মাদকের টাকা না পেলে সাংবাদিকেরা লেখেন, পুলিশ অকার্যকর: আইজিপি
- আপডেট: ০৪:৩৯:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৮০০১
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
মাদক ব্যবসা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে সাংবাদিকদের একাংশের সমালোচনা করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ চললেও অনেকে এ বিষয়ে কিছু বলেন না। সেখান থেকে টাকা না পেলে তারা লেখেন, ‘বাংলাদেশে পুলিশ অকার্যকর হয়ে গেছে।’
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর চকবাজারের শাহজাহান ইমাম টাওয়ারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, কোনো কিছু ঘটলে, যেমন—মাদক, সমাজে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চললেও আপনারা অনেকে (সাংবাদিকেরা) কোনো কিছু মনে করছেন না। সেখান থেকে গোপনে টাকা নিচ্ছেন। সাংবাদিক সাহেবরা যখন ওখান থেকে পয়সা না পাচ্ছেন, তখন লিখছেন “বাংলাদেশে পুলিশ অকার্যকর হয়ে গেছে”।
মাদকের বিস্তার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আইজিপি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার ঘটেছে। তৎকালীন সরকারি দলের নেতারা মাদক থেকে মাসোহারা পেতেন এবং পুলিশের কিছু সদস্যও এতে জড়িত ছিলেন।
তিনি বলেন, পুলিশ আগে নিজেদের ঘর পরিষ্কার করছে। গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ারেও পিছপা হবে না পুলিশ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইজিপি বলেন, পুলিশ অতিরিক্ত কঠোরতা দেখালে ‘ফ্যাসিস্ট’ এবং নীরব ভূমিকা পালন করলে ‘দুর্বল’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার যদি অনুমতি দেয় এবং প্রয়োজন হয়, তবে আমরা ক্রসফায়ারও করব। পুলিশকে ক্ষমতায়ন না করলে এবং আইন প্রয়োগের সুযোগ না দিলে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।’
এসময় গুজব ও মিথ্যা প্রচারণায় কান না দিয়ে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে সবার সহযোগিতা চান আইজিপি।
পুলিশের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে আলী হোসেন ফকির বলেন, পুলিশকে অকার্যকর করে সব দায় পুলিশের ওপর চাপানো যাবে না। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে পুলিশকে কাজ করতে হয়। এ জন্য পুলিশে শিক্ষিত ও যোগ্য জনবল প্রয়োজন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর পুলিশের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় পুলিশ সদস্যরা রাস্তায় দায়িত্ব পালন করতে ভয় পেতেন। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ দিন-রাত কাজ করছে।
ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব
কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান হিসেবে বক্তব্যে আইজিপি ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ইসলামে সুদ ও ঘুষ নিষিদ্ধ। প্রকৃত ইসলামি ব্যাংকিংয়ে অংশীদারত্ব, নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা থাকতে হবে।
ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ও নজরদারি জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ব্যাংকের পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



















