০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

১০০ গাড়ি জমলেই বাজবে অ্যালার্ম, ড্রোন ছাড়াই কমবে হাইওয়ের যানজট

  • আপডেট: ০৯:৩৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৮০০১

মে.দীন ইসলাম,ঢাকা

মহাসড়কে যানজট নিরসন ও নিরাপত্তা তদারকিতে ড্রোন প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দিকে হাঁটছে হাইওয়ে পুলিশ। এখন থেকে কোনো পয়েন্টে একসঙ্গে ১০০টি গাড়ি জটলা পাকালেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত দেবে এআই ক্যামেরা, যা ড্রোন ব্যবহার ছাড়াই দ্রুত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। দীর্ঘ যানজটের ভোগান্তি এড়াতে ও সার্বিক সড়ক ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) এবং দ্রুত ক্যাশলেস ব্যবস্থা কার্যকরের উদ্যোগ নিচ্ছে হাইওয়ে পুলিশ। এছাড়া মহাসড়ক আধুনিকায়নে নানান প্রযুক্তি ব্যবস্তার দিকে এগোচ্ছে হাইওয়ে পুলিশ। এসব বিষয় নিয়ে সোনালী খবরের প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে কথা হয় হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদের।

প্রশ্ন: হাইওয়েতে এআই ব্যবহারে কেমন প্রভাব পড়েছে এবং স্মার্ট ট্রাফিক ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন কতটা হচ্ছে ও সম্ভাবনা রয়েছে?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়েতে এআই-ভিত্তিক ‘অটো ফাইন’ সিস্টেম চালু করা হয়েছে মাত্র কয়েকদিন হলো। সেখানে ১৪২৭টিরও বেশি এআই সক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এতে আমরা ভালোই সারা পেয়েছি।

সবাই এখন আইন মেনে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করছে। তবে নিয়ম না মানার কারণে প্রতিদিন গড়ে ৩৬টি করে এআই মামলা হচ্ছে। আমরা এটা একমাস পর্যবেক্ষণ করবো। এরপর ক্রমান্বয়ে অন্যান্য হাইওয়ে মহাসড়কে প্রয়োগ করার চেষ্টা করা হবে।

প্রশ্ন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশাপাশি অন্যান্য মহাসড়কগুলোতে ‘এআই’ ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: অন্যান্য মহাসড়কে যেমন মাওয়ায় যে সড়ক আছে, সেখানে ক্যামেরা বসানো আছে। এটা নিয়ে অল্পদিনের মধ্যেই একটা এমওইউ হবে।
তখন আমরা এখানে অল্পদিনের মধ্যে একটা মিটিং দিব। এর মাধ্যমে আমরা ঠিক করে দিব যে আমরা ঐটা কিভাবে করব। আশা করি এক মাসের মধ্যে আমরা ঐ সড়কেও ‘এআই’ সিস্টেম চালু হয়ে যাবে। আর অন্যান্য যেসব হাইওয়ে সড়কগুলো আছে, ঢাকা থেকে শুরু হয়ে রংপুর থেকে একবারে চাপাইনবাবগঞ্জ; সেখানে একটা রোড সেফটি প্রজেক্ট শুরু হবে। সমীক্ষা হয়ে গেছে, টেন্ডার দেবে।

এরকম আরেকটা বগুড়া ও রংপুর হয়ে দিনাজপুরের দিকে, ঐটাও সমীক্ষা চলতেছে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে প্রজেক্টগুলো হাতে নেওয়া হবে এবং এটা একসময় সারা বাংলাদেশেই কাভার করবে।

প্রশ্ন: উৎসবের দিনগুলোতে মহাসড়কের টোল প্লাজায় ব্যাপক ভিড় বা জানযট দেখা যায়। এটা কমিয়ে আনতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ও ক্যাশলেস হাইওয়ে ব্যবস্থা করা যায় কিনা?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: এটা হলে যানজট অনেকটাই কমে আসবে। টোল প্লাজাগুলোতে দীর্ঘ যানজট এড়াতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ও ক্যাশলেস হাইওয়ে নিয়ে কাজ চলছে। এই ব্যবস্থা করতে পারলে খুবই ভালো হয়। তবে কিছু কিছু আবার জটিলতাও রয়েছে। চেষ্টা করা হচ্ছে ক্যাশলেস ব্যবস্থাটা যাতে দ্রুত করা যায়।

