০৯:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

পিডিকে কব্জায় নিয়ে মহালুটপাট, এলজিইডি রংপুর বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎকারী কে এই ওবায়দুল!

  • আপডেট: ০৭:৫২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৮০০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বহুল আলোচিত রংপুর বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্পে জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ দুর্নীতির দলিল ফাঁস হওয়ায় সাভার ও রাজধানীর প্রশাসনিক পাড়ায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বিপুল বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা বাস্তব কাজের নামে খরচ না করে ভুয়া নথিপত্র ও জাল বিল-ভাউচারের মাধ্যমে পকেটে পুরে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন এই প্রকল্পের বহুল বিতর্কিত হিসাব রক্ষক দেওয়ান ওবায়দুল হক। আগারগাঁওয়ের এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ের আরডিসি ভবনের ১৩ তলায় দীর্ঘকাল ধরে বহাল তবিয়তে টিকে থাকা এই চতুর কর্মচারীর অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অকল্পনীয় কাহিনী প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে পুরো এলজিইডি চত্বরে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর পেশ করা এক চাঞ্চল্যকর ও লিখিত সুনির্দিষ্ট অভিযোগে জানা গেছে এই ভয়াবহ লুণ্ঠনকাহিনীর আদ্যোপান্ত। ঢাকার সাভার নামা বাজারের সাভার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালবাগের বি-ব্লকের ১২/৪ নম্বর বিলাসবহুল নিজস্ব বাড়িতে বসবাসকারী দেওয়ান ওবায়দুল হক (পিতা: দেওয়ান এমদাদুল হক, মাতা: ছানোয়ারা বেগম, জাতীয় পরিচয়পত্র নং: ৮৬৮৮৯১১৩৭২, জন্ম তারিখ: ০৮/০২/১৯৭৪ইং, টিআইএন নং: ৫৩০৩৫৬৩৩০১৭০, কর সার্কেল-৮২, কর অঞ্চল-০৪, ঢাকা) দীর্ঘকাল ধরে একই পদে ও একই প্রকল্পে অবস্থান করার সুযোগে দুর্নীতির এক সুবিশাল জাল বিস্তার করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, দেওয়ান ওবায়দুল হক প্রকল্পের সাবেক বিতর্কিত প্রকল্প পরিচালক মুজিবুর রহমানের সরাসরি প্রশ্রয়, ছত্রছায়া ও সক্রিয় সহযোগিতায় রংপুর বিভাগের উন্নয়ন কাজের কোনো বাস্তব রূপায়ণ না করেই ধারাবাহিকভাবে জাল চালান তৈরি করে টাকা উত্তোলন করেছেন। এলজিইডির দায়িত্বশীল ও গোপন সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা প্রয়োজনীয় রকমারি সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ ক্রয়ের নামে ভূতুড়ে ও কাল্পনিক ভাউচার সাজিয়ে প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা তুলে তা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন এই দুই প্রভাবশালী কর্মকর্তা। নামে মাত্র কিছু কাজ দেখিয়ে অথবা অধিকাংশ ক্ষেত্রে একেবারেই কাজ না করে বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ আত্মসাতের যে উৎসব তারা চালিয়েছেন, তাতে বর্তমানে হিসাব রক্ষক ওবায়দুল হকের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। স্বল্প বেতনের একজন সামান্য প্রকল্প হিসাব রক্ষক হয়েও কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে এমন অঢেল ধন-সম্পদের মালিক হলেন তা নিয়ে চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নিজের এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকা ও অবৈধ সম্পদ ঢাকা এবং তার আশেপাশের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বৈচিত্র্যময় কৌশলে বিনিয়োগ করেছেন ওবায়দুল হক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চোখ ফাঁকি দিতে তিনি অধিকাংশ সম্পত্তি স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের নামে-বেনামে কিনেছেন। শুধুমাত্র ঢাকার কাছে সাভারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক এলাকায় প্রায় ৩০০ শতাংশেরও বেশি মূল্যবান জমি কিনে নিজের একক নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন তিনি। এছাড়া সাভার ও ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে একাধিক বহু তলা আলিশান বাড়ি, একাধিক অভিজাত ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক প্লট এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ি। সাভারের তালবাগ এলাকায় তার নিজস্ব বাসভবনটির নির্মাণশৈলী ও আধুনিকতার ঝলক দেখলেই থমকে যান স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ সুগভীর নথিপত্র সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, রংপুর বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে জাঁকিয়ে বসার কারণে তৎকালীন প্রকল্প পরিচালককে নিজের হাতের পুতুলে পরিণত করেছিলেন ধুরন্ধর ওবায়দুল হক। প্রকল্পের প্রতিটি ছোট-বড় কেনাকাটা, ঠিকাদার নিয়োগ, বিল অনুমোদন এবং প্রশাসনিক খরচের ফাইল