০৮:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধ সংঘটনের আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে বললেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি

  • আপডেট: ০৭:৫৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৮০০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

অপরাধ সংঘটনের আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো.মোস্তাফিজুর রহমান। মাদক,চোরাচালান, ডাকাতি, ছিনতাই, কিশোর অপরাধ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি এবং তথ্যনির্ভর পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব নির্দেশনা দেন মোস্তাফিজুর রহমান।

সভায় ডিআইজি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এসব দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনের জন্য বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বিত কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অপরাধের ধরন ও কৌশল পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্যনির্ভর পুলিশিং জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশেষ করে অপরাধ সংঘটনের আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

ডিআইজি বলেন, ঢাকা রেঞ্জের অধীন সব ইউনিটের মধ্যে সময়োপযোগী ও নির্ভুল তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ, অপরাধী চক্রের গতিবিধি, মাদক বা অস্ত্রের চালান, আন্তজেলা অপরাধী কিংবা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা, পেশাদারত্ব ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন সংস্থা ও ইউনিটের কর্মকর্তারা নিজ নিজ অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও সুপারিশ তুলে ধরেন। আলোচনার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে তারা মতামত দেন।

সভাপতির বক্তব্যে মোস্তাফিজুর রহমান জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে পেশাদার ও জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিরাপদ ও স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন ডিআইজি।

সভায় ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ) এম এ জলিল, অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. সায়ফুজ্জামান ফারুকী, অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন্স) মো. সিদ্দিকুর রহমান, আরআরএফ কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি) রুমানা আক্তার, পিপিএম-সেবাসহ ঢাকা রেঞ্জের ১৩ জেলার পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ঢাকা রেঞ্জের আওতাধীন এলাকার সিআইডি, নৌ-পুলিশ, শিল্প পুলিশ, পিবিআই, ট্যুরিস্ট পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)–এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

অপরাধ সংঘটনের আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে বললেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি

আপডেট: ০৭:৫৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

অপরাধ সংঘটনের আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো.মোস্তাফিজুর রহমান। মাদক,চোরাচালান, ডাকাতি, ছিনতাই, কিশোর অপরাধ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি এবং তথ্যনির্ভর পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব নির্দেশনা দেন মোস্তাফিজুর রহমান।

সভায় ডিআইজি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এসব দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনের জন্য বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বিত কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অপরাধের ধরন ও কৌশল পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্যনির্ভর পুলিশিং জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশেষ করে অপরাধ সংঘটনের আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

ডিআইজি বলেন, ঢাকা রেঞ্জের অধীন সব ইউনিটের মধ্যে সময়োপযোগী ও নির্ভুল তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ, অপরাধী চক্রের গতিবিধি, মাদক বা অস্ত্রের চালান, আন্তজেলা অপরাধী কিংবা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা, পেশাদারত্ব ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন সংস্থা ও ইউনিটের কর্মকর্তারা নিজ নিজ অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও সুপারিশ তুলে ধরেন। আলোচনার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে তারা মতামত দেন।

সভাপতির বক্তব্যে মোস্তাফিজুর রহমান জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে পেশাদার ও জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিরাপদ ও স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন ডিআইজি।

সভায় ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ) এম এ জলিল, অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. সায়ফুজ্জামান ফারুকী, অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন্স) মো. সিদ্দিকুর রহমান, আরআরএফ কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি) রুমানা আক্তার, পিপিএম-সেবাসহ ঢাকা রেঞ্জের ১৩ জেলার পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ঢাকা রেঞ্জের আওতাধীন এলাকার সিআইডি, নৌ-পুলিশ, শিল্প পুলিশ, পিবিআই, ট্যুরিস্ট পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)–এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।