প্রশ্ন: হাইওয়েতে চাঁদাবাজি ঠেকাতে এবং চেকপোস্টের নামে হয়রানি রোধে পুলিশ কতটা দায়িত্ব পালন করছে?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: আমাদের প্রচেষ্টা আছে, যেটা আমি আসার পরে প্রথমেই চেষ্টা করছি, সেটা হলো যে হাইওয়েতে চাঁদাবাজি ঠেকানো। সেটা পুলিশের পক্ষ থেকেই হোক অথবা শ্রমিক বা মালিক সংগঠনের। এটাকে চাঁদাবাজিও বলতে চাই না, কারণ ওরা ওয়েলফেয়ারের জন্য কিছু টাকা নেয়। তো সেটাও আমরা বলছি যে এটা টার্মিনালের বাইরে হবে না। এই যে ওয়েলফেয়ার ফান্ড বা যে ফান্ডই হোক, কল্যাণের ফান্ডই হোক আর যে ফান্ডই হোক, এটার কোনো টাকা রাস্তার বাইরে নেওয়া যাবে না। আর পুলিশ তো নিবেই না। পুলিশ গাড়ি দাঁড় করাতেই পারবে না, কোনো চেকপোস্ট করা যাবে না। মানুষ হাইওয়েতে গাড়ি নিয়ে আসে নিরাপদে এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে। তাহলে এখানে রেনডম চেকপয়েন্ট আমরা করব না। আমরা করবো, যদি স্পেসিফিক ইনফরমেশন পাই, গাড়ির স্পেসিফিক ইনফরমেশন আছে, তাহলে আমরা সমন্বিতভাবে সেটাকে সার্চ করব। কিন্তু নরমাল ওয়েতে র্যান্ডমলি হয়রানি তৈরি করে এমনটা করা যাবে না।

প্রশ্ন: হাইওয়েতে চালকদের ডোপ টেস্ট এবং তাদের বিশ্রামাগারের ব্যবস্থাটার অগ্রগতি কতদূর?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমি তো দায়িত্বে এসেছি বেশি দিন হয়নি, যতটুক জানি- কুমিল্লার নিমতলীর পাশে তাদের রেস্টের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। কনস্ট্রাকশন এখনও কমপ্লিট হয়নি। ঐরকম ইউজেবল হয়নি, কিন্তু এটা কার্যক্রম চলমান আছে। হয়তো অল্প সময়ের মধ্যে হবে, বেশি সময় লাগবে না। আমাদের দেশে তো আমরা অনেক কার্যক্রমই নিই। কিন্তু একদম লাস্ট পর্যন্ত সেটা আমরা যদি ফাংশনিং যদি করতে পারি, সেটা হলো এচিভমেন্ট। একটা জিনিস করলাম, দেখা গেল যাত্রীছাউনি করছি, যাত্রীছাউনিতে যাত্রীরা বসে না, কুকুর ঘুমায়। তো ঐরকম যদি আপনি মনে করেন যে বিশ্রামাগার বানালাম, দেখা গেল বিশ্রামাগার পড়ে আছে, ঐখানে ট্রাক এসে ঢোকে না। বিশ্রামাগার একপাশে, ট্রাক রাস্তার মধ্যে থাকে, এটা আনফরচুনেট। এজন্য একটা জিনিস তৈরি হওয়ার পরে সেটাকে আমরা যে উদ্দেশ্যে তৈরি করছি সেটা ফাংশনিং না হওয়া পর্যন্ত তো এটাকে আসলে সফল বলা যাবে না। তো ঐটা হওয়ার পর তারপর বোঝা যাবে যে একচুয়ালি ড্রাইভাররা এটা ইউজ করতেছে কি না।

প্রশ্ন: দুর্ঘটনা ঘটার পর প্রথম ১ ঘণ্টার মধ্যে আহতদের উদ্ধার ও নিকটস্থ হাসপাতালে পৌঁছাতে হাইওয়ে পুলিশের রেসকিউ টিমের বর্তমান চিত্র কেমন রয়েছে। সেই সঙ্গে মহাসড়কে দুর্ঘটনাকবলিত বা নষ্ট হওয়া গাড়ি কারণে দীর্ঘ যানজটের বিষয়ে কি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: এটা চেষ্টা হয়। আর অনেক সময় দেখা যায় দুর্ঘটনার কারণে রাস্তা ব্লক হয়ে যায়। তখন গাড়ি এসে ধাক্কা দিয়ে সরায়। আর যদি আশেপাশে ঐরকম রিমুভ করার মতো সামর্থ না থাকে… যেমন- অনেক সময় দেখা যায় অনেক বেশি হ্যাভি ট্রান্সপোর্টের ঝামেলা হয়েছে। তো ঐটা রিমুভ করার জন্য শক্তিশালী র‌্যাকার যদি না থাকে, তখন ঝামেলা তৈরি হয়। সেসময়ে এই পরিস্থিতির কারণেও টাইমলি রেসপন্স বা… এটা আমাদের লিমিটেশন। এটা আসলে আমাদের ব্যবস্থাপনা প্লাস হলো সম্পত্তির লিমিটেশন। এটার কারণে অনেক ক্ষেত্রে হয়। তাছাড়া নরমালি ট্রাই করা হয় যে টাইমলি রিলিজ করার। আর তাছাড়া আমাদের দেশের লোক এগুলোর ক্ষেত্রে আবার কন্ট্রিবিউট করে। মানে একটা এক্সিডেন্ট ঘটলে সাথে সাথে আশেপাশের পাবলিকই কিন্তু এই হেল্পগুলো করে। পুলিশ না যাওয়ার আগেও কিন্তু দেখা যায় নিকটবর্তী কোনো জায়গায় গাড়িতে করে পাঠিয়ে দেয়। আমি মনে করি এই ব্যাপারে আবার আমাদের লোকজন এবং পাবলিকের হেল্পের রেসপন্স খুব ভালো। কিন্তু কিছু লিমিটেশনের কারণে আমাদের হয়তো দেরি হয়।