নিয়ন্ত্রণ হতো তার প্রত্যক্ষ মাধ্যমে। সরকারি নিয়ম-কানুনকে তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে সরঞ্জাম ক্রয়ের ভূতুড়ে বিল প্রস্তুত করে কোটি কোটি টাকা তুলে হাতিয়ে নেওয়া ছিল তার নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত। রাষ্ট্রীয় এই মহালুটপাটের মাধ্যমে সাভার ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অর্জিত সম্পদের বিশাল পাহাড় তৈরি করলেও রাজস্ব ফাঁকি দিতে আয়কর নথিতে তিনি সুকৌশলে প্রকৃত সম্পদের অধিকাংশ তথ্যই গোপন রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে দেওয়ান ওবায়দুল হককে একাধিকবার ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এলজিইডির সাধারণ কর্মচারীদের মাঝে এখন কানাকানি ও তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে যে, কীভাবে একজন সাধারণ হিসাব রক্ষক দীর্ঘ সময় ধরে একটি প্রকল্পে অবস্থান করে প্রকল্প পরিচালককে সাথে নিয়ে এমন প্রকাশ্য লুটপাট চালাতে পারলেন। তার দুর্নীতির শেকড় এতটাই গভীরে যে, প্রকল্প পরিবর্তনের স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকেও তিনি নানা চাতুর্য ও প্রভাবে স্তব্ধ করে রেখেছিলেন। সাভারের সাধারণ মানুষ ও ভূক্তভোগী সেবাপ্রত্যাশীরা বলছেন ওবায়দুল হকের এই বিপুল বিত্ত-বৈভবের উৎস অনুসন্ধান করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তার সমস্ত ব্যাংকিং লেনদেন, কর নথি এবং নামে-বেনামে থাকা সম্পত্তির সরজমিন নিরপেক্ষ তদন্ত চালালে থোকা থোকা দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর হাজারো রূপ উন্মোচিত হবে। সাভার নামা বাজারের বাসিন্দা আবু তাহেরের লিখিত এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পর বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। অভিযোগে স্পষ্টভাবে দাবি জানানো হয়েছে যে, দেওয়ান ওবায়দুল হকের রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির এই মহোৎসবের বিরুদ্ধে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। একইসাথে তার ও তার পরিবারের সমস্ত অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব বের করে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করা এবং সরকারি চাকরিবিধি ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই দুর্নীতিবাজ হিসাব রক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের সচিব সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

পিডিকে কব্জায় নিয়ে মহালুটপাট, এলজিইডি রংপুর বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎকারী কে এই ওবায়দুল!

আপডেট: ০৭:৫২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বহুল আলোচিত রংপুর বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্পে জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ দুর্নীতির দলিল ফাঁস হওয়ায় সাভার ও রাজধানীর প্রশাসনিক পাড়ায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বিপুল বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা বাস্তব কাজের নামে খরচ না করে ভুয়া নথিপত্র ও জাল বিল-ভাউচারের মাধ্যমে পকেটে পুরে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন এই প্রকল্পের বহুল বিতর্কিত হিসাব রক্ষক দেওয়ান ওবায়দুল হক। আগারগাঁওয়ের এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ের আরডিসি ভবনের ১৩ তলায় দীর্ঘকাল ধরে বহাল তবিয়তে টিকে থাকা এই চতুর কর্মচারীর অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অকল্পনীয় কাহিনী প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে পুরো এলজিইডি চত্বরে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর পেশ করা এক চাঞ্চল্যকর ও লিখিত সুনির্দিষ্ট অভিযোগে জানা গেছে এই ভয়াবহ লুণ্ঠনকাহিনীর আদ্যোপান্ত। ঢাকার সাভার নামা বাজারের সাভার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালবাগের বি-ব্লকের ১২/৪ নম্বর বিলাসবহুল নিজস্ব বাড়িতে বসবাসকারী দেওয়ান ওবায়দুল হক (পিতা: দেওয়ান এমদাদুল হক, মাতা: ছানোয়ারা বেগম, জাতীয় পরিচয়পত্র নং: ৮৬৮৮৯১১৩৭২, জন্ম তারিখ: ০৮/০২/১৯৭৪ইং, টিআইএন নং: ৫৩০৩৫৬৩৩০১৭০, কর সার্কেল-৮২, কর অঞ্চল-০৪, ঢাকা) দীর্ঘকাল ধরে একই পদে ও একই প্রকল্পে অবস্থান করার সুযোগে দুর্নীতির এক সুবিশাল জাল বিস্তার করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, দেওয়ান ওবায়দুল হক প্রকল্পের সাবেক বিতর্কিত প্রকল্প পরিচালক মুজিবুর রহমানের সরাসরি প্রশ্রয়, ছত্রছায়া ও সক্রিয় সহযোগিতায় রংপুর বিভাগের উন্নয়ন কাজের কোনো বাস্তব রূপায়ণ না করেই ধারাবাহিকভাবে জাল চালান তৈরি করে টাকা উত্তোলন করেছেন। এলজিইডির দায়িত্বশীল ও গোপন সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা প্রয়োজনীয় রকমারি সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ ক্রয়ের নামে ভূতুড়ে ও কাল্পনিক ভাউচার সাজিয়ে প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা তুলে তা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন এই দুই প্রভাবশালী কর্মকর্তা। নামে মাত্র কিছু কাজ দেখিয়ে অথবা অধিকাংশ ক্ষেত্রে একেবারেই কাজ না করে বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ আত্মসাতের যে উৎসব তারা চালিয়েছেন, তাতে বর্তমানে হিসাব রক্ষক ওবায়দুল হকের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। স্বল্প বেতনের একজন সামান্য প্রকল্প হিসাব রক্ষক হয়েও কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে এমন অঢেল ধন-সম্পদের মালিক হলেন তা নিয়ে চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নিজের এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকা ও অবৈধ সম্পদ ঢাকা এবং তার আশেপাশের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বৈচিত্র্যময় কৌশলে বিনিয়োগ করেছেন ওবায়দুল হক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চোখ ফাঁকি দিতে তিনি অধিকাংশ সম্পত্তি স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের নামে-বেনামে কিনেছেন। শুধুমাত্র ঢাকার কাছে সাভারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক এলাকায় প্রায় ৩০০ শতাংশেরও বেশি মূল্যবান জমি কিনে নিজের একক নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন তিনি। এছাড়া সাভার ও ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে একাধিক বহু তলা আলিশান বাড়ি, একাধিক অভিজাত ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক প্লট এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ি। সাভারের তালবাগ এলাকায় তার নিজস্ব বাসভবনটির নির্মাণশৈলী ও আধুনিকতার ঝলক দেখলেই থমকে যান স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ সুগভীর নথিপত্র সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, রংপুর বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে জাঁকিয়ে বসার কারণে তৎকালীন প্রকল্প পরিচালককে নিজের হাতের পুতুলে পরিণত করেছিলেন ধুরন্ধর ওবায়দুল হক। প্রকল্পের প্রতিটি ছোট-বড় কেনাকাটা, ঠিকাদার নিয়োগ, বিল অনুমোদন এবং প্রশাসনিক খরচের ফাইল নিয়ন্ত্রণ হতো তার প্রত্যক্ষ মাধ্যমে। সরকারি নিয়ম-কানুনকে তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে সরঞ্জাম ক্রয়ের ভূতুড়ে বিল প্রস্তুত করে কোটি কোটি টাকা তুলে হাতিয়ে নেওয়া ছিল তার নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত। রাষ্ট্রীয় এই মহালুটপাটের মাধ্যমে সাভার ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অর্জিত সম্পদের বিশাল পাহাড় তৈরি করলেও রাজস্ব ফাঁকি দিতে আয়কর নথিতে তিনি সুকৌশলে প্রকৃত সম্পদের অধিকাংশ তথ্যই গোপন রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে দেওয়ান ওবায়দুল হককে একাধিকবার ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এলজিইডির সাধারণ কর্মচারীদের মাঝে এখন কানাকানি ও তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে যে, কীভাবে একজন সাধারণ হিসাব রক্ষক দীর্ঘ সময় ধরে একটি প্রকল্পে অবস্থান করে প্রকল্প পরিচালককে সাথে নিয়ে এমন প্রকাশ্য লুটপাট চালাতে পারলেন। তার দুর্নীতির শেকড় এতটাই গভীরে যে, প্রকল্প পরিবর্তনের স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকেও তিনি নানা চাতুর্য ও প্রভাবে স্তব্ধ করে রেখেছিলেন। সাভারের সাধারণ মানুষ ও ভূক্তভোগী সেবাপ্রত্যাশীরা বলছেন ওবায়দুল হকের এই বিপুল বিত্ত-বৈভবের উৎস অনুসন্ধান করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তার সমস্ত ব্যাংকিং লেনদেন, কর নথি এবং নামে-বেনামে থাকা সম্পত্তির সরজমিন নিরপেক্ষ তদন্ত চালালে থোকা থোকা দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর হাজারো রূপ উন্মোচিত হবে। সাভার নামা বাজারের বাসিন্দা আবু তাহেরের লিখিত এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পর বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। অভিযোগে স্পষ্টভাবে দাবি জানানো হয়েছে যে, দেওয়ান ওবায়দুল হকের রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির এই মহোৎসবের বিরুদ্ধে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। একইসাথে তার ও তার পরিবারের সমস্ত অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব বের করে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করা এবং সরকারি চাকরিবিধি ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই দুর্নীতিবাজ হিসাব রক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের সচিব সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।