কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ১৬ হাজার কর্মী ও ৭৫০ গাড়ি নিয়ে মাঠে থাকছে ডিএনসিসি
- আপডেট: ০৫:৫২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
- / ১৮০০২
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর গুলশানস্থ ডিএনসিসি নগর ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ডিএনসিসি প্রশাসক মো.শফিকুল ইসলাম খান এই ঘোষণা দেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। এই লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ১৬ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ৭৫০টি বর্জ্যবাহী ট্রাক নিয়ে মাঠে নামছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে রাজধানীর গুলশানস্থ ডিএনসিসি নগর ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এই ঘোষণা দেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সারা দেশের কোরবানির পশুর হাট, চামড়া ব্যবস্থাপনা, যানজট নিরসন ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে সিটি কর্পোরেশনগুলোকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
ডিএনসিসি’র প্রস্তুতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, ডিএনসিসির যে প্রস্তুতি দেখলাম, তাতে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।” এছাড়া বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতিবৃষ্টির সময় সাময়িক জলজট তৈরি হলেও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য কুইক রেসপন্স টিম ও ড্রেনেজ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “সরকারের ঘোষিত ১২ ঘণ্টার আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা ইনশাআল্লাহ সরকারের নির্ধারিত সময়ের আগেই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করতে সক্ষম হব।”
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৬ হাজার কর্মী মাঠপর্যায়ে বর্জ্য অপসারণের কাজ করবে এবং ৭৫০টি বর্জ্যবাহী ট্রাক আমিন বাজার ল্যান্ডফিলে ডাম্পিংয়ের কাজে নিয়োজিত থাকবে। ল্যান্ডফিলে দ্রুত বর্জ্য খালাস নিশ্চিত করতে নতুন সংযোগ সড়ক, প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ডিজিটাল ওয়েব্রিজের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ট্রিপ মনিটরিং ব্যবস্থাও সচল রাখা হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নগরবাসীর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৬ লাখ ৩০ হাজার পলিব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩৬০০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার, ১৩৪৮ ক্যান ফিনাইল ও ৩৯০০ ক্যান স্যাভলন বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে শহরজুড়ে মাইকিং, ডিজিটাল বিলবোর্ডে প্রচারণা, ৫০ হাজার লিফলেট বিতরণ এবং মোবাইল এসএমএস পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে জুমার খুতবায় পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে সভায় জানানো হয়।
সভায় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসানসহ ডিএনসিসির বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


















