১২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • আপডেট: ১১:৪৮:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৮০০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন,’ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি এখানে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।’

বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তরে “শুভারম্ভ ফলক” উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এসব বলেন তিনি।

ডিসেম্বর মাস ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের অস্থিরতা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, আপনারা ডিসেম্বর ডিসেম্বর করছেন কেন? ডিসেম্বর তো আমাদের বিজয়ের মাস। ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি এখানে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপির দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটা সদর দপ্তর স্থাপন হবে সুষ্ঠু, একটা পরিকল্পিত জায়গায়, একটা প্রপার লোকেশনে। সেই স্বপ্নটা আজকে আমাদের পূরণ হয়েছে। আমরা গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩ দশমিক ৪৫ একর অর্থাৎ প্রায় ১১ বিঘার মতো। এই জায়গাটা বরাদ্দ পেয়েছি আনসারের সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য। আমরা একটা বড় পরিকল্পনা করে এখানে আনসারের সদর দপ্তর নিয়ে আসব। এত বড় আনসার-ভিডিপির মতো একটা ফোর্সের খিলগাঁওয়ে জায়গা সংকুলান হয় না।

বাংলাদেশের ব্যাটালিয়ন আনসার আছে ২০ হাজার এর মতো জানিয়ে তিনি বলেন, অঙ্গীভূত আনসারের সংখ্যা হচ্ছে ৬০ হাজার। ৮০ হাজার এর এই ফোর্স। এর বাইরে আছে ভিডিপি। ৩৫ হাজার দলনেতা ভিডিপির। তাদের অধীনে আবার ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি আছে ভিডিপির। এটা বলতে গেলে সংখ্যার দিক থেকে রেগুলার এবং ইরেগুলার সব মিলিয়ে সবচাইতে বড় ফোর্স। এই ফোর্সের আনসার ব্যাটালিয়নের যারা অঙ্গীভূত তারা বাদে রেগুলার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সরকারি বিভিন্ন স্থাপনার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধিদপ্তরের চাহিদা মাফিক কাজ করে। কিন্তু তাদের আবাসন সংকট রয়ে গেছে এখনও। যারা সেন্ট্রালি এখানে ডিউটি করে তারা তাদের রাত্রি যাপনের জায়গাও ঠিকমতো খুঁজে পায় না। সেজন্য আমরা এখানে সেন্ট্রালি একটা ডরমেটরির ব্যবস্থাও করব। আর তাদের আবাসনের জন্য ব্যারাক নির্মাণসহ তাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করব।

আজকে আনসার ব্যাটালিয়নের জন্য একটা ঐতিহাসিক দিন উল্যখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরে এই বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিয়েছি। যাতে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা সুষ্ঠুভাবে রক্ষা করা যায়, উন্নতি করা যায় এবং আনসার ব্যাটালিয়নের ভূমিকা আরও সম্প্রসারিত করা যায়। আনসার ব্যাটালিয়নের ঐতিহাসিক কিছু অর্জন আছে এবং আনসার ব্যাটালিয়নের সম্পর্কে আমরা গর্ব করার মতো অনেক জায়গা আছে। আমরা আশা করি এই ব্যাটালিয়ন আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। রাষ্ট্রের শান্তি, শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য ভিডিপিসহ অন্যান্য যারা অঙ্গীভূত আনসারে কাজ করে, সবাই তারা তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে পারবে। তাদের আর্থিক সহযোগিতার জন্য আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সবসময় চেষ্টা করছি। এখনও তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আছে, এগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে পূরণ করব।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যেটা ল এনফোর্সার্স, বিভিন্ন এজেন্সিস আছে, তারা সবাই সমন্বিতভাবে একটা অপারেশন পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই জায়গায় আনসার ব্যাটালিয়নও থাকবে, পুলিশ, বিজিবি, এসআরবিসহ অন্যান্য ফোর্স থাকবে। সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করবে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকের মতো হীন অপরাধ দমনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটা সমন্বিত উদ্যোগ সবসময় থাকে, এখনও সেটা চলছে, সামনে আমরা আরও জোরদার করব।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কারো কারো দায়িত্ব অবহেলা আমরা লক্ষ্য করেছি। সেজন্য আমরা যেগুলো আমাদের সামনে আসছে, নজরে আসছে, তদন্তে আসছে, সেগুলো আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি, ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং করছি। ক্ষেত্রবিশেষে আমরা শুধু তাদেরকে প্রত্যাহার করেই ক্ষান্ত হচ্ছি না, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং ক্রিমিনাল অফেন্স যদি হয়ে থাকে তাদের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল অফেন্সে অভিযোগ আনায়ন করা হচ্ছে। এই মেসেজ আমরা দিয়েছি সব জায়গায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট: ১১:৪৮:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন,’ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি এখানে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।’

বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তরে “শুভারম্ভ ফলক” উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এসব বলেন তিনি।

ডিসেম্বর মাস ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের অস্থিরতা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, আপনারা ডিসেম্বর ডিসেম্বর করছেন কেন? ডিসেম্বর তো আমাদের বিজয়ের মাস। ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি এখানে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপির দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটা সদর দপ্তর স্থাপন হবে সুষ্ঠু, একটা পরিকল্পিত জায়গায়, একটা প্রপার লোকেশনে। সেই স্বপ্নটা আজকে আমাদের পূরণ হয়েছে। আমরা গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩ দশমিক ৪৫ একর অর্থাৎ প্রায় ১১ বিঘার মতো। এই জায়গাটা বরাদ্দ পেয়েছি আনসারের সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য। আমরা একটা বড় পরিকল্পনা করে এখানে আনসারের সদর দপ্তর নিয়ে আসব। এত বড় আনসার-ভিডিপির মতো একটা ফোর্সের খিলগাঁওয়ে জায়গা সংকুলান হয় না।

বাংলাদেশের ব্যাটালিয়ন আনসার আছে ২০ হাজার এর মতো জানিয়ে তিনি বলেন, অঙ্গীভূত আনসারের সংখ্যা হচ্ছে ৬০ হাজার। ৮০ হাজার এর এই ফোর্স। এর বাইরে আছে ভিডিপি। ৩৫ হাজার দলনেতা ভিডিপির। তাদের অধীনে আবার ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি আছে ভিডিপির। এটা বলতে গেলে সংখ্যার দিক থেকে রেগুলার এবং ইরেগুলার সব মিলিয়ে সবচাইতে বড় ফোর্স। এই ফোর্সের আনসার ব্যাটালিয়নের যারা অঙ্গীভূত তারা বাদে রেগুলার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সরকারি বিভিন্ন স্থাপনার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধিদপ্তরের চাহিদা মাফিক কাজ করে। কিন্তু তাদের আবাসন সংকট রয়ে গেছে এখনও। যারা সেন্ট্রালি এখানে ডিউটি করে তারা তাদের রাত্রি যাপনের জায়গাও ঠিকমতো খুঁজে পায় না। সেজন্য আমরা এখানে সেন্ট্রালি একটা ডরমেটরির ব্যবস্থাও করব। আর তাদের আবাসনের জন্য ব্যারাক নির্মাণসহ তাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করব।

আজকে আনসার ব্যাটালিয়নের জন্য একটা ঐতিহাসিক দিন উল্যখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরে এই বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিয়েছি। যাতে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা সুষ্ঠুভাবে রক্ষা করা যায়, উন্নতি করা যায় এবং আনসার ব্যাটালিয়নের ভূমিকা আরও সম্প্রসারিত করা যায়। আনসার ব্যাটালিয়নের ঐতিহাসিক কিছু অর্জন আছে এবং আনসার ব্যাটালিয়নের সম্পর্কে আমরা গর্ব করার মতো অনেক জায়গা আছে। আমরা আশা করি এই ব্যাটালিয়ন আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। রাষ্ট্রের শান্তি, শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য ভিডিপিসহ অন্যান্য যারা অঙ্গীভূত আনসারে কাজ করে, সবাই তারা তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে পারবে। তাদের আর্থিক সহযোগিতার জন্য আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সবসময় চেষ্টা করছি। এখনও তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আছে, এগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে পূরণ করব।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যেটা ল এনফোর্সার্স, বিভিন্ন এজেন্সিস আছে, তারা সবাই সমন্বিতভাবে একটা অপারেশন পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই জায়গায় আনসার ব্যাটালিয়নও থাকবে, পুলিশ, বিজিবি, এসআরবিসহ অন্যান্য ফোর্স থাকবে। সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করবে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকের মতো হীন অপরাধ দমনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটা সমন্বিত উদ্যোগ সবসময় থাকে, এখনও সেটা চলছে, সামনে আমরা আরও জোরদার করব।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কারো কারো দায়িত্ব অবহেলা আমরা লক্ষ্য করেছি। সেজন্য আমরা যেগুলো আমাদের সামনে আসছে, নজরে আসছে, তদন্তে আসছে, সেগুলো আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি, ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং করছি। ক্ষেত্রবিশেষে আমরা শুধু তাদেরকে প্রত্যাহার করেই ক্ষান্ত হচ্ছি না, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং ক্রিমিনাল অফেন্স যদি হয়ে থাকে তাদের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল অফেন্সে অভিযোগ আনায়ন করা হচ্ছে। এই মেসেজ আমরা দিয়েছি সব জায়গায়।