প্রশ্ন: র‌্যাকার ব্যবস্থা আধুনিক ও শক্তিশালীভাবে আরও উন্নত করা যায় কি না?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: হাইওয়েতে আমাদের গাড়ির সংকট আছে। হাইওয়েতে যদি গাড়ি কম থাকে তাহলে তো এই কাজগুলো করা যাবে না। এজন্য আমাদের গাড়ি কেনা এখন সরকারি বাজেট থেকে একটু ডিফিকাল্ট। আমরা একটা প্রজেক্ট নিয়েছি, ১৯০টা পিকআপ। হ্যাভি ক্রেনের রিকোয়ারমেন্ট দেওয়া আছে। সে ক্ষেত্রে এটা হয়ে গেলে, তখন দেখা যাবে রাস্তা থেকে গাড়িগুলো রিমুভ করা অথবা টহল বাড়ানো, এটা আরও উন্নত কারা যাবে।

প্রশ্ন: হাইওয়ে ওয়েট-স্কেল কতটা কার্যকর রয়েছে কিনা? সেই সঙ্গে ফাঁকি দিয়ে অতিরিক্ত পণ্যবাহী যান চলাচলে সড়ক নষ্ট হচ্ছে- এক্ষেত্রে আপনাদের তদারকি কতটা শক্তিশালী?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: ওয়েট স্কেল আছে। কিন্তু এগুলো আমি যেটা শুনলাম এখন আরও আধুনিক হচ্ছে। এজন্য প্রযুক্তির জিনিস কেনা হচ্ছে, ঐটা অল্পদিনের মধ্যে হয়ে যাবে। এটা অটো সিস্টেম হওয়া উচিত। কারণ, যদি ওভারলোড হয়ে যায়, সঙ্গে সঙ্গে ওয়েটও করবে প্লাস সমস্যা পেলে মামলাও করে দিবে। ওভারলোড গাড়ির কারণে রাস্তা ব্লক হয়ে যায়।

প্রশ্ন: হাইওয়েতে ড্রোন বা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করা যায় কি না? ড্রোন ও স্যাটেলাইট ডাটা ব্যবহার করে সম্পূর্ণ দেশের হাইওয়ে নেটওয়ার্ক আরও সহজ করা যায় সম্ভব?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: ড্রোন আমাদের আছে, কিন্তু এটা আপনি আল্টিমেটলি পিকচার ক্যাপচার করতে পারবেন। কিন্তু এখন মনে হয় না ওই রকম সংকট আমরা ফেস করি যে ইনফরমেশনটা পাচ্ছি না। বরং ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়েতে এআই ক্যামেরা আছে, আমাদের এই সুবিধা আছে। যেটা আমরা হয়তো অল্পদিনের মধ্যে স্টার্ট করব। এখন এটা টেস্ট ফেজে আছে। কোনো জায়গায় জট লাগলে, এআই ক্যামেরায় আমাকে সিগন্যাল দিবে। ১০০টা গাড়ি এক জায়গায় জমলে এআই ক্যামেরা আমাকে সিগন্যাল দিবে যে ১০০টার গাড়ি এখানে… মানে ১০০টা গাড়ি হলেই সিগন্যাল দিবে যে এখানে একটা জট দেখা যাচ্ছে। তখন সঙ্গে সঙ্গে আমরা রেসপন্স করতে পারব। যেটা এখন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আছে, কেউ হয়তো ফোন করল বা জানাল। তো এটা আমরা অটো জানতে পারব। ওই সিস্টেমে আমরা যাচ্ছি, তখন আমাদের মনে হয় আর ড্রোন লাগবে না।

প্রশ্ন: মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনা হওয়ার পর যে জিনিসগুলো বেরিয়ে আসে- বাসের নিবন্ধন নাই, ফিটনেস নাই। এই বিষয়গুলো আপনারা কীভাবে দেখছেন?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: অভিজ্ঞতা বা কাজের আলোকে যেটা বলব, সংবাদে যে জিনিসগুলো হাইলাইট করা হয়, তারচেয়ে অন্য বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য থাকে। ওই জিনিসগুলো আমরা গুরুত্ব দিই। গুরুত্ব দিই যে কারণে ঘটনা ঘটে নাই সেগুলোর প্রতি। ফিটনেসের কারণে বড় ধরনের এক্সিডেন্ট হইছে সেই পার্সেন্টেজ খুব কম। ম্যাক্সিমাম জায়গায় যে এক্সিডেন্ট হয়- ফ্যাটাল এক্সিডেন্ট। মাইনরগুলো তো এই যে একটার সঙ্গে আরেকটার ধাক্কা। যত ধরনের ফ্যাটাল এক্সিডেন্ট হয় তাতে বড় রকমের ইনজুরি হয়, এটার প্রধান কারণ ড্রাইভার। যদি দুইজন ড্রাইভারই ভুল করে, এই এক্সিডেন্টের মাত্রাটা বাড়ে। একজন ড্রাইভার ভুল করলে এক্সিডেন্টের মাত্রাটা কমে। ড্রাইভার যদি ঠিক থাকে, তাহলে ফ্যাটাল এক্সিডেন্ট কমাতে পারবে। দ্বিতীয়ত: সড়কে ডিভাইডার না থাকা। যত রাস্তায় বড় বড় এক্সিডেন্ট দেখবেন, এটা সড়কে ডিভাইডার না থাকার জন্য।

