খুলনায় মাদক, সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীর
- আপডেট: ০৭:১৮:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৮০০৮
খুলনায় জামিয়াতুল আবরার রহমানিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত
সুন্দরবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও খুলনায় সন্ত্রাস-হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীর
মোসলেহউদ্দিন, খুলনা: খুলনা মহানগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লবণচরা, মোক্তার হোসেন রোডে অবস্থিত জামিয়াতুল আবরার রহমানিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) আয়োজিত এ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আলোচনা করেন দেশের সুপরিচিত ইসলামি বক্তা হযরত মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী। তিনি পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে মানুষের নৈতিক চরিত্র গঠন, নামাজ প্রতিষ্ঠা, অন্যায়-অবিচার প্রতিরোধ এবং সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সুন্দরবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং খুলনায় মাদক, সন্ত্রাস ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, ইসলাম শান্তি, মানবতা, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধের ধর্ম। একজন প্রকৃত মুসলমানের হাত ও মুখ থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকবে, এটাই ইসলামের শিক্ষা। অথচ সমাজে স্বার্থের দ্বন্দ্ব, প্রতিহিংসা, মাদক ব্যবসা এবং ক্ষমতার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মানুষে মানুষে সংঘাত ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। তিনি অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা, জুলুম, নির্যাতন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সবাইকে ইসলামের প্রকৃত আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।
আলোচনার একপর্যায়ে তিনি সুন্দরবন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, বুধবার সকালে তিনি সুন্দরবন ভ্রমণের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। সেখানে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য বন বিভাগের নির্ধারিত ফি এবং সশস্ত্র প্রহরীর ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পেরে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকার পরও সাধারণ মানুষকে কেন বনদস্যুদের আতঙ্কে থাকতে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য আলাদাভাবে অর্থ ব্যয় করে সশস্ত্র পাহারার ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টির সমালোচনা করে তিনি সুন্দরবনে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মাওলানা মাদানী। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইসলামের শান্তি ও মানবতার শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন মুসলমান কীভাবে অন্য মুসলমানের জীবন কেড়ে নিতে পারে? মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং সন্ত্রাস, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
ধর্মীয় আলোচনায় তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রত্যেক মুসলমানকে নিজের জীবন থেকে অন্যায়, পাপাচার, হিংসা-বিদ্বেষ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিহার করতে হবে। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণ, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং ন্যায় ও সত্যের পথে চলার মধ্য দিয়েই একটি আদর্শ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন হাফেজ আব্দুল ওহাব। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির চৌধুরী, ২১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোখলেসুর রহমান, সাংবাদিক মোসলেহউদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিশিষ্ট আলেম-ওলামা, সমাজসেবক, মাদ্রাসার শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মুসলমান।
মাহফিলকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় ধর্মীয় আবহ সৃষ্টি হয়। দ্বীনি শিক্ষার প্রসার, শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ বার্ষিক মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান সফল করতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।



















