১২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়নের নামে প্রতারণা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীসহ গ্রেফতার ২

  • আপডেট: ১২:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • / ১৮০৩৪

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীতে সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— এম আমিনুর রহমান শান্ত (৪৪) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা অধিশাখার কর্মচারী নিলুফা সুলতানা (৫৬)।

শুক্রবার (২২ মে) সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব কামরুল হাসান ডিএমপি কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, এক ব্যক্তি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পরিচয় ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং এ কাজে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাব দিচ্ছে।

অভিযোগ পাওয়ার পর ডিএমপি কমিশনার বিষয়টি অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম গোপন তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাতিরঝিল থানার পশ্চিম রামপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতা এম আমিনুর রহমান শান্তকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়।

ডিবি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শান্ত প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজ বিশ্লেষণ করে চক্রের আরও একজন সদস্যের তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা বিভাগের কর্মচারী নিলুফা সুলতানাকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান বলেন, এ ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জড়িত আছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, যেই জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেফতারদের ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে এবং সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।

তারা বাস্তবে কাউকে বদলি করতে পেরেছিল কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিভাইসে বদলির বিষয়ে কথোপকথন ও অর্ডার পাঠানোর মেসেজ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা বদলিও করিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতি নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী হয়ে থাকে। এসব বিষয়ে প্রতারক চক্রের ফাঁদে না পড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়নের নামে প্রতারণা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীসহ গ্রেফতার ২

আপডেট: ১২:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীতে সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— এম আমিনুর রহমান শান্ত (৪৪) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা অধিশাখার কর্মচারী নিলুফা সুলতানা (৫৬)।

শুক্রবার (২২ মে) সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব কামরুল হাসান ডিএমপি কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, এক ব্যক্তি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পরিচয় ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং এ কাজে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাব দিচ্ছে।

অভিযোগ পাওয়ার পর ডিএমপি কমিশনার বিষয়টি অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম গোপন তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাতিরঝিল থানার পশ্চিম রামপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতা এম আমিনুর রহমান শান্তকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়।

ডিবি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শান্ত প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজ বিশ্লেষণ করে চক্রের আরও একজন সদস্যের তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা বিভাগের কর্মচারী নিলুফা সুলতানাকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান বলেন, এ ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জড়িত আছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, যেই জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেফতারদের ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে এবং সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।

তারা বাস্তবে কাউকে বদলি করতে পেরেছিল কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিভাইসে বদলির বিষয়ে কথোপকথন ও অর্ডার পাঠানোর মেসেজ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা বদলিও করিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতি নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী হয়ে থাকে। এসব বিষয়ে প্রতারক চক্রের ফাঁদে না পড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।