ডিভাইডার থাকলে মুখোমুখি সংঘর্ষ হবে না, আর মুখোমুখি সংঘর্ষ না হলে বড় এক্সিডেন্টও হবে না। আপনার একটা গাড়ি আরেকটার পিছনের সাথে ধাক্কা দিবে, আপনার ক্ষতি কম হবে। মুখোমুখি যখন লাগবে, তখন এটার ক্ষতি বেশি হয়। যেমনটা সম্প্রতি সিলেট সড়কে দেখা গেছে। ওই সড়কে যদি ডিভাইডার থাকত, তাহলে এই বড় ধরনের এক্সিডেন্ট হতো না। কাজেই, ফিটনেস দুর্ঘটনার কারণ, কিন্তু বড় এক্সিডেন্টের কারণ না।

আগে ঢাকা-চট্টগ্রামে অনেক এক্সিডেন্ট হতো, পরবর্তীতে ডিভাইডার দেওয়ার পর অনেক কমে গেছে, এক্সিডেন্ট নাই বললেই চলে।

তৃতীয়ত: স্পিড কন্ট্রোল করা। যদি এই তিনটা জিনিস যদি নিশ্চিত করতে পারি যে, প্রশিক্ষিত ড্রাইভার, ডিভাইডার এবং গতি কন্ট্রোল করা যায় অটোমেটিক পদ্ধতিতে; তবে দুর্ঘটনা শূন্যের কাছাকাছি চলে আসবে।

প্রশ্ন: হাইওয়েগুলোতে এখনও অটো রিকশা দিব্যি চলছে। এটা কি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: এটার আসলে ব্যবসায়ীক একটা দ্বন্দ্ব আছে। মালিক শ্রমিকরা যেভাবে বলে, সেটা ঐরকম না। অটো রিকশা চুরি করে সড়কের ডান বা বাম দিক দিয়ে যায়। ফলে ওরা যত বলে, এক্সিডেন্টের পরিমাণ তারচেয়ে কম। ওরা চুরি করে আস্তে আস্তে যায়, এরা জোরেও যায় না। হ্যাভি গাড়িগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষ খুব কম হয়। কিন্তু অটো রিকশা হাইওয়েতে ওঠানোও ঠিক না। ঝামেলা তো হয়ই।

প্রশ্ন: দুর্ঘটনা ঘটলে জ্যাম লেগে থাকে, তখন হাইওয়ে পুলিশ রেসপন্স করতে অনেক সময় লাগে। হাইওয়ের পুলিশ সদস্যদের ফোন দিয়ে পাওয়া না পাওয়ার বা রেসপন্স না করার- এমন অভিযোগের বিষয়ে কি বলবেন?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: এই সমস্যাটা আছে। ট্রাফিক পুলিশ বা হাইওয়ে পুলিশ সময় মতো রেসপন্স করে তাহলে যানজট অনেকটাই দূর করা যায়। কিন্তু আমরা টাইমলি রেসপন্স করি না। আমি বলব- আমাদের সেবামূলক মানসিকতা, মানবিকতা, এটা কম। ফলে সড়কে যানজটের কারণে মানুষের যে কত ধরনের সমস্যা হতে পারে, সেটা আমরা মানবিক দিক দিয়ে বিশ্লেষণ করি না। টাইমলি রেসপন্স করলে এটা কমানো সম্ভব, কিন্তু করি না। আমি ট্রাই করছি এই সমস্যা দূর করার। আমি হাইওয়েতে নির্দেশনা দিয়েছি- সড়কে টাকা নেওয়া যাবে না এবং যানজট নিরসনে সহায়ক হতে হবে। এটাই হলো বেসিক কাজ আমাদের। কিছু লিমিটেশন থাকা স্বত্ত্বেও সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন, এটা আপনাকে প্রমাণ করতে হবে। যে আমি খবর পাওয়া মাত্রই টাইমলি গিয়েছি অথবা আমি যাওয়ার পর যে পরিমাণ এফোর্ট দেওয়া দরকার ছিল সেটা করেছি- এটা আপনাকে প্রমাণ করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

