পায়ে শিকল,দিনে একবেলা খাবার,মারধরের সময় বাজাত সাউন্ডবক্স,অতঃপর অপহৃত নিলয়কে উদ্ধার করল র্যাব
- আপডেট: ০৫:৩৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮০০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
বিদেশে পাঠানোর কথা বলে নেওয়া হয়েছিল ৫ লাখ টাকা। পরে তাকে অপহরণ করে পরিবারের কাছে দাবি করা হয় আরও ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ। পরিবার বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে ৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা পাঠিয়েও নিলয় শিকদারকে (৩৫) মুক্ত করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত পায়ে শিকল পরিয়ে গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে রাখা অবস্থায় অপহরণের নয় দিন পর তাকে উদ্ধার করেছে র্যাব।
শনিবার রাতে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার চরকমলাপুর এলাকার একটি আবাসিক ভবন থেকে গতকাল নিলয়কে উদ্ধার করে র্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। এ সময় অপহরণ চক্রের মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন–চক্রের মূলহোতা মো. ফেরদৌস উর রহমান (৪২), মহুয়া আহমেদ (৩২) ও এস এম মনোয়ার (৩৬)।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকালে কেরানীগঞ্জে র্যাব-১০-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নটির অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান। এসময় র্যাব-১০ সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, নিলয় যশোরের জিকরগাছা উপজেলার মহেষপাড়া এলাকার বাসিন্দা। বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে পাসপোর্টসহ কয়েক দফায় ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাকে বিদেশে পাঠানো হয়নি।
র্যাবের অনুসন্ধান অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট নিলয়কে অপহরণ করা হয়। পরে তার পরিবারের কাছে ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। নিলয়কে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় তার পরিবার বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে মোট ৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা পাঠায়। তবে এরপরও তাকে মুক্তি না দিয়ে আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় নিলয়ের শ্বশুর বাদী হয়ে ঝালকাঠির কাঠালিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচনের ভিত্তিতে র্যাব-১০ গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।
এর ধারাবাহিকতায় গতকাল রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে র্যাব-১০-এর সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি দল ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার চরকমলাপুর এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালায়। সেখান থেকে পায়ে শিকল পরানো ও তালাবদ্ধ অবস্থায় নিলয়কে উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে অপহরণের মূলহোতা মো. ফেরদৌস উর রহমান (৪২) ও মহুয়া আহমেদ (৩২)কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার মুন্সীডাঙ্গী এলাকার নিজ বাড়ি থেকে এস এম মনোয়ার (৩৬)কে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে দুটি লোহার শিকল, চাবিসহ দুটি তালা, দুটি স্টিলের পাইপ, একটি চাকু, ছয়টি মুঠোফোন ও কিছু নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, নিলয়কে একটি কক্ষে আটকে রেখে পায়ে শিকল পরিয়ে গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। তাকে মারধর করা হতো এবং দিনে একবেলা খাবার দেওয়া হতো। রাতে নির্যাতনের সময় চিৎকারের শব্দ যেন বাইরে না যায়, সে জন্য উচ্চশব্দে সাউন্ডবক্স বাজানো হতো।
র্যাবের সতর্কবার্তা
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০ এর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। অপহরণ ও মানব পাচারকারী দালাল চক্রের মাধ্যমে বিদেশে না গিয়ে বৈধ ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা র্যাবকে জানানোর আহ্বান জানান।



















