার এবং অনৈতিক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে বলা হয়, তার আচরণে ককপিটের পরিবেশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, কয়েকজন নারী ক্রু তার সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনায় অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
এ ছাড়া নিষিদ্ধ এপ্রন এলাকায় ধূমপান, স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) লঙ্ঘন এবং ফ্লাইটের আগে ব্রেথালাইজার অ্যালকোহল পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকৃতির মতো ঘটনার কারণেও তাকে সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি। ২০২৩ সালের ৪ মে জমা দেওয়া একটি গোপনীয় সেফটি রিপোর্টেও তার আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় বলে জানা গেছে।

চিফ অব ফ্লাইট সেফটি পদটি একটি এয়ারলাইনের সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন ও তদারকির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা বিশেষভাবে বিবেচ্য। তাদের মতে, অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এই নিয়োগ আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নিরাপত্তা নির্দেশনার আলোকে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

বেসামরিক বিমান চলাচল বিধি এএনও ওপি এস বি–২ অনুযায়ী, এ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত সেফটি প্রশিক্ষণ, এয়ার অপারেটরের সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান এবং নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের গ্রহণযোগ্যতা প্রয়োজন। অভিযোগকারীদের দাবি, ক্যাপ্টেন ইমরান কোনো পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত সেফটি কোর্স সম্পন্ন করেননি; কেবল কয়েকটি সেমিনারে অংশ নিয়েছেন।

তাদের আশঙ্কা, এই নিয়োগের ফলে ক্রুদের স্বেচ্ছামূলক সেফটি রিপোর্টিং কমে যেতে পারে এবং ক্রু রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট নীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অডিট, যেমন আইকাও ইউএসওএপি বা আইওএসএ মূল্যায়নেও বিষয়টি প্রশ্ন তুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ক্যাপ্টেন আহমেদ ইমরানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।