প্রতারনা করে কোটিপতি বনে যাওয়া প্রতারক হাসিবুল গ্রেফতার
- আপডেট: ০২:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
- / ১৮০১২
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
মাত্র ২০ হাজার টাকায় হিসাবরক্ষক পদে চাকরি নেন রাজধানীর নাহিদ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে হাসিবুল হাসান রাজিব (৩০) রাজিব নামের এক যুবক।
চাকরির সুবাদের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করে গত পাঁচ বছরে (২০১৯-২০২৪) বিভিন্ন সময়ে এই যুবক বিপুল অঙ্কের টাকার হাতিয়ে নেন।
যা প্রায় ৫০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে দাবি করছে কম্পানিটি। তবে, অবশেষে ১০ কোটি টাকার প্রতারণার মামলায় হাসিবুল হাসানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধা পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিএমপির চকবাজার থানা পুলিশ।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার এসআই মো. হারুন বলেন, ১০ কোটি টাকার প্রতারণার মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনানুগ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরো কী কী ধরনের মামলা রয়েছে আমরা খোঁজ নিচ্ছি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাসিবুলের বিরুদ্ধে আরো একাধিক প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মামলাসহ জুলাই আন্দোলনের একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নাহিদ এন্টারপ্রাইজের আরো অভিযোগ ও জিডি রয়েছে।
কম্পানি জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে টাকা আÍসাৎতের ঘটনা জানাজানির পর হাসিবুলকে কম্পানির মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়। মোট টাকার একাংশ দিয়ে দিবে বলে লিখিতভাবে অঙ্গীকারনামাও দেন তিনি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই অর্থ ফেরত দিচ্ছে না। এমনকি উল্টো কম্পানি ও তার কর্মীদের নামে নানাভাবে অপ্রচার চালাচ্ছেন এবং কর্তৃপক্ষকে হয়রানি করার চেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন এই যুবক।
কম্পানির দুইজন কর্মকতা জানান, এসব হয়রানি করার প্রতারক হাসিবুলের উদ্দেশ্য একটায় ছির যেন, তার বিরুদ্ধে যেন কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়। একইসঙ্গে সে যে পরিমাণ টাকা আÍসাৎ করেছে তা নিয়েও যেন আর কোন জানাজানি না হয়।
কিন্তু কম্পানির পক্ষ থেকে হাসিবুলের অপকর্মের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত একাধিক অভিযোগ, মামলা এমনকি পত্রিকায় অর্থ আÍসাৎকারীকে ধরিয়ে দিতে পুরষ্কার দেওয়ার বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়।
জানা গেছে, হাসিবুল বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার আফালকাঠি এলাকার রাশিদা বেগম ও আবুল হোসেন শিকদারের সন্তান। তার বাবাও এই কম্পানিতে কর্মচারী ছিল। সে সুবাদে তাকে হিসাবরক্ষক পদে চাকরি দেয় কম্পানি। কিন্তু বিপুল অঙ্কের অর্থ আÍসাৎ করে অকৃতজ্ঞ হতে বেশি দিন সময় নিলেন না হাসিবুল।
এদিকে সেই টাকা আÍসাতের পর হাসিব একটি লিখিত দেন আÍসাৎত করার টাকার মধ্যে ১০ কোটি ফেরত দিবেন। অন্যদিকে তার বাবা-মাও লিখিত দেন আÍসাৎ করা অর্থ ফেরত দিবেন। অঙ্গীকারের বছর পেরিয়ে গেলেও সে টাকা ফেরত দেননি। তার দেওয়া ব্যাংক একাউন্টের একাধিক চেকের পাতা কম্পানির কাছে রয়েছে, যেগুলোর একাউন্টের কোনো টাকা নেই। এ অবস্থা কম্পানির টাকা ফেরাতে আইনের দ্বারস্থ হয়ে একাধিক স্থানে হাসিবুলের প্রতারণার দায়ে মামলা ও অভিযোগ দায়ের করেন।
জানা গেছে, হাসিবুল কম্পানি থেকে আÍসাৎ করা টাকা দিয়ে মুন্সিগঞ্জের শ্রৗনগর উপজেলায় এককটি ছয়তলা বিলাসবহুল বাড়ি করেছেন, রাজধানীর উত্তরাসহ বিভিন্ন জায়গা প্লট ও ফ্ল্যাটের শেয়ার কিনেছেন।
কম্পানির বর্তমান কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, হাসিব খুবই দরিদ্র পরিবারে সন্তান ছিল। এখানে এসে চাকরির সুবাদে তার কাছে কম্পানির অনেক হিসাব-নিকাশ থাকত। সে সুযোগে কম্পানির বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ সরিয়ে ফেলে। টাকা সরানোর পর থেকে জানাজানি হলে সে আর কখনো অফিসে চাকরি করেন নি। এ বিষয়ে চকবাজার থানায় প্রতারণার মামলা,একাধিক অভিযোগ ও জিডি করা হয়।
নাহিদ এন্টারপ্রাইজের বর্তমান কর্মকর্তা মো. কেতাব আলী জানান, ‘হাসিবের কাছে কম্পানি টাকা উদ্ধার করতে আইনের আশ্রয় নিলে হাসিব বিভিন্ন সময় সুযোগ বুঝে কম্পানির একাধিক কর্মীর উপর হামলা করেন। একই সঙ্গে নানা অপপ্রচার চালিয়েছেন। সে আÍসাৎ করা অবৈধ টাকায় বিস্তর সম্পত্তি করেছেন। এছাড়া একটি অংশ তাকে শেল্টার দেওয়ার জন্য কতিপয় ব্যক্তিদের পেছনে খরচ করছেন বলেও জানান তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির আরেক কর্মকর্তা জানান,টাকার আÍসাৎতের পর কম্পানি তার মুখোমুখি হলে সে (হাসিব) তার শ্রীনগরের ছয়তলা বাড়িটি কম্পানিকে লিখে দিবে বলে অঙ্গীকার করেন। কিন্তু গত বছরের ৪ মে হাসিবের অঙ্গীকার মত রেজিস্ট্রি করতে গেলে উল্টো শ্রীনগর রেজিস্ট্রি অফিসের সামনের কম্পনির এমডিসহ (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) অন্যান্য কর্মীদের উপর হামলা চালান। ”
তিনি আরো জানান, “হাসিবের সকল অপকর্মের ফিরিস্ত প্রমাণাদি আমাদের কাছে আছে। কম্পানি তার প্রতারণা সকল তথ্যাদি রেখেছে। অবশেষে গ্রেপ্তার এই প্রতারকের দৃষ্টান্ত শাস্তি চাই এবং কম্পানির আÍ করা টাকাগুলো ফেরত চাই। এজন্য আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করছি।”
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আর্থিক প্রতারণার মামলায় হাসিবুল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



















