ঢাকা মেডিকেল কলেজের হিসাব রক্ষক জালাল আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
- আপডেট: ০৬:১১:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
- / ১৮০০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
ঢাকা মেডিকেল কলেজের হিসাব রক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. জালাল আহমেদ,ঘুষ, দুর্নীতি,ভুয়া ভাউচার এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে আঙ্গুরফুলে কলাগাছ হয়েছেন।
এসব বিষয়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. আব্দুল কুদ্দুস নামের এক ব্যক্তি।
তিনি বলেন, মো. জালাল আহমেদ, হিসাব রক্ষক (ভারপ্রাপ্ত), ঢাকা মেডিকেল কলেজ এ বর্তমানে কর্মরত। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভুয়া ভাউচার এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আতায়াত করে কাজ না করেও কোটি কোটি টাকার বিল উত্তোলনের সহযোগীতা করে অবৈধভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজে সিট বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, বদলী বাণিজ্য করে অবৈধ ভাবে কোটি কোটি টাকার লেন দেন করেছেন বলে বিষেশ সূত্রে জানা যায়। এছাড়াও তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে সরকারি ঔষধ বিক্রির বিষয়ে জড়িত রয়েছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়। তার অবৈধ সম্পদের অর্জিত টাকা দিয়ে তার স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বেনামে কোটি কোটি টাকার মালিক বানিয়েছেন। তার পিতার নাম-আবদুল লতিফ, মাতার নাম-মাফিয়া খাতুন, স্ত্রীর নাম-শাহিন সুলতানা, তার জাতীয় পরিচয়পত্র নং-৬৪০৯৯৪৮৭০৭, জন্ম তারিখ: ০১/০৪/১৯৬৮ইং, ঠিকানাঃ গ্রাম: কে ডি হাট, ডাকঘর: কে ডি হাট, থানা-দাগনভুঞা, জেলা-ফেনী। তার টিআইএন নং-৫৭১২৬৩৩৯৭২৬৫, কর সার্কেল-৭০, কর অঞ্চল-০৪, ঢাকা। তার স্ত্রীর নাম-শাহিন সুলতানা, তার পিতার নাম-মন্ত্র মিয়া, মাতা-হালিমা খাতুন, স্বামীর নাম- জালাল আহমেদ, পেশা-গৃহিনী, তার জাতীয় পরিচয়পত্র নং-১৯০৯৯৪৩৫৪৮, জন্ম তারিখ: ১৪/০৩/১৯৭৩ইং, তার টিআইএন নং-৮৮৫৭১৭৫০৬০১৫, কর সার্কেল-০৪, কর অঞ্চল-০১, ঢাকা। তার পূর্বের টিআইএন নং-১৪৮১০৯৬০৫১, গত ০৮/১০/২০১৩ইং সালে তার টিনটি আপডেট করেন। তার বর্তমান ঠিকানা: রাজধানী আম্বিয়ার আলো, ফ্ল্যাট নং-বি-২, বাসা-৩৫/৩, শান্তিনগর, পল্টন, ঢাকা। তার স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রাম: কে ডি হাট, ডাকঘর: কে ডি হাট, থানা-দাগনভুঞা, জেলা-ফেনী। জালাল আহমেদ ও তার পরিবারের অবৈধ সম্পদের বিবরণী নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ রাজধানী আম্বিয়ার আলো, ফ্ল্যাট নং-বি-২, বাসা-৩৫/৩, শান্তিনগর, পল্টন, ঢাকা। উক্ত ফ্ল্যাটটিতে জালাল আহমেদ ও তার পরিবার বসবাস করেন।
ফ্ল্যাটটি তার স্ত্রী শাহীন সুলতানার নামে রেজিস্ট্রিকৃত। ফ্ল্যাটটির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। ফ্ল্যাটটির মালিক তার স্ত্রী শাহীন সুলতানা, তিনি মূলত একজন গৃহিনী হওয়া সত্বেও বর্তমানে দুই কোটি টাকার ফ্ল্যাটের মালিক। এছাড়াও ঢাকার বসুন্ধারা আবাসিক এলাকায় তার স্ত্রীর নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে। যাত্রাবাড়ী সনির আখরায় তার স্ত্রী শাহীন সুলতানার নামে একটি ৬ষ্ঠ তলা বাড়ী রয়েছে। ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প কেরানীগঞ্জে তার স্ত্রীর নামে একাধিক প্লট রয়েছে। ফেনী জেলা সদরে
তার স্ত্রীর নামে দুটি বাড়ী রয়েছে। ফেনী জেলার দাগনভুঞা থানায় তার স্ত্রীর নামে ৪০ বিঘা জমি এবং একটি আলিশান বাড়ি রয়েছে। ঢাকা শহরে মোহাম্মদপুর এলাকায় তার স্ত্রীর নামে আরও একাধিক বাড়ী ও ফ্ল্যাট রয়েছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা যায়। এছাড়াও তার স্ত্রী ও পরিবারের নামে বেনামে একাধিক গাড়ী রয়েছে এবং বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা সঞ্চিত রয়েছে। জালাল আহমেদ নিজেকে মন্ত্রীর লোক বলে ক্ষমতা প্রয়োগ করে অবৈধ ভাবে বিভিন্ন জায়গায় তদবির করে কোটি কোটি টাকা এখনও হাতিয়ে রয়েছে। তার এলাকার বর্তমানে সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে যাচ্ছেন। জালাল আহমেদ ও তার পরিবারের বিষয়ে সঠিকভাবে তদন্ত করলে আরও শত শত অভিযোগ পাওয়া যাবে। জালাল আহমেদ অবৈধ সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি।
অভিযোগের বিষয় মুঠোফোনে চেষ্টা করে জালাল আহমেদের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।



