১০০ গাড়ি জমলেই বাজবে অ্যালার্ম, ড্রোন ছাড়াই কমবে হাইওয়ের যানজট

আপডেট: ০৯:৩৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

মে.দীন ইসলাম,ঢাকা

মহাসড়কে যানজট নিরসন ও নিরাপত্তা তদারকিতে ড্রোন প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দিকে হাঁটছে হাইওয়ে পুলিশ। এখন থেকে কোনো পয়েন্টে একসঙ্গে ১০০টি গাড়ি জটলা পাকালেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত দেবে এআই ক্যামেরা, যা ড্রোন ব্যবহার ছাড়াই দ্রুত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। দীর্ঘ যানজটের ভোগান্তি এড়াতে ও সার্বিক সড়ক ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) এবং দ্রুত ক্যাশলেস ব্যবস্থা কার্যকরের উদ্যোগ নিচ্ছে হাইওয়ে পুলিশ। এছাড়া মহাসড়ক আধুনিকায়নে নানান প্রযুক্তি ব্যবস্তার দিকে এগোচ্ছে হাইওয়ে পুলিশ। এসব বিষয় নিয়ে সোনালী খবরের প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে কথা হয় হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদের।

প্রশ্ন: হাইওয়েতে এআই ব্যবহারে কেমন প্রভাব পড়েছে এবং স্মার্ট ট্রাফিক ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন কতটা হচ্ছে ও সম্ভাবনা রয়েছে?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়েতে এআই-ভিত্তিক ‘অটো ফাইন’ সিস্টেম চালু করা হয়েছে মাত্র কয়েকদিন হলো। সেখানে ১৪২৭টিরও বেশি এআই সক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এতে আমরা ভালোই সারা পেয়েছি।

সবাই এখন আইন মেনে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করছে। তবে নিয়ম না মানার কারণে প্রতিদিন গড়ে ৩৬টি করে এআই মামলা হচ্ছে। আমরা এটা একমাস পর্যবেক্ষণ করবো। এরপর ক্রমান্বয়ে অন্যান্য হাইওয়ে মহাসড়কে প্রয়োগ করার চেষ্টা করা হবে।

প্রশ্ন: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশাপাশি অন্যান্য মহাসড়কগুলোতে ‘এআই’ ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: অন্যান্য মহাসড়কে যেমন মাওয়ায় যে সড়ক আছে, সেখানে ক্যামেরা বসানো আছে। এটা নিয়ে অল্পদিনের মধ্যেই একটা এমওইউ হবে।
তখন আমরা এখানে অল্পদিনের মধ্যে একটা মিটিং দিব। এর মাধ্যমে আমরা ঠিক করে দিব যে আমরা ঐটা কিভাবে করব। আশা করি এক মাসের মধ্যে আমরা ঐ সড়কেও ‘এআই’ সিস্টেম চালু হয়ে যাবে। আর অন্যান্য যেসব হাইওয়ে সড়কগুলো আছে, ঢাকা থেকে শুরু হয়ে রংপুর থেকে একবারে চাপাইনবাবগঞ্জ; সেখানে একটা রোড সেফটি প্রজেক্ট শুরু হবে। সমীক্ষা হয়ে গেছে, টেন্ডার দেবে।

এরকম আরেকটা বগুড়া ও রংপুর হয়ে দিনাজপুরের দিকে, ঐটাও সমীক্ষা চলতেছে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে প্রজেক্টগুলো হাতে নেওয়া হবে এবং এটা একসময় সারা বাংলাদেশেই কাভার করবে।

প্রশ্ন: উৎসবের দিনগুলোতে মহাসড়কের টোল প্লাজায় ব্যাপক ভিড় বা জানযট দেখা যায়। এটা কমিয়ে আনতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ও ক্যাশলেস হাইওয়ে ব্যবস্থা করা যায় কিনা?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: এটা হলে যানজট অনেকটাই কমে আসবে। টোল প্লাজাগুলোতে দীর্ঘ যানজট এড়াতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ও ক্যাশলেস হাইওয়ে নিয়ে কাজ চলছে। এই ব্যবস্থা করতে পারলে খুবই ভালো হয়। তবে কিছু কিছু আবার জটিলতাও রয়েছে। চেষ্টা করা হচ্ছে ক্যাশলেস ব্যবস্থাটা যাতে দ্রুত করা যায়।

