মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ধাওয়া দিল শ্রমিকরা
- আপডেট: ০৩:০২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৮০০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর মিরপুরে বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলনরত গার্মেন্টস শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। আগুনে গাড়িটি পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে গেলে তাদেরও ধাওয়া দেন শ্রমিকরা।
রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে সকাল থেকে বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এগিয়ে গেলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় শ্রমিকরা বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাদের ধাওয়া দেন।
বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মিরপুর এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ছাত্র ভঙ্গ করতে জলকামান টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, সকাল থেকেই মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় পোশাকশ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ার ইসলাম দোলন বলেন, খবর পেয়ে পল্লবী স্টেশনের একটি টিম ঘটনাস্থলে গেছে। তবে সেটি পুলিশের গাড়ি কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না তিনি।
এর আগে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন দাবিতে রবিবার সকাল থেকে মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর অবরোধ করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শ্রমিকদের লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে মিরপুর-১০ এলাকা থেকে শ্রমিকরা সরে গেলেও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।











