অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থা নাজুক, সচেতন মহলের উদ্বেগ
- আপডেট: ০৬:০১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৮০০৪
এইচ এম তুহিন, কালকিনি প্রতিনিধিঃ
এক সময়ের দক্ষিন বঙ্গের সনামধন্য বিদ্যাপিঠ ঐতিহ্যেবাহী মাদারীপুরের কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। সনামধন্য এ কলেজটিতে দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে কলেজ পরিচালনা করা শ্রেণীকক্ষে অনিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের অন্তদ্বন্দ্বের জেরে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পরেছে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে শিক্ষকরা কলেজ চলাকালিন সময়ে কলেজ অবস্থান না করে, নিয়মিত কলেজ ক্যাম্পাসের বাহিরে বিভিন্ন দোকানে আড্ডারত থাকা এবং উপস্থিত খাতায় স্বাক্ষর করে নারী শিক্ষকদের বাসায় চলে যাওয়াসহ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানা রকমের অভিযোগ উঠেছে। একদিকে শিক্ষা ব্যবস্থা নাজুক। অপরদিকে ভবনের বেহাল দশা। আমরা সবাই জানি, শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড। সেই মেরুদণ্ড যদি দুর্বল হয়, তাহলে দেশ ও জাতি কখনো সবল হতে পারেনা। তাই অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল অনিয়মের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। তবে অনিয়মকারী শিক্ষকরা স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। আবার কখনও প্রতিবাদ করলেও শিক্ষকদের হুমকীর শিকার হন তিনি।
কলেজের অফিস সূত্রে ও সরজমিনে যানাযায়, মোট ৬২ জন শিক্ষক নিয়ে চলছে কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থা কিন্তু কলেজের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর অবস্থা সন্তোষজনক হলেও অনার্স শাখার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অনার্স শাখার কয়েকটি বিভাগে ৪ থেকে ৫ জন করে শিক্ষকের বিপরীতে চলতি বছরে যথাক্রমে ১জন, ২ জন, ৪ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি তালিকায় দেখা যায়। ১২ টি বিভাগের মধ্যে দু-একটি বিভাগ বাদে, বাকি বিভাগ গুলোর বর্তমান অবস্থা খুবই নাজুক। এছাড়াও কলেজ চলাকালীন সময় সকাল সারে ১১ টায়ও বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের তালাও খোলা হয়নি, শিক্ষকরা বাহিরে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ অত্যন্ত সুনামের সাথেই চলতে থাকে এর ধারাবাহিকতায় কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রূপান্তরিত করা হয়, পরে অনার্স শাখায় পর্যায়ক্রমে ১২ বিভাগ ও মাস্টার্সে ৩ টি বিভাগ খোলা হয়, এতে করে দেশে বিভিন্ন জেলার শতশত শিক্ষার্থীর বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি হয়ে সুনামের সাথে লেখা পড়া করেন। কিন্তু কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ মো. খালেকুজ্জামানের অবসরজনিত বিদায়ের পর থেকে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে কলেজটিতে ৬জন অধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দ্বায়িত্ব নেন। এতে করে শিক্ষকদের মাঝে স্বেচ্ছাচারিতায় গ্রুপিংসহ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সাথে অধিকাংশ শিক্ষকের সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়। এতে করে দিন দিন ব্যাহত হতে থাকে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ব্যবস্থা, সেই সাথে ভেঙ্গে পড়েছে কলেজটির প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
এছাড়াও কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাজমুন নাহার নামে একজন শিক্ষিকার বিরুদ্ধে গত চার বছর তার ডিপার্টমেন্ট অফিস ও ক্লাসে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে, আর এই অভিযোগ তুলেছেন ওই ডিপার্টমেন্টের প্রধান অধ্যাপক এস এম জলিল। তবে ওই অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, আমি নিয়মিত কলেজে যাই এবং হাজিরা খাতা স্বাক্ষর করি, ডিপার্টমেন্টে শিক্ষার্থী নেই ক্লাস কি করে করব।
কলেজের বিদ্যোৎসাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুল হক বেপারী বলেন, কলেজের শিক্ষার মান অতি তলানিতে আছে, এই চরম পরিস্থিতির জন্য দায়ী শিক্ষক রাজনীতি। শিক্ষকদের রাজনীতি ও দলাদলি পরিহার করতে হবে এবং যদি এই কলেজের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হয় তাহলে প্রথমে আমরা যারা স্থানীয় অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষক রয়েছি তাদের সোচ্চার হয়ে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের সহযোগিতা করা উচিত।
এবিষয়ে কলেজর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হান্নান দরিয়া অভিযোগ শিকার করে বলেন, আমি চার মাস হলো দ্বায়িত্ব নিয়েছি এরমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি এবং সফলও হয়েছি। তবে এত বড় প্রতিষ্ঠান সকলের সহযোগিতা দরকার, তবে শিক্ষার্থী ভর্তি বাড়ানোর জন্য পোষ্টার ও লিফলেটের মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর পরি কল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকদের পাঠদানসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস আমার নেই। কারন তার প্রভাবশালী। প্রদিবাদ করলে আমাকে তারা হুমকী দেয়। এছাড়াও তিনি অভিযুক্ত শিক্ষিকা সহকারী অধ্যাপক নাজমুন নাহারের বিষয়ে বলেন সে চার বছর ধরে তার নিজ ডিপার্টমেন্টে এবং ক্লাসে যায় না শুধু অফিস কক্ষে হাজিরা দিয়ে চলে যায়। এবং নিয়মিত বেতন তোলেন। এই বিষয়টি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের সাথে কথা বলে শীঘ্রই জি বি মিটিংয়ে উপস্থাপন করবো।
কলেজের গভনিং বডির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফ- উল আরেফীন বলেন, শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকদের অনিয়মিত পাঠদান, দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে কলেজ পরিচালনা করা ও শিক্ষকদের অন্তদ্বন্দ্বসহ বেশ কিছু অভিযোগের বিষয় জানতে পেরে কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এছাড়াও অভিযুক্ত শিক্ষিকা সহকারী অধ্যাপক নাজমুন নাহারের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে যানান।



















