০৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬

রূপায়ণ হাউজিংয়ের নকশা জালিয়াতি: দুদকের জালে রাজউকের ৪৬ কর্মকর্তা

  • আপডেট: ০৭:২৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • / ১৮০০১

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রূপায়ণ হাউজিংয়ের নকশা জালিয়াতি:১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ,শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সন্ধানে দুদক

নজিরবিহীন জালিয়াতির মাধ্যমে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডকে অবৈধভাবে নকশা অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর ৪৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

উত্তরার একটি প্রকল্পে সরকারি জমির ওপর ২০ তলা ভবনের নকশা অনুমোদনের নামে ফ্ল্যাট বিক্রি করে গ্রাহকের প্রায় ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

দুদক সূত্র জানায়, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান, সদস্য, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চালিয়ে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তিগত তথ্য ও নথিপত্র তলব করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে রূপায়ণ হাউজিংকে প্ল্যান পাস করে দেওয়া হয়। এরপর সেই অনুমোদন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রি করা হয়। একই সঙ্গে গুলশানের একটি প্লটের জাল নথি তৈরি করে আরও প্রায় পৌনে ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, দুদকের চাহিদা অনুযায়ী অভিযুক্তদের তালিকা ও তথ্য প্রস্তুত করে কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তালিকায় থাকা অনেক কর্মকর্তা ইতোমধ্যে অবসর নিয়েছেন, কেউ প্রেষণে অন্য দপ্তরে কর্মরত, আবার কেউ বিদেশে রয়েছেন।

দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি একটি সংগঠিত অপরাধচক্রের কাজ। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বসেই জাল নথির মাধ্যমে হাউজিং কোম্পানিকে অবৈধ সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিগগিরই তলব করা হতে পারে।

এদিকে রাজউক চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, অনিয়মের অভিযোগে রূপায়ণ হাউজিংয়ের অনুমোদিত প্ল্যান ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে এবং দুদকের অনুসন্ধানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে রূপায়ণ গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থেকেই এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফ্ল্যাট ক্রেতাদের অভিযোগ, জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি জমি দখল করে ফ্ল্যাট বিক্রি করে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

রূপায়ণ হাউজিংয়ের নকশা জালিয়াতি: দুদকের জালে রাজউকের ৪৬ কর্মকর্তা

আপডেট: ০৭:২৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রূপায়ণ হাউজিংয়ের নকশা জালিয়াতি:১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ,শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সন্ধানে দুদক

নজিরবিহীন জালিয়াতির মাধ্যমে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডকে অবৈধভাবে নকশা অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর ৪৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

উত্তরার একটি প্রকল্পে সরকারি জমির ওপর ২০ তলা ভবনের নকশা অনুমোদনের নামে ফ্ল্যাট বিক্রি করে গ্রাহকের প্রায় ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

দুদক সূত্র জানায়, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান, সদস্য, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চালিয়ে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের ব্যক্তিগত তথ্য ও নথিপত্র তলব করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে রূপায়ণ হাউজিংকে প্ল্যান পাস করে দেওয়া হয়। এরপর সেই অনুমোদন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রি করা হয়। একই সঙ্গে গুলশানের একটি প্লটের জাল নথি তৈরি করে আরও প্রায় পৌনে ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, দুদকের চাহিদা অনুযায়ী অভিযুক্তদের তালিকা ও তথ্য প্রস্তুত করে কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তালিকায় থাকা অনেক কর্মকর্তা ইতোমধ্যে অবসর নিয়েছেন, কেউ প্রেষণে অন্য দপ্তরে কর্মরত, আবার কেউ বিদেশে রয়েছেন।

দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি একটি সংগঠিত অপরাধচক্রের কাজ। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বসেই জাল নথির মাধ্যমে হাউজিং কোম্পানিকে অবৈধ সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিগগিরই তলব করা হতে পারে।

এদিকে রাজউক চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, অনিয়মের অভিযোগে রূপায়ণ হাউজিংয়ের অনুমোদিত প্ল্যান ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে এবং দুদকের অনুসন্ধানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে রূপায়ণ গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থেকেই এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফ্ল্যাট ক্রেতাদের অভিযোগ, জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি জমি দখল করে ফ্ল্যাট বিক্রি করে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।