১০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের দ্বৈত অভিযান: অস্ত্রসহ ডাকাত আটক, জিম্মি ৩ জেলে উদ্ধার

  • আপডেট: ০৭:৩৮:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৮০০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

সুন্দরবনে পৃথক দুটি অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। একই সঙ্গে জোনাব বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা তিন জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল ) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনার দাকোপ থানাধীন বাইনতলা খাল এলাকায় অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও আউটপোস্ট নলিয়ান। ভোর ৬টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি একনলা বন্দুক, ২৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৫ পিস ইয়াবা এবং নগদ ১ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ডাকাতদের আস্তানাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

আটককৃতরা হলেন বাগেরহাটের শরণখোলার সোহাগ হাওলাদার (৩৫) এবং খুলনার পাইকগাছার বাবুল সানা (৪২)। তারা দীর্ঘদিন ধরে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

অপরদিকে, আরেকটি অভিযানে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার হোগলডরা খাল এলাকা থেকে জোনাব বাহিনীর কবল থেকে তিন জেলেকে উদ্ধার করা হয়। গত ৩১ মার্চ ওই বাহিনীর সদস্যরা একটি নৌকাসহ তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করছিল।

১ এপ্রিল সন্ধ্যায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হলদেবুনিয়া ও কৈখালী যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে জিম্মি থাকা জেলে ইনতাজ (৫০), মোশাররফ (৪২) ও আনিস (৪৫)-কে উদ্ধার করে। এ সময় ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি নৌকা, গোলাবারুদ, ওয়াকিটকি চার্জার, মোবাইল ব্যাটারি ও একটি কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ড জানায়, আটক ডাকাতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া জেলেদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সংস্থাটি আরও জানায়, গত দেড় বছরে ধারাবাহিক অভিযানে বিভিন্ন বাহিনীর ৬১ জন ডাকাত সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ এবং বহু জেলে ও পর্যটককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের দ্বৈত অভিযান: অস্ত্রসহ ডাকাত আটক, জিম্মি ৩ জেলে উদ্ধার

আপডেট: ০৭:৩৮:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

সুন্দরবনে পৃথক দুটি অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। একই সঙ্গে জোনাব বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা তিন জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল ) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনার দাকোপ থানাধীন বাইনতলা খাল এলাকায় অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও আউটপোস্ট নলিয়ান। ভোর ৬টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি একনলা বন্দুক, ২৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৫ পিস ইয়াবা এবং নগদ ১ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ডাকাতদের আস্তানাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

আটককৃতরা হলেন বাগেরহাটের শরণখোলার সোহাগ হাওলাদার (৩৫) এবং খুলনার পাইকগাছার বাবুল সানা (৪২)। তারা দীর্ঘদিন ধরে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

অপরদিকে, আরেকটি অভিযানে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার হোগলডরা খাল এলাকা থেকে জোনাব বাহিনীর কবল থেকে তিন জেলেকে উদ্ধার করা হয়। গত ৩১ মার্চ ওই বাহিনীর সদস্যরা একটি নৌকাসহ তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করছিল।

১ এপ্রিল সন্ধ্যায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হলদেবুনিয়া ও কৈখালী যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে জিম্মি থাকা জেলে ইনতাজ (৫০), মোশাররফ (৪২) ও আনিস (৪৫)-কে উদ্ধার করে। এ সময় ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি নৌকা, গোলাবারুদ, ওয়াকিটকি চার্জার, মোবাইল ব্যাটারি ও একটি কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ড জানায়, আটক ডাকাতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া জেলেদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সংস্থাটি আরও জানায়, গত দেড় বছরে ধারাবাহিক অভিযানে বিভিন্ন বাহিনীর ৬১ জন ডাকাত সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ এবং বহু জেলে ও পর্যটককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।