আওয়ামী লীগ আমলে ‘নির্দলীয়’ প্রত্যয়ন নেওয়া রোকন এবার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী
- আপডেট: ০৪:১৪:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
- / ১৮০০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাঈদ মেহেদীর কাছ থেকে নিজেকে ‘নির্দলীয়’ এবং ‘রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডে জড়িত নন’ মর্মে প্রত্যয়নপত্র গ্রহণকারী মো. রোকনুজ্জামান রোকন বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, সম্প্রতি কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপিরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই মামলায় ৩০/৪০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে। রোকনের বিরুদ্ধে মুখ খুললে অজ্ঞাত আসামীর হিসেবে গ্রেফতার করে কিনা এ কারণে অনেকেই ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন এবং প্রকাশ্যে মতামত দিতে অনিচ্ছুক।
তারা আরও অভিযোগ করেন, রোকনুজ্জামান রোকনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, দলীয় বিরোধীদের কোণঠাসা করা এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রোকনুজ্জামান রোকনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ২০২৪ সালের ১৭ মার্চে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর দেওয়া একটি প্রত্যয়নপত্র। ওই প্রত্যয়নপত্রে রোকনুজ্জামান রোকনকে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত, সৎ ও নির্মল চরিত্রের অধিকারী উল্লেখ করার পাশাপাশি তিনি কোনো রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডে জড়িত নন বলেও প্রত্যয়ন দেওয়া হয়।
প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়, রোকনুজ্জামান রোকন কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এছাড়া তার অসুস্থ পিতার দেখাশোনার দায়িত্বও তার ওপর রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার কাছ থেকে এ ধরনের প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ এবং বর্তমানে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে মো. রোকনুজ্জামান রোকনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রত্যয়নপত্র প্রদান প্রসঙ্গে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাঈদ মেহেদী বলেন, “রোকন একটি ভালো ছেলে। আমার জানামতে, ২০২৫ সালের আগে সে কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় নেতা ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে আমি উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম। সে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কারণে আমার কাছ থেকে ওই প্রত্যয়নপত্র নিয়েছিল। তার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য গ্রহণ সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।



















