১০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

যাত্রী সেজে গাড়িতে তুলে অপহরণ,৪ লাখের বেশি টাকা আদায়: গ্রেফতার ৩

  • আপডেট: ১০:১১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৮০০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

নরসিংদীর শিবপুরে যাত্রী সেজে এক ব্যক্তিকে প্রাইভেটকারে তুলে অপহরণ ও জিম্মি করে ৪ লাখ ২৭ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় অপহরণে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার, নগদ ৫০ হাজার ২৫০ টাকা ও ছয়টি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন– মো. ওমর ফারুক (৩৪), নিজাম উদ্দিন ওরফে মিজান (৩০) ও মো. সাইফুল ইসলাম ফকির (৩২)।

শনিবার (২৯ আগস্ট ) ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) নরসিংদী জেলারপুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন

তিনি জানান,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই কায়দায় যাত্রী তুলে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের কথা স্বীকার করেছেন।

পিবিআই নরসিংদীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শিবপুরের চৈতন্য বাসস্ট্যান্ডে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন মামুনুর রশীদ (৪২)। এ সময় একটি প্রাইভেটকারের চালক তাঁকে কোথায় যাবেন জানতে চান। মামুনুর জানান, তিনি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় যাবেন। তখন চালক তাঁকে বাসের সমপরিমাণ ভাড়ায় সাইনবোর্ড হয়ে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তাব দেন।

পিবিআই জানায়, প্রাইভেটকারে আগে থেকেই একজন যাত্রীবেশে বসে ছিলেন। পরে আরও দুজন গাড়িতে ওঠেন। কিছু দূর যাওয়ার পর চালকসহ অন্যরা মামুনুরকে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে লোহার রড ও পাইপ দিয়ে ভয় দেখিয়ে তাঁর চোখ বেঁধে জিম্মি করা হয়। পরে তাঁকে মারধর করে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হয়।

অপহরণকারীরা মামুনুরের কাছ থেকে তাঁর দুটি মুঠোফোন, নগদ ৭ হাজার টাকা এবং বিকাশ, নগদ ও রকেট হিসাবে থাকা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। পরে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে আরও ২ লাখ টাকা আদায় করা হয়। সব মিলিয়ে ৪ লাখ ২৭ হাজার টাকা নেওয়ার পর চোখ বাঁধা অবস্থায় তাঁকে রায়পুরার মরজাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ফেলে যায় বলে অভিযোগ।

পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মামুনুর। তাঁকে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনার পর পিবিআই নরসিংদী সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলা এবং বিকাশ, নগদ ও রকেটের লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে। ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপহরণকারীদের শনাক্তে ছায়াতদন্তও চালানো হয়।

এ ঘটনায় মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে ১ আগস্ট শিবপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটি ২৭ দিন থানা-পুলিশ তদন্ত করার পর গত ২৭ আগস্ট পিবিআই নরসিংদী তদন্তভার নেয়।

পিবিআই জানায়, ২৮ আগস্ট ঢাকা ও গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে প্রথমে ওমর ফারুককে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজার এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর দেখানো মতে অপহরণে ব্যবহৃত কালো রঙের একটি প্রাইভেটকারও উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাছা থানার কাতরা এলাকার একটি বাড়ির সামনে থেকে নিজাম উদ্দিন ওরফে মিজান এবং সাইফুল ইসলাম ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়।

তাঁদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেটকার, নগদ ৫০ হাজার ২৫০ টাকা ও ছয়টি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পিবিআইয়ের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সুযোগ বুঝে যাত্রী তুলে একই কায়দায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় করতেন তাঁরা। তাঁদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

যাত্রী সেজে গাড়িতে তুলে অপহরণ,৪ লাখের বেশি টাকা আদায়: গ্রেফতার ৩

আপডেট: ১০:১১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

নরসিংদীর শিবপুরে যাত্রী সেজে এক ব্যক্তিকে প্রাইভেটকারে তুলে অপহরণ ও জিম্মি করে ৪ লাখ ২৭ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় অপহরণে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার, নগদ ৫০ হাজার ২৫০ টাকা ও ছয়টি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন– মো. ওমর ফারুক (৩৪), নিজাম উদ্দিন ওরফে মিজান (৩০) ও মো. সাইফুল ইসলাম ফকির (৩২)।

শনিবার (২৯ আগস্ট ) ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) নরসিংদী জেলারপুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন

তিনি জানান,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই কায়দায় যাত্রী তুলে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের কথা স্বীকার করেছেন।

পিবিআই নরসিংদীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শিবপুরের চৈতন্য বাসস্ট্যান্ডে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন মামুনুর রশীদ (৪২)। এ সময় একটি প্রাইভেটকারের চালক তাঁকে কোথায় যাবেন জানতে চান। মামুনুর জানান, তিনি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় যাবেন। তখন চালক তাঁকে বাসের সমপরিমাণ ভাড়ায় সাইনবোর্ড হয়ে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তাব দেন।

পিবিআই জানায়, প্রাইভেটকারে আগে থেকেই একজন যাত্রীবেশে বসে ছিলেন। পরে আরও দুজন গাড়িতে ওঠেন। কিছু দূর যাওয়ার পর চালকসহ অন্যরা মামুনুরকে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে লোহার রড ও পাইপ দিয়ে ভয় দেখিয়ে তাঁর চোখ বেঁধে জিম্মি করা হয়। পরে তাঁকে মারধর করে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হয়।

অপহরণকারীরা মামুনুরের কাছ থেকে তাঁর দুটি মুঠোফোন, নগদ ৭ হাজার টাকা এবং বিকাশ, নগদ ও রকেট হিসাবে থাকা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। পরে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে আরও ২ লাখ টাকা আদায় করা হয়। সব মিলিয়ে ৪ লাখ ২৭ হাজার টাকা নেওয়ার পর চোখ বাঁধা অবস্থায় তাঁকে রায়পুরার মরজাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ফেলে যায় বলে অভিযোগ।

পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মামুনুর। তাঁকে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনার পর পিবিআই নরসিংদী সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলা এবং বিকাশ, নগদ ও রকেটের লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে। ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপহরণকারীদের শনাক্তে ছায়াতদন্তও চালানো হয়।

এ ঘটনায় মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে ১ আগস্ট শিবপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটি ২৭ দিন থানা-পুলিশ তদন্ত করার পর গত ২৭ আগস্ট পিবিআই নরসিংদী তদন্তভার নেয়।

পিবিআই জানায়, ২৮ আগস্ট ঢাকা ও গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে প্রথমে ওমর ফারুককে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজার এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর দেখানো মতে অপহরণে ব্যবহৃত কালো রঙের একটি প্রাইভেটকারও উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাছা থানার কাতরা এলাকার একটি বাড়ির সামনে থেকে নিজাম উদ্দিন ওরফে মিজান এবং সাইফুল ইসলাম ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়।

তাঁদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেটকার, নগদ ৫০ হাজার ২৫০ টাকা ও ছয়টি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পিবিআইয়ের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সুযোগ বুঝে যাত্রী তুলে একই কায়দায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় করতেন তাঁরা। তাঁদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।