প্রশ্ন: হাইওয়েতে চাঁদাবাজি ঠেকাতে এবং চেকপোস্টের নামে হয়রানি রোধে পুলিশ কতটা দায়িত্ব পালন করছে?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: আমাদের প্রচেষ্টা আছে, যেটা আমি আসার পরে প্রথমেই চেষ্টা করছি, সেটা হলো যে হাইওয়েতে চাঁদাবাজি ঠেকানো। সেটা পুলিশের পক্ষ থেকেই হোক অথবা শ্রমিক বা মালিক সংগঠনের। এটাকে চাঁদাবাজিও বলতে চাই না, কারণ ওরা ওয়েলফেয়ারের জন্য কিছু টাকা নেয়। তো সেটাও আমরা বলছি যে এটা টার্মিনালের বাইরে হবে না। এই যে ওয়েলফেয়ার ফান্ড বা যে ফান্ডই হোক, কল্যাণের ফান্ডই হোক আর যে ফান্ডই হোক, এটার কোনো টাকা রাস্তার বাইরে নেওয়া যাবে না। আর পুলিশ তো নিবেই না। পুলিশ গাড়ি দাঁড় করাতেই পারবে না, কোনো চেকপোস্ট করা যাবে না। মানুষ হাইওয়েতে গাড়ি নিয়ে আসে নিরাপদে এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে। তাহলে এখানে রেনডম চেকপয়েন্ট আমরা করব না। আমরা করবো, যদি স্পেসিফিক ইনফরমেশন পাই, গাড়ির স্পেসিফিক ইনফরমেশন আছে, তাহলে আমরা সমন্বিতভাবে সেটাকে সার্চ করব। কিন্তু নরমাল ওয়েতে র্যান্ডমলি হয়রানি তৈরি করে এমনটা করা যাবে না।

প্রশ্ন: হাইওয়েতে চালকদের ডোপ টেস্ট এবং তাদের বিশ্রামাগারের ব্যবস্থাটার অগ্রগতি কতদূর?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমি তো দায়িত্বে এসেছি বেশি দিন হয়নি, যতটুক জানি- কুমিল্লার নিমতলীর পাশে তাদের রেস্টের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। কনস্ট্রাকশন এখনও কমপ্লিট হয়নি। ঐরকম ইউজেবল হয়নি, কিন্তু এটা কার্যক্রম চলমান আছে। হয়তো অল্প সময়ের মধ্যে হবে, বেশি সময় লাগবে না। আমাদের দেশে তো আমরা অনেক কার্যক্রমই নিই। কিন্তু একদম লাস্ট পর্যন্ত সেটা আমরা যদি ফাংশনিং যদি করতে পারি, সেটা হলো এচিভমেন্ট। একটা জিনিস করলাম, দেখা গেল যাত্রীছাউনি করছি, যাত্রীছাউনিতে যাত্রীরা বসে না, কুকুর ঘুমায়। তো ঐরকম যদি আপনি মনে করেন যে বিশ্রামাগার বানালাম, দেখা গেল বিশ্রামাগার পড়ে আছে, ঐখানে ট্রাক এসে ঢোকে না। বিশ্রামাগার একপাশে, ট্রাক রাস্তার মধ্যে থাকে, এটা আনফরচুনেট। এজন্য একটা জিনিস তৈরি হওয়ার পরে সেটাকে আমরা যে উদ্দেশ্যে তৈরি করছি সেটা ফাংশনিং না হওয়া পর্যন্ত তো এটাকে আসলে সফল বলা যাবে না। তো ঐটা হওয়ার পর তারপর বোঝা যাবে যে একচুয়ালি ড্রাইভাররা এটা ইউজ করতেছে কি না।

প্রশ্ন: দুর্ঘটনা ঘটার পর প্রথম ১ ঘণ্টার মধ্যে আহতদের উদ্ধার ও নিকটস্থ হাসপাতালে পৌঁছাতে হাইওয়ে পুলিশের রেসকিউ টিমের বর্তমান চিত্র কেমন রয়েছে। সেই সঙ্গে মহাসড়কে দুর্ঘটনাকবলিত বা নষ্ট হওয়া গাড়ি কারণে দীর্ঘ যানজটের বিষয়ে কি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: এটা চেষ্টা হয়। আর অনেক সময় দেখা যায় দুর্ঘটনার কারণে রাস্তা ব্লক হয়ে যায়। তখন গাড়ি এসে ধাক্কা দিয়ে সরায়। আর যদি আশেপাশে ঐরকম রিমুভ করার মতো সামর্থ না থাকে… যেমন- অনেক সময় দেখা যায় অনেক বেশি হ্যাভি ট্রান্সপোর্টের ঝামেলা হয়েছে। তো ঐটা রিমুভ করার জন্য শক্তিশালী র‌্যাকার যদি না থাকে, তখন ঝামেলা তৈরি হয়। সেসময়ে এই পরিস্থিতির কারণেও টাইমলি রেসপন্স বা… এটা আমাদের লিমিটেশন। এটা আসলে আমাদের ব্যবস্থাপনা প্লাস হলো সম্পত্তির লিমিটেশন। এটার কারণে অনেক ক্ষেত্রে হয়। তাছাড়া নরমালি ট্রাই করা হয় যে টাইমলি রিলিজ করার। আর তাছাড়া আমাদের দেশের লোক এগুলোর ক্ষেত্রে আবার কন্ট্রিবিউট করে। মানে একটা এক্সিডেন্ট ঘটলে সাথে সাথে আশেপাশের পাবলিকই কিন্তু এই হেল্পগুলো করে। পুলিশ না যাওয়ার আগেও কিন্তু দেখা যায় নিকটবর্তী কোনো জায়গায় গাড়িতে করে পাঠিয়ে দেয়। আমি মনে করি এই ব্যাপারে আবার আমাদের লোকজন এবং পাবলিকের হেল্পের রেসপন্স খুব ভালো। কিন্তু কিছু লিমিটেশনের কারণে আমাদের হয়তো দেরি হয়।

