০৪:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

দুবাই থেকে হত্যা মামলার আসামিকে ফেরাল পিবিআই

  • আপডেট: ০৫:৩৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / ১৮০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই থেকে এক হত্যা মামলার আসামিকে ফেরত এনে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

ঘটনার তিন বছর পেরিয়ে আরিফ সরকার (৪০) নামে ওই আসামিকে বুধবার দেশে ফেরানোর কথা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আরিফ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ খানকে (৭৫) গুলি করে হত্যা মামলার আসামি।

পিবিআই বলছে, গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় আরিফকে বুধবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে শিবপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি নিজ বাসায় হারুন অর রশিদ খানকে গুলি করা হয়।

শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক মাস চিকিৎসার পর ১৩ এপ্রিল ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার একটি অস্ত্রোপচার শেষে গত ১ মে দেশে আনা হয়েছিল।

এরপর গত ৭ মে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১৯ মে রাতে অবস্থার অবনতি হলে হারুন অর রশিদ খানকে আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ মে তিনি মারা যান।

উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার দুইদিন পর তার ছেলে মো. আমিনুর রশীদ খান তাপস শিবপুর থানায় একটি মামলা করেছিলেন, যেখানে ৬ জনের নামে ও নাম না জানা ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। তখন এজাহারনামীয় প্রধান আসামিসহ চারজন দুবাইয়ে অবস্থান করছিল বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

পরে ২৩ জুন মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই, এরমধ্যে গেল বছরের জুলাইতে ইন্টারপোলের সহায়তায় মহসিন মিয়াকে (৪৬) দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

পিবিআই বলছে, গ্রেফতার মহসিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আরিফ সরকারসহ অন্যান্য আসামিদের বিষয়ে তথ্য দেয়। তদন্তে আরিফ সরকারের জড়িত থাকার ‘সুস্পষ্ট’ তথ্য পাওয়ার পর তার অবস্থান জানতে ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে (এনসিবি) আবেদন করে।

আরিফের অবস্থান দুবাইতে নিশ্চিত হলে তাকে ফেরত আনতে পিবিআইয়ের আবেদনের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এরপর তাকে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের মাধ্যমে আবেদন করা হয়। এরমধ্যে গেল বছরের নভেম্বরে আরিফ সরকার সহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই।

ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশ আরিফ সরকারকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ পুলিশকে অবহিত করে। এর প্রেক্ষিতে পিবিআই এবং পুলিশ সদরদপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম দুবাই গিয়ে বুধবার আরিফকে ফিরিয়ে আনে।

আরিফকে ফেরানোর মধ্য দিয়ে শিবপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদকে হত্যা মামলার সব আসামিকে গ্রেফতার করা হলো বলে জানিয়েছেন পিবিআইয়ের নরসিংদীর বিশেষ পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন

তিনি বলেন, “এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে দুবাই থেকে ফিরিয়ে আনাসহ এখন পর্যন্ত সর্বমোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

দুবাই থেকে হত্যা মামলার আসামিকে ফেরাল পিবিআই

আপডেট: ০৫:৩৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই থেকে এক হত্যা মামলার আসামিকে ফেরত এনে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

ঘটনার তিন বছর পেরিয়ে আরিফ সরকার (৪০) নামে ওই আসামিকে বুধবার দেশে ফেরানোর কথা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আরিফ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ খানকে (৭৫) গুলি করে হত্যা মামলার আসামি।

পিবিআই বলছে, গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় আরিফকে বুধবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে শিবপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি নিজ বাসায় হারুন অর রশিদ খানকে গুলি করা হয়।

শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক মাস চিকিৎসার পর ১৩ এপ্রিল ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার একটি অস্ত্রোপচার শেষে গত ১ মে দেশে আনা হয়েছিল।

এরপর গত ৭ মে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১৯ মে রাতে অবস্থার অবনতি হলে হারুন অর রশিদ খানকে আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ মে তিনি মারা যান।

উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার দুইদিন পর তার ছেলে মো. আমিনুর রশীদ খান তাপস শিবপুর থানায় একটি মামলা করেছিলেন, যেখানে ৬ জনের নামে ও নাম না জানা ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। তখন এজাহারনামীয় প্রধান আসামিসহ চারজন দুবাইয়ে অবস্থান করছিল বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

পরে ২৩ জুন মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই, এরমধ্যে গেল বছরের জুলাইতে ইন্টারপোলের সহায়তায় মহসিন মিয়াকে (৪৬) দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

পিবিআই বলছে, গ্রেফতার মহসিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আরিফ সরকারসহ অন্যান্য আসামিদের বিষয়ে তথ্য দেয়। তদন্তে আরিফ সরকারের জড়িত থাকার ‘সুস্পষ্ট’ তথ্য পাওয়ার পর তার অবস্থান জানতে ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে (এনসিবি) আবেদন করে।

আরিফের অবস্থান দুবাইতে নিশ্চিত হলে তাকে ফেরত আনতে পিবিআইয়ের আবেদনের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এরপর তাকে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের মাধ্যমে আবেদন করা হয়। এরমধ্যে গেল বছরের নভেম্বরে আরিফ সরকার সহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই।

ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশ আরিফ সরকারকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ পুলিশকে অবহিত করে। এর প্রেক্ষিতে পিবিআই এবং পুলিশ সদরদপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম দুবাই গিয়ে বুধবার আরিফকে ফিরিয়ে আনে।

আরিফকে ফেরানোর মধ্য দিয়ে শিবপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদকে হত্যা মামলার সব আসামিকে গ্রেফতার করা হলো বলে জানিয়েছেন পিবিআইয়ের নরসিংদীর বিশেষ পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন

তিনি বলেন, “এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে দুবাই থেকে ফিরিয়ে আনাসহ এখন পর্যন্ত সর্বমোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”