সদরঘাটে অজ্ঞান পার্টির সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার, দুই যাত্রী উদ্ধার
- আপডেট: ০৩:৫৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
- / ১৮০০১
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে অজ্ঞান পার্টির সক্রিয় সদস্য মো. ফারুককে (৪৪) গ্রেফতার করেছে ঢাকা সদরঘাট নৌ থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিট থেকে ৯টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ভোলা ইলিশাগামী এমভি ইয়াদ লঞ্চের দ্বিতীয় তলার ডেকে ফারুককে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে এবং অন্য যাত্রীর ব্যাগ হাতানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়।
এসময় সদরঘাট টার্মিনালে দায়িত্ব পালনরত নৌ পুলিশ সদস্যদের বিষয়টি জানানো হলে ঢাকা সদরঘাট নৌ থানার একটি দল ও টহলরত নৌ পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।
পরে লঞ্চে থাকা আনসার সদস্য ও স্টাফদের সহযোগিতায় ফারুককে নৌ পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
এসময় তার পাশে থাকা দুই যাত্রী– ভোলা সদর উপজেলার নাসিম হাজারী (৬০) ও বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সাহাবুদ্দিনকে (২৮) তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় লঞ্চ ছাড়ার নির্ধারিত সময় হয়ে যাওয়ায় অন্য যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে এমভি ইয়াদ লঞ্চটি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
পরে বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা কর্মকর্তা, লঞ্চ মালিক ও সংশ্লিষ্ট স্টাফদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অসুস্থ দুই যাত্রীকে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটে নামিয়ে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। একইসঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়।
যথাযথ চিকিৎসা শেষে তারা দুজনই সুস্থ হয়ে ওঠেন।
প্রাথমিক তদন্তে নৌ পুলিশ জানতে পারে, ফারুক তার সহযোগীদের সহায়তায় দুই যাত্রীকে চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় খাবার কিংবা দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে তাদের মূল্যবান মালামাল ও টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশের অপরাধ তথ্যভাণ্ডার (সিডিএমএস) পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ফারুকের বিরুদ্ধে এর আগে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় পেনাল কোডের ৩২৮, ৩০৭, ৩৭৯, ৪১১ ও ৩৪ ধারায় একটি নিয়মিত মামলা এবং শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্য রয়েছে।
এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় পেনাল কোডের ৩২৮, ৩৭৯, ৫১১ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নৌ পুলিশ জানিয়েছে, অজ্ঞান পার্টির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে ঢাকা অঞ্চলে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



