প্রশ্ন: র‌্যাকার ব্যবস্থা আধুনিক ও শক্তিশালীভাবে আরও উন্নত করা যায় কি না?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: হাইওয়েতে আমাদের গাড়ির সংকট আছে। হাইওয়েতে যদি গাড়ি কম থাকে তাহলে তো এই কাজগুলো করা যাবে না। এজন্য আমাদের গাড়ি কেনা এখন সরকারি বাজেট থেকে একটু ডিফিকাল্ট। আমরা একটা প্রজেক্ট নিয়েছি, ১৯০টা পিকআপ। হ্যাভি ক্রেনের রিকোয়ারমেন্ট দেওয়া আছে। সে ক্ষেত্রে এটা হয়ে গেলে, তখন দেখা যাবে রাস্তা থেকে গাড়িগুলো রিমুভ করা অথবা টহল বাড়ানো, এটা আরও উন্নত কারা যাবে।

প্রশ্ন: হাইওয়ে ওয়েট-স্কেল কতটা কার্যকর রয়েছে কিনা? সেই সঙ্গে ফাঁকি দিয়ে অতিরিক্ত পণ্যবাহী যান চলাচলে সড়ক নষ্ট হচ্ছে- এক্ষেত্রে আপনাদের তদারকি কতটা শক্তিশালী?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: ওয়েট স্কেল আছে। কিন্তু এগুলো আমি যেটা শুনলাম এখন আরও আধুনিক হচ্ছে। এজন্য প্রযুক্তির জিনিস কেনা হচ্ছে, ঐটা অল্পদিনের মধ্যে হয়ে যাবে। এটা অটো সিস্টেম হওয়া উচিত। কারণ, যদি ওভারলোড হয়ে যায়, সঙ্গে সঙ্গে ওয়েটও করবে প্লাস সমস্যা পেলে মামলাও করে দিবে। ওভারলোড গাড়ির কারণে রাস্তা ব্লক হয়ে যায়।

প্রশ্ন: হাইওয়েতে ড্রোন বা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করা যায় কি না? ড্রোন ও স্যাটেলাইট ডাটা ব্যবহার করে সম্পূর্ণ দেশের হাইওয়ে নেটওয়ার্ক আরও সহজ করা যায় সম্ভব?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: ড্রোন আমাদের আছে, কিন্তু এটা আপনি আল্টিমেটলি পিকচার ক্যাপচার করতে পারবেন। কিন্তু এখন মনে হয় না ওই রকম সংকট আমরা ফেস করি যে ইনফরমেশনটা পাচ্ছি না। বরং ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়েতে এআই ক্যামেরা আছে, আমাদের এই সুবিধা আছে। যেটা আমরা হয়তো অল্পদিনের মধ্যে স্টার্ট করব। এখন এটা টেস্ট ফেজে আছে। কোনো জায়গায় জট লাগলে, এআই ক্যামেরায় আমাকে সিগন্যাল দিবে। ১০০টা গাড়ি এক জায়গায় জমলে এআই ক্যামেরা আমাকে সিগন্যাল দিবে যে ১০০টার গাড়ি এখানে… মানে ১০০টা গাড়ি হলেই সিগন্যাল দিবে যে এখানে একটা জট দেখা যাচ্ছে। তখন সঙ্গে সঙ্গে আমরা রেসপন্স করতে পারব। যেটা এখন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আছে, কেউ হয়তো ফোন করল বা জানাল। তো এটা আমরা অটো জানতে পারব। ওই সিস্টেমে আমরা যাচ্ছি, তখন আমাদের মনে হয় আর ড্রোন লাগবে না।

প্রশ্ন: মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনা হওয়ার পর যে জিনিসগুলো বেরিয়ে আসে- বাসের নিবন্ধন নাই, ফিটনেস নাই। এই বিষয়গুলো আপনারা কীভাবে দেখছেন?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: অভিজ্ঞতা বা কাজের আলোকে যেটা বলব, সংবাদে যে জিনিসগুলো হাইলাইট করা হয়, তারচেয়ে অন্য বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য থাকে। ওই জিনিসগুলো আমরা গুরুত্ব দিই। গুরুত্ব দিই যে কারণে ঘটনা ঘটে নাই সেগুলোর প্রতি। ফিটনেসের কারণে বড় ধরনের এক্সিডেন্ট হইছে সেই পার্সেন্টেজ খুব কম। ম্যাক্সিমাম জায়গায় যে এক্সিডেন্ট হয়- ফ্যাটাল এক্সিডেন্ট। মাইনরগুলো তো এই যে একটার সঙ্গে আরেকটার ধাক্কা। যত ধরনের ফ্যাটাল এক্সিডেন্ট হয় তাতে বড় রকমের ইনজুরি হয়, এটার প্রধান কারণ ড্রাইভার। যদি দুইজন ড্রাইভারই ভুল করে, এই এক্সিডেন্টের মাত্রাটা বাড়ে। একজন ড্রাইভার ভুল করলে এক্সিডেন্টের মাত্রাটা কমে। ড্রাইভার যদি ঠিক থাকে, তাহলে ফ্যাটাল এক্সিডেন্ট কমাতে পারবে। দ্বিতীয়ত: সড়কে ডিভাইডার না থাকা। যত রাস্তায় বড় বড় এক্সিডেন্ট দেখবেন, এটা সড়কে ডিভাইডার না থাকার জন্য।

ডিভাইডার থাকলে মুখোমুখি সংঘর্ষ হবে না, আর মুখোমুখি সংঘর্ষ না হলে বড় এক্সিডেন্টও হবে না। আপনার একটা গাড়ি আরেকটার পিছনের সাথে ধাক্কা দিবে, আপনার ক্ষতি কম হবে। মুখোমুখি যখন লাগবে, তখন এটার ক্ষতি বেশি হয়। যেমনটা সম্প্রতি সিলেট সড়কে দেখা গেছে। ওই সড়কে যদি ডিভাইডার থাকত, তাহলে এই বড় ধরনের এক্সিডেন্ট হতো না। কাজেই, ফিটনেস দুর্ঘটনার কারণ, কিন্তু বড় এক্সিডেন্টের কারণ না।

আগে ঢাকা-চট্টগ্রামে অনেক এক্সিডেন্ট হতো, পরবর্তীতে ডিভাইডার দেওয়ার পর অনেক কমে গেছে, এক্সিডেন্ট নাই বললেই চলে।

তৃতীয়ত: স্পিড কন্ট্রোল করা। যদি এই তিনটা জিনিস যদি নিশ্চিত করতে পারি যে, প্রশিক্ষিত ড্রাইভার, ডিভাইডার এবং গতি কন্ট্রোল করা যায় অটোমেটিক পদ্ধতিতে; তবে দুর্ঘটনা শূন্যের কাছাকাছি চলে আসবে।

প্রশ্ন: হাইওয়েগুলোতে এখনও অটো রিকশা দিব্যি চলছে। এটা কি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: এটার আসলে ব্যবসায়ীক একটা দ্বন্দ্ব আছে। মালিক শ্রমিকরা যেভাবে বলে, সেটা ঐরকম না। অটো রিকশা চুরি করে সড়কের ডান বা বাম দিক দিয়ে যায়। ফলে ওরা যত বলে, এক্সিডেন্টের পরিমাণ তারচেয়ে কম। ওরা চুরি করে আস্তে আস্তে যায়, এরা জোরেও যায় না। হ্যাভি গাড়িগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষ খুব কম হয়। কিন্তু অটো রিকশা হাইওয়েতে ওঠানোও ঠিক না। ঝামেলা তো হয়ই।

প্রশ্ন: দুর্ঘটনা ঘটলে জ্যাম লেগে থাকে, তখন হাইওয়ে পুলিশ রেসপন্স করতে অনেক সময় লাগে। হাইওয়ের পুলিশ সদস্যদের ফোন দিয়ে পাওয়া না পাওয়ার বা রেসপন্স না করার- এমন অভিযোগের বিষয়ে কি বলবেন?

অ্যাডিশনাল আইজিপি ফারুক আহমেদ: এই সমস্যাটা আছে। ট্রাফিক পুলিশ বা হাইওয়ে পুলিশ সময় মতো রেসপন্স করে তাহলে যানজট অনেকটাই দূর করা যায়। কিন্তু আমরা টাইমলি রেসপন্স করি না। আমি বলব- আমাদের সেবামূলক মানসিকতা, মানবিকতা, এটা কম। ফলে সড়কে যানজটের কারণে মানুষের যে কত ধরনের সমস্যা হতে পারে, সেটা আমরা মানবিক দিক দিয়ে বিশ্লেষণ করি না। টাইমলি রেসপন্স করলে এটা কমানো সম্ভব, কিন্তু করি না। আমি ট্রাই করছি এই সমস্যা দূর করার। আমি হাইওয়েতে নির্দেশনা দিয়েছি- সড়কে টাকা নেওয়া যাবে না এবং যানজট নিরসনে সহায়ক হতে হবে। এটাই হলো বেসিক কাজ আমাদের। কিছু লিমিটেশন থাকা স্বত্ত্বেও সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন, এটা আপনাকে প্রমাণ করতে হবে। যে আমি খবর পাওয়া মাত্রই টাইমলি গিয়েছি অথবা আমি যাওয়ার পর যে পরিমাণ এফোর্ট দেওয়া দরকার ছিল সেটা করেছি- এটা আপনাকে প্রমাণ করতে